বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কে এম নূরুল হুদা বলেন, ‘অনুষ্ঠিত নির্বাচনে যেসব সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, প্রায় সবগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এসবের অধিকাংশই বংশানুক্রমিক অথবা আধিপত্য অথবা এলাকাভিত্তিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে। বিশেষ করে মেম্বার পদ প্রার্থীদের মধ্যে এমন ঘটেছে। এসব ঘটনার আগাম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে জোর দিয়েছি। আগামী নির্বাচনে সহিংসতা রোধ করার জন্য আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করব। তবে একটাও মারামারি হবে না, একটাও সহিংসতা হবে না, এমন নিশ্চয়তা আমরা কেউ দিতে পারি না।’

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বরাত দিয়ে সিইসি বলেন, কতগুলো ঘটনা ঘটেছে রাতে। রাতের অন্ধকারে। রাত সাড়ে তিনটা থেকে চারটায়। এসব জায়গায় তাঁরা হঠাৎ করে গিয়ে ঘটনার আগে তো কিছু করতে পারবেন না। যেগুলো ঘটেছে, সেগুলোর জন্য তাঁরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন, মামলা হয়েছে, ইতিমধ্যে অনেককেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়নি, তাঁদের গ্রেপ্তারের তৎপরতা চালানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘এলাকার মাস্তান বা দোষী লোক, যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে, তাদের আগাম গ্রেপ্তার করার জন্য আমরা নির্দেশনা দিয়েছি। তারা (আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী) তাদের গ্রেপ্তার করবে।’

নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করে সাংসদদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের তদন্ত চলছে জানিয়ে সিইসি বলেন, এমপি-মন্ত্রীদের অধিকাংশই আচরণবিধি অনুসরণ করেন। দু–চারজন মানছেন না বলে অভিযোগ এসেছে। তাঁদের চিঠিও দেওয়া হয়েছে এলাকা ছাড়ার জন্য। প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে। আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে অতীতে মামলা করা হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, আগামীতেও প্রয়োজনে মামলা করা হবে।

এর আগে সকালে সভার শুরুতে দেওয়া সূচনা বক্তব্যে সিইসি বলেন, ‘প্রাথমিক পর্যায়ে যে নির্বাচনগুলো হয়েছে, তাতে নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক ও অংশগ্রহণমূলক হয়েছে এবং যার কারণে ৭৪ শতাংশ লোক তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। সামগ্রিক অর্থে নির্বাচন সফল হয়েছে। অল্প কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা, দুর্ঘটনা ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। যেগুলো কিছুতেই কাম্য নয়। তবুও নির্বাচনের মানদণ্ড যদি ভোট প্রদান হয়, তাহলে আমি বলব, গত নির্বাচনগুলোতে গড়ে ৭৪ শতাংশ ভোট পড়েছে।’ তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার পর্যায়ের নির্বাচনগুলোতে উত্তেজনা ও উত্তাপ থাকে। সেই উত্তেজনা ও উত্তাপ কখনো কখনো সহিংসতায় পরিণত হয়, যা কখনোই কাম্য নয়।
চলতি বছরের মার্চে ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলেও করোনা সংক্রমণের কারণে প্রথম দফায় গত ২১ জুন ও ২০ সেপ্টেম্বর এবং ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় ভোট হয়। ২৮ নভেম্বর তৃতীয় ধাপের ও ২৬ ডিসেম্বর চতুর্থ ধাপের ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ রয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন