বিজ্ঞাপন

১৯৮৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে দেখা হওয়াটা আমাদের জীবনের একটি বিশেষ ঘটনা। তাঁর সিনেমা, তাঁর নিজের লেখা, তাঁকে নিয়ে অন্যের লেখা যত বই, তাঁর আঁকা বইয়ের প্রচ্ছদ আমরা সাগ্রহে দেখি ও পড়ি। সত্যজিৎ রায়-সম্পর্কিত অনেক বিষয়ের মধ্যে দুটি বিষয় আলাদাভাবে আমার মনোযোগ আকর্ষণ করে আছে বহুদিন ধরেই। এ লেখায় সে বিষয় দুটি আমি পাঠকের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই।


১. একটি আগ্রহ-উদ্দীপক বিষয় হলো বিখ্যাত সেতারবাদক পণ্ডিত রবিশঙ্করের সঙ্গে সত্যজিতের বন্ধুত্বের সম্পর্কটি কেমন ছিল? প্রথম ছয়টি সিনেমার মধ্যে চারটির সংগীত পরিচালক ছিলেন রবিশঙ্কর। দারুণ সফল হয়েছিল প্রতিটি সিনেমা। অন্য দুটি ছবির সংগীত পরিচালনা করেছেন ওস্তাদ বিলায়েত হোসেন খাঁ এবং ওস্তাদ আলী আকবর খাঁ। সত্যজিৎ রায় পরে কেন অন্য কাউকে সংগীত পরিচালনার দায়িত্ব দিলেন না? কেন তিন কন্যা থেকে সব কটি সিনেমার আবহসংগীত তিনি নিজে করলেন?


২. আর একটি বিষয় হলো সত্যজিৎ রায় তাঁর দুটি সিনেমা ‘চারুলতা’ ও ‘ঘরে বাইরে’র নায়ক সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্য জনপ্রিয় গায়ক কিশোর কুমারকে দিয়ে দুটি রবীন্দ্রসংগীত গাইয়েছিলেন। সে সময় দেবব্রত বিশ্বাস, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়সহ বড় বড় রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী থাকলেও সত্যজিৎ কেন কিশোর কুমারকে দিয়েই রবীন্দ্রসংগীত গাওয়ালেন, বিষয়টি আমাদের জন্য সব সময়ই কৌতূহলোদ্দীপক।

অবশ্য দুটি কৌতূহল নিবৃত্তিরই কিছু রসদ আমরা পেয়ে যাই নানাজনের লেখালেখি আর সাক্ষাৎকারের সূত্রে। সেসব কথাও উল্লেখ করেছি এ লেখার দুই ও তিন নম্বর পর্বে।

default-image

দুই

সেই ষাটের দশক থেকে সত্যজিৎ রায়ের সিনেমা ও লেখালেখি সম্পর্কে আমরা জানি। সত্যজিৎ রায়ের দাদু উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী মেধাবী ছাত্র ছিলেন। পড়াশোনার বাইরে বাঁশি, বেহালা ও সংগীতের প্রতি ছিল তাঁর প্রবল অনুরাগ। ২১ বছর বয়সে ছবি আঁকা শিখতে শুরু করেন। ছোটদের জন্য লিখতে শুরু করেন ছাত্র বয়সেই।

অলংকরণ করেছেন। ১৮৮৫ সালে নিজের খরচে বিদেশ থেকে তখনকার আধুনিকতম মুদ্রণ যন্ত্রাংশ আমদানি করে ৭ নম্বর শিবনারায়ণ দাস লেনে বাড়ি ভাড়া করে ‘ইউ রায় অ্যান্ড সন্স’ নামে ছাপাখানা খুলে ফেলেন। সেখানকার একটি কক্ষে নিজের আঁকার স্টুডিও করেন। অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন হাফটোন ব্লক প্রিন্টিং নিয়ে। একে এগিয়ে নিতে তাঁর ছেলে সুকুমার রায় ১৯১১ সালে বিলাতে যান। সেখানে ফটোগ্রাফি ও মুদ্রণ বিষয়ে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন বাংলা ভাষায় ‘ননসেন্স রাইম’-এর প্রবর্তক সুকুমার রায়। আসলে সত্যজিৎ রায়ের রক্তেই বোনা ছিল প্রতিভার বীজ।

যখন আমরা কলেজের ছাত্র, তারও আগে থেকেই আমরা সত্যজিতের ‘পথের পাঁচালী’র সাফল্য বা জয়জয়কার শুনেছি। কিন্তু ‘পথের পাঁচালী’ ১৯৫৫ সালে হলে দেখানো হলেও সে সময় দেখা হয়নি। তখন আমি মাত্র পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ি। ১৯৬৫ সালের দুই দেশের যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে কলকাতা ও মুম্বাইয়ের সব ভালো সিনেমা আমরা ঢাকার সিনেমা হলগুলোতে আর দেখতে পেতাম না। ভাবতে অবাক লাগে যে পরবর্তী সময়ে বিশ্বের সেরা ১০টি সিনেমার মধ্যে একটি ‘পথের পাঁচালী’, অথচ টাকার অভাবে সেই সিনেমাটির কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সে সময় সত্যজিতের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার বিধান চন্দ্র রায়। তাঁর সহযোগিতায় সিনেমাটির কাজ শেষ হয়েছিল।

এখন সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে তোলা ছবিগুলো খুঁজতে গিয়ে একটিমাত্র ছবি পেলাম। সত্যজিৎ রায়ের পেছনে আমি আর মালেকা। দেখলাম, এক শিশুর কাঁচা হাতের তোলা সেই ছবিটিতে আমার মাথার অর্ধেকটা কাটা গেছে। তবু সে ছবিতে সত্যজিৎ রায় আছেন, এটিই আমাদের জীবনের এক অবিস্মরণীয় ঘটনা।

মনে আছে, ১৯৬৫ সালের মার্চে ঢাকায় ১১ দিনের একটা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব হয়েছিল। সে উৎসবে বেশ কিছু বিদেশি ভালো ছবি প্রদর্শিত হয়েছিল। দেখানো হয়েছিল সত্যজিতের ‘মহানগর’ সিনেমাটি। এই ছবিটি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। সৃষ্টি হয়েছিল এক বিশৃঙ্খল অবস্থা। টিকিটের জন্য মারামারি পর্যন্ত হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে শুধু ‘মহানগর’ সিনেমাটা বলাকা সিনেমা হলে ২৪ ঘণ্টা ধরে চলবে। সেটাই হয়েছিল। গভীর রাতে ঢাকার হলে সেই আমাদের সত্যজিৎ রায়ের সিনেমা দেখা। ওই চলচ্চিত্র উৎসবেই আমরা রুশ সিনেমা ‘হ্যামলেট’ এবং ফরাসি সিনেমা ‘হিরোশিমা মন আমুর’ দেখে অবাক হয়েছিলাম।

এর আগে ষাটের দশকের প্রথম ভাগে জিন্নাহ অ্যাভিনিউর (এখনকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ) একটি ভবনের দোতলা ও তিনতলায় ভারতীয় দূতাবাসের বড় লাইব্রেরি ও একটি হলঘর ছিল। বেলা দুইটায় এর দরজা খোলা হতো। বহুদিন ধরে ঠিক বেলা দুইটায় আমি সেই লাইব্রেরিতে বই পড়তে যেতাম। খুব সুন্দর পরিবেশ। সেখানেই শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অধিকাংশ বই পড়েছিলাম। এখনো মনে পড়ে, বই পড়তে গিয়ে ঢাকার এক গুণীজন খালেদ চৌধুরীকে দেখতে পেতাম—কাঁধে থলে, পান চিবাচ্ছেন—দরজা খোলার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে।

ভারতীয় দূতাবাসের ওই লাইব্রেরিতে প্রায়ই সিনেমার প্রদর্শনী হতো। একদিন সেই হলে এক সন্ধ্যাবেলা—সেটা তেষট্টি কি চৌষট্টি সাল হবে—আমরা ‘পথের পাঁচালী’ সিনেমাটা দেখার সুযোগ পাই। খুব ভিড় ছিল। দর্শকদের ঠাসাঠাসির মধ্যেও আমরা দেখতে পেরেছিলাম অবিস্মরণীয় সেই সিনেমা।

‘পথের পাঁচালী’র শুরু থেকেই সত্যজিৎ রায়ের আগ্রহ ছিল পণ্ডিত রবিশঙ্করকে দিয়েই আবহসংগীতের কাজটা করাবেন। রবিশঙ্কর তখন কলকাতায় ছিলেন। শিল্পী জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষের বাড়িতে গিয়ে সত্যজিৎ রায় তাঁকে অনুরোধ করলেন ‘পথের পাঁচালী’র আবহসংগীত করে দেওয়ার জন্য। রবিশঙ্করও সম্মতি দিলেন বন্ধুর আহ্বানে। ভবানী সিনেমা হলে তাঁকে ‘পথের পাঁচালী’র সাইলেন্ট রাশপ্রিন্ট দেখানো হলো। দেখে খুব উৎসাহিত হলেন তিনি। এর পরপরই একদিন ভবানী সিনেমা হল ভাড়া নিয়ে পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে পুরো সিনেমার আবহসংগীত তৈরি করলেন রবিশঙ্কর।

সত্যজিৎ একসময় বেটোফেন শুনতেন। বেটোফেনের বাদনের গভীর অনুরাগী ছিলেন তিনি। অনেক মিউজিশিয়ানের ব্যাপারেই আগ্রহ ছিল। তবে পরে মোৎসার্ট তাঁর প্রিয় হয়ে উঠেছিল। সব সময় পাশ্চাত্য সংগীতের ভক্ত ছিলেন। ভারতীয় রাগ সংগীতের প্রতিও আগ্রহ ছিল প্রবল। এসব কারণেই হয়তো সত্যজিতের সিনেমার আবহসংগীত রচনার জন্য প্রথম পছন্দ ছিলেন পণ্ডিত রবিশঙ্কর।

default-image

প্রথম ছয়টি সিনেমার চারটি—‘পথের পাঁচালী’, ‘অপরাজিত’, ‘পরশপাথর’ ও ‘অপুর সংসার’-এর সংগীত পরিচালনা করেছেন রবিশঙ্কর। ‘জলসাঘর’ আর ‘দেবী’র সংগীত পরিচালক ছিলেন যথাক্রমে ওস্তাদ বিলায়েত হোসেন খাঁ এবং ওস্তাদ আলী আকবর খাঁ। তাঁরা সত্যজিতের বিশেষ বন্ধু ছিলেন। সত্যজিৎ রায় দেখলেন যে তাঁরা প্রত্যেকেই একটা বিশেষ যন্ত্রসংগীতের শিল্পী। সংগীত পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁদের সঙ্গে চিন্তার সমন্বয়ের কিছুটা অভাব দেখা দেয়। অন্য কিছু সমস্যাও তৈরি হয়। ফলে ভেবেচিন্তে ‘চারুলতা’ থেকে সত্যজিৎ নিজেই তাঁর সিনেমার সংগীত পরিচালনার কাজ শুরু করলেন।

অনেকে অনেক কথা বললেও কোনো লেখা বা সাক্ষাৎকারে রবিশঙ্কর এ নিয়ে বিন্দুমাত্র প্রতিক্রিয়া দেখাননি বা নেতিবাচক কোনো কথা বলেননি। বরং তিনি বলেছেন, সত্যজিৎ রায় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তাঁর বন্ধু ছিলেন। রবিশঙ্কর এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘নিজের শিশুকে অন্যে যত যত্ন নিয়েই পরিচর্যা করুক, পুরোপুরি সন্তুষ্ট হওয়া কোনো মায়ের পক্ষেই সম্ভব নয়। যদি সামর্থ্য ও অবকাশ থাকে, মা নিজের সন্তানের দায়িত্ব নিজেই নিতে চান। যেমন সত্যজিৎ রায় করেছেন পরের সব ছবিতে।’ রবিশঙ্কর মেনে নিয়েছেন যে ছবির পরিচালকের চিন্তাভাবনার বিষয়টিই এখানে প্রধান। তিনি সব সময় সত্যজিতের সঙ্গে থেকেছেন, তাঁর কাজের প্রশংসা করেছেন।

সত্যজিৎ ও রবিশঙ্করের যে বন্ধুত্ব, পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস, তা কখনো নষ্ট হয়নি। রবিশঙ্কর যখন বিশ্বখ্যাত, অসম্ভব ব্যস্ত, তখনো তিনি কলকাতা এলেই সত্যজিতের সঙ্গে সময় কাটাতেন। এমনকি সত্যজিৎ যখন অসুস্থ, দেখা গেল কলকাতায় নেমে সোজা বিমানবন্দর থেকে সত্যজিতের বাসায় গিয়ে প্রাতরাশ সেরে গল্পগুজব করে ফিরে এলেন রবিশঙ্কর।

সত্যজিৎ রায় মারা যান ১৯৯২ সালে। বন্ধুবিয়োগে ব্যথিত হয়েছিলেন রবিশঙ্কর। সত্যজিৎ রায়কে স্মরণ করে দ্রুত একটি অ্যালবাম তৈরি করলেন তিনি, ফেয়ারওয়েল, মাই ফ্রেন্ড। অ্যালবামটি অবমুক্ত করা হয়েছিল কলকাতার গ্র্যান্ড হোটেলে। খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল সে অ্যালবাম।

default-image

রবিশঙ্কর নিজেকে সব সময় সত্যজিতের ‘গ্রেট অ্যাডমায়ারার’ হিসেবে দাবি করেছেন। ‘পথের পাঁচালী’ প্রসঙ্গে তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, সিনেমাটা দেখে গভীরভাবে তাঁর ভেতরে শৈশব, শৈশবের সেই গ্রাম, সেই জীবন, সেই বাঁশি—সবকিছু জেগে উঠেছিল। ‘পথের পাঁচালী’র রাশ দেখেই তিনি নিশ্চিত হয়েছিলেন যে এটা একটা অসাধারণ সিনেমা হবে। সে কারণেই তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে এটার সঙ্গে যুক্ত হন। সত্যজিতের সৃজনশীলতার অনুরাগী বান্ধব রবিশঙ্কর বলেছেন, কাজ করার সময় সত্যজিৎ কখনো তাঁর চিন্তাকে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেননি।

সত্যজিৎ রায় পরিকল্পনা করেছিলেন যে রবিশঙ্করকে নিয়ে ‘আ সিতার রিসাইটাল বাই রবিশঙ্কর’ নামে একটি প্রামাণ্য চিত্র বানাবেন। তাঁর ভাবনার পুরোটা তিনি এঁকেও ফেলেছিলেন। শেষ পর্যন্ত ছবিটি কেন যে হয়নি, সেটা আর জানা গেল না। ১৯৬১ সালের কোন সময়ে এটা করেছিলেন, সেটা নিয়েও নিশ্চিত কেউ কিছু বলতে পারেননি। তবে শিল্পী পরিতোষ সেন বলেছেন, উদয়শঙ্করের ব্যালে সিনেমা কল্পনা দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে এ কাজ শুরু করেছিলেন সত্যজিৎ। সন্দীপ রায়ের সম্পাদনায় ২০১৪ সালে পুরো আঁকা স্ক্রিপ্টসহ আরও কিছু লেখা নিয়ে বই হিসেবে এটি বের হয়েছিল।

তিন
আমাদের স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে—যখন ঢাকায় সারা বিশ্বের সিনেমা দেখা যেত—আমরা ঢাকার বিভিন্ন সিনেমা হলে, বিশেষ করে নাজ ও গুলিস্তান হলে বিশ্বখ্যাত সিনেমা দেখতাম। সত্যজিৎ রায়কেও আমরা নিজেদের মনে করতাম। তাঁর অনেকগুলো সিনেমাতেই নিজের লেখা ও সুর করা গান আছে। এই গানগুলো যে খুব বড় বড় তারকা গায়ক গেয়েছেন, তা-ও নয়। খুব বড় একটি বিষয় হলো, নিজের সিনেমাগুলোর মধ্যে মাত্র দুটিতে তিনি পুরুষ কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীত ব্যবহার করেছেন—একটি ১৯৬৪ সালে ‘চারুলতা’ ছবিতে অমলরূপী সৌমিত্রের ঠোঁটে ‘আমি চিনি গো চিনি তোমারে’ এবং অন্যটি ২০ বছর পর ১৯৮৪ সালে ‘ঘরে বাইরে’ ছবিতে সৌমিত্রেরই ঠোঁটে ‘বিধির বাঁধন কাটবে তুমি এমনই শক্তিমান’। শুরুতেই উল্লেখ করেছি, দুটি গানই সত্যজিৎ রায় গাইয়েছিলেন সে সময়ের জনপ্রিয় আধুনিক হিন্দি ও বাংলা গানের শিল্পী কিশোর কুমারকে দিয়ে। দুটি সিনেমার দুটি বিশেষ চরিত্র। সেখানে পরিবেশ-প্রতিবেশ মিলে গানের যে মেজাজ ছিল, সেটা শুধু কিশোর কুমারের কণ্ঠেই সম্ভব ছিল বলে মনে করেছিলেন সত্যজিৎ রায়।

এই দুটি গান করার জন্য দুবারই সত্যজিৎ রায় কিশোর কুমারকে কলকাতায় আসতে অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু কিশোর কুমার দুবারই ব্যস্ততার জন্য কলকাতায় আসতে পারেননি। সত্যজিৎকে অনুরোধ করেছিলেন মুম্বাই যেতে। সত্যজিৎ নিজে মুম্বাই গিয়ে কিশোর কুমারকে গান শিখিয়ে রেকর্ড করিয়েছেন। গান দুটি নিয়ে সত্যজিৎ রায়ের স্ত্রী বিজয়া রায় স্মৃতিচারণা করেছেন, কিশোরের গলা সত্যজিৎ রায় বড় পছন্দ করতেন। সে জন্যই ‘আমি চিনি গো চিনি তোমারে’ গানটা তাঁকে দিয়েই গাওয়াবেন ঠিক করেছিলেন। কিন্তু কিশোর তখন ব্যস্ততম প্লেব্যাক গায়ক। প্রতিদিন গানের রেকর্ডিং থাকে। শেষ পর্যন্ত সত্যজিৎ নিজে গেলেন মুম্বাইয়ে।

‘ঘরে বাইরে’ সিনেমার সময়ও সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলো। এক দিনের জন্য মুম্বাইয়ে গিয়ে সত্যজিৎ রায় রেকর্ড করিয়ে আনলেন ‘বিধির বাঁধন কাটবে তুমি’। এ প্রসঙ্গে বিজয়া রায় বলেছেন, ‘যেমন শিক্ষক, তেমন ছাত্র। এক দিনের মধ্যে সব কাজ হয়ে গিয়েছিল। কিশোর এত আশ্চর্য ভালো গাইয়ে! কিন্তু মানিকের (সত্যজিৎ রায়) ছবিতে গাইতে কোনো দিন এক পয়সাও নেয়নি।’

কিশোর কুমার মারা যান ১৯৮৭ সালের ১৩ অক্টোবর। তাঁর মৃত্যুর সংবাদ শুনে শোকে-দুঃখে স্তব্ধ হয়ে যান তাঁরা। বিজয়ার ভাষায়, ‘বিশ্বাস হলো না, এক গোল্ডেন ভয়েস চিরদিনের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল। বয়স হয়েছিল মাত্র ৫৮ বছর।’ সত্যজিৎ রায়ের ছেলে চিত্রপরিচালক সন্দীপ রায় কিশোর কুমারের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র করেছিলেন।

কিশোর কুমার আমাদেরও খুব প্রিয় একজন শিল্পী। আশির দশক থেকে রবীন্দ্রসংগীতেও তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল। ১৯৮১ সালে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের নির্দেশনায় ১২টি রবীন্দ্রসংগীত নিয়ে একটি রেকর্ড অ্যালবাম বের করেছিলেন কিশোর কুমার—‘এই কথাটি মনে রেখো’। কিশোর কুমারের কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীত সঠিক ও সংগত কি না, এর বিশুদ্ধ রূপ বজায় আছে কি না, এ নিয়ে বিশ্বভারতীর মিউজিক বোর্ডে কথা উঠেছিল। এই বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুচিত্রা মিত্র। এ নিয়ে যে জল ঘোলা হয়েছিল, তা পরিষ্কার করতে তাঁদের মতামত খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায় এক স্মৃতিচারণায় বলেছিলেন, ‘কী সুন্দর গেয়েছিলেন গানগুলো। আসলে সুর-তাল-লয়—সব মিলিয়ে নোটেশন ব্যাপারটা হলো একটা পরিকাঠামোর মতো। মূল বিষয় হলো গায়কি। ওঁর গায়কি ছিল অসাধারণ, কণ্ঠ উদাত্ত।’ সেই ১৯৮১ সালে কিশোর কুমারকে লেখা একটি চিঠিতে কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য ছিল এ রকম, ‘এ ধরনের গান শোনার জন্য বোধ হয় বহুদিন বেঁচে থাকা যায়।’

default-image

চার
পশ্চিম বাংলার সর্বস্তরের মানুষ নানাভাবে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে যেসব বিশিষ্টজন সক্রিয় ছিলেন, সত্যজিৎ রায় তাঁদের অন্যতম। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একুশে ফেব্রুয়ারির পল্টন ময়দানের অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে সত্যজিৎ রায় এসেছিলেন এবং বক্তৃতা করেছিলেন। সে বক্তৃতায় পূর্ববঙ্গের সঙ্গে তাঁর যুক্ততা ও নগর ঢাকার কথা বলেছেন। সেদিনের সেই বক্তৃতা সন্দীপ রায় সম্পাদিত সত্যজিৎ রায়ের প্রবন্ধ সংগ্রহ-তে গ্রন্থিত আছে।

যেমন শিক্ষক, তেমন ছাত্র। এক দিনের মধ্যে সব কাজ হয়ে গিয়েছিল। কিশোর এত আশ্চর্য ভালো গাইয়ে! কিন্তু মানিকের (সত্যজিৎ রায়) ছবিতে গাইতে কোনো দিন এক পয়সাও নেয়নি।
বিজয়া রায়

স্বাধীনতার পর বিভিন্ন কাজে একাধিকবার কলকাতা গেলেও সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করিনি বা ভাবিওনি। ১৯৮৬ সালে স্ত্রী মালেকা, ছেলে সাশা ও আমি—তিনজন মিলে পরিকল্পনা করে কলকাতা ও দিল্লি ঘুরতে গিয়েছিলাম। শুরুতে বেশ কয়েক দিন ছিলাম কলকাতায়। সেখানে নানা দর্শনীয় স্থান দেখতে গেলাম, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গেও দেখা করলাম। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়, শিল্পী পরিতোষ সেন, লেখক ও সংগঠক চিন্মোহন স্নেহানবিশ, আমাদের প্রিয়জন ইলা মিত্র, রমেন মিত্র প্রমুখ। সেবারই কলকাতায় টিকিট কেটে সামনাসামনি রবিশঙ্করের একক অনবদ্য সেতারবাদনের এক অনুষ্ঠান দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল আমাদের।
অনুষ্ঠান শেষে আমার উৎসাহে ছেলে সাশা দৌড়ে মঞ্চে উঠে গিয়ে ‘কাকা, কাকা’ বলে অটোগ্রাফের আবদার করেছিল। কয়েকবার বলার পর রবিশঙ্কর বলেছিলেন, পরে দেব, পরে দেব।

শেষ পর্যন্ত সেই অটোগ্রাফ আমি সংগ্রহ করতে পেরেছিলাম ২০১২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি। রবিশঙ্করকে ঢাকায় আনার জন্য আলোচনা করতে সেবার দিল্লিতে তাঁর বাসভবনে গিয়েছিলাম। সেদিন রবিশঙ্কর ও তাঁর স্ত্রী সুকন্যা শঙ্করের সঙ্গে বেশ কিছুটা অন্তরঙ্গ সময় কাটানো এবং নানা বিষয়ে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। ঢাকা আর বাংলাদেশের পুরোনো বন্ধুদের কথা তিনি জানতে চেয়েছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন নজরুলসংগীতশিল্পী ফিরোজা বেগম ও তাঁর স্বামী কমল দাশগুপ্তের কথা।

সেদিন অটোগ্রাফ চাইতেই তিনি নামের বানান জেনে নিয়ে বড় বড় অক্ষরে শুভেচ্ছা জানিয়ে স্বাক্ষর করলেন আমার অটোগ্রাফ খাতায়। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ১ আগস্ট নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে জর্জ হ্যারিসনের সঙ্গে মিলে যে ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানটি করেছিলেন, সে জন্য তিনি সব সময় আমাদের আপনজন হয়ে থাকবেন। আর তিনি তো এই বাংলারই লোক। তাঁর বাবার জন্ম বাংলাদেশের নড়াইলের নবগঙ্গা নদীর তীরে কালিয়া গ্রামে। সেদিন রবিশঙ্কর স্মরণ করলেন, দাদা উদয়শঙ্করের সঙ্গে নদীপথে ঢাকা ও চট্টগ্রামে অনুষ্ঠান করতে যাওয়ার সময় যশোরের কালিয়া নেমে মাথায় মাটি ছুঁয়ে নিয়েছিলেন।

default-image

পাঁচ
সেই ১৯৮৬ সালে কলকাতায় অনেকের সঙ্গে দেখা হলেও আমার মধ্যে একটা বিশেষ আগ্রহ জেগেছিল সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে দেখা করার। কিন্তু এই সুযোগটা তৈরি করে দেবেন, এমন কাউকে পাচ্ছিলাম না।

সেবার আমরা কলকাতার গড়িয়াহাটের একটা হোটেলে ছিলাম। একদিন সকালে ঠিক করলাম যে আজকেই যাব, সরাসরি গিয়ে চেষ্টা করব। যাওয়ার আগে ভাবলাম, পরিচয় নেই, নির্দিষ্ট সাক্ষাতের সময় ঠিক করা নেই—দেখা করতে যাওয়া ঠিক হবে কি না। তবু সাহস করে রওনা দিলাম। একটা ছোট কাগজে লিখে নিলাম আমার পরিচয়। তখন তো ভিজিটিং কার্ড ছিল না আমার। কাগজে লিখলাম, ‘আমি মতিউর রহমান, ঢাকা থেকে এসেছি। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মুখপাত্র সাপ্তাহিক ‘একতা’ পত্রিকার সম্পাদক এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য।’ সেটা পকেটে নিয়ে গড়িয়াহাট থেকে রওনা দিলাম। ট্যাক্সি নেব। ট্যাক্সিওয়ালা জিজ্ঞেস করল, কোথায় যাবেন, বাবু?
বললাম, আমরা যাব বিশপ লেফ্রয় রোড।
বলল, ঠিকানা কী?
আমি বললাম, ১/১ বিশপ লেফ্রয় রোড।
শুনে ড্রাইভার বলল, ও, সত্যজিৎবাবুর বাড়িতে যাবেন? আমি চিনি তো। নিয়ে যাচ্ছি, চলুন।
তারপর সোজা আমাদের নিয়ে গেলেন সত্যজিৎ রায়ের বাসায়।

বাসার সামনে লিফট ছিল। লিফটে করে উঠলাম তিনতলায়। দরজায় দাঁড়িয়ে বেল টিপতেই ভেতর থেকে একজন হিন্দুস্তানি কর্মী বেরিয়ে এসে জিজ্ঞেস করল, কিসকা পাস আয়া হ্যায়?
আমি বললাম, সত্যজিৎ রায়কা পাস আয়া হ্যায়।
সে বলল, অ্যাপয়েন্টমেন্ট হ্যায়?

বললাম, মেরা অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেহি হ্যায়। আপ ইয়ে কাগাজ দে দিজিয়ে।
কাগজটা দিলাম। দেওয়ার মিনিটখানেকের মধ্যেই মূল দরজা খুলে গেল। দরজা খুলেছেন সত্যজিৎ রায় স্বয়ং। দীর্ঘকায় একজন মানুষ, সাদা পাঞ্জাবি-পাজামা পরা, প্রথম দর্শনেই আমরা বিস্ময়াভিভূত। পরে জানতে পেরেছি যে বাড়িতে আমন্ত্রিত অতিথি গেলে নাকি সত্যজিৎ রায় নিজেই দরজা খুলে দেন।

আমাদের ভেতরে নিয়ে গেলেন, বসতে বললেন। তিনি তাঁর নির্দিষ্ট আসনে বসলেন। আমরা বসলাম উল্টো দিকের সোফা বা চেয়ারে। বড় বসার ঘরের চারদিকে বই, আঁকার নানা সরঞ্জাম। মালেকা আর আমার কার্যক্রম সম্পর্কে সামান্য বললাম। সাশাকেও পরিচয় করিয়ে দিলাম।

প্রায় ৩৪ বছর পার হয়ে গেছে, সব কথা স্পষ্ট মনে নেই। আমরা যখন বললাম যে ঢাকা থেকে এসেছি, সত্যজিৎ রায় জিজ্ঞেস করলেন, ঢাকার কোথায় থাকেন?
বললাম, আমরা ওয়ারীর লারমিনি স্ট্রিটে থাকি।

তিনি হেসে বললেন, ‘আমিও একসময় কয়েকটি দিন ওয়ারীর র‌্যাঙ্কিন স্ট্রিটে আমার মামাবাড়ি ছিলাম।’

১৯৭২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে সত্যজিৎ রায় পল্টন ময়দানের বক্তৃতায় উল্লেখ করেছিলেন র‌্যাঙ্কিন স্ট্রিটে থাকার বিষয়টা। বলেছিলেন, ‘যখন আমার পাঁচ কি ছয় বছর বয়স, তখন আমি একবার ঢাকা শহরে এসেছিলাম। দু-তিন দিন মাত্র ছিলাম। আমার মামার বাড়ি ছিল ওয়ারীতে, র‌্যাঙ্কিন স্ট্রিটে। সে বাড়ি এখন আছে কি না, জানি না। সে রাস্তা এখন আছে কি না, জানি না। বাড়ির কথা কিছু মনে নেই। মনে আছে শুধু যে প্রচণ্ড বাঁদরের উপদ্রব। বাঁদর এখনো আছে কি না, তা-ও আমি জানি না।’

আগেই বলেছি যে কিশোরগঞ্জ তাঁর পূর্বপুরুষের বাসভূমি। সে অর্থে তিনি এ বাংলারই মানুষ। কলকাতার বাড়িতে বসে তিনি সে কথাটা মনে করিয়ে দিলেন। দেশের কথা, সংস্কৃতি বা সিনেমায় আমাদের অগ্রগতির কথা জানতে চাইলেন। বিশিষ্ট সব শিল্পী-কবির কথা জিজ্ঞেস করলেন। বললেন, শামসুর রাহমান, শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী প্রমুখের কাজের কথা তিনি জানেন।

কাইয়ুম চৌধুরী তো সারা জীবন সত্যজিৎ রায়ের অনুরাগী ছিলেন। সত্যজিৎ শিল্পকলার ক্ষেত্রে যত ধরনের কাজ করেছেন—ছবি আঁকা, গ্রাফিকস, টাইপোগ্রাফি, প্রচ্ছদ আঁকাসহ সব কটি জায়গাতেই কাইয়ুম চৌধুরীর আগ্রহ ছিল। তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার চেষ্টা করেছেন তিনি।

সত্যজিৎ রায়ের পড়ার টেবিলের পাশেই একটা বই ছিল, মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের যথাশব্দ। বইটি কলকাতা বিদ্বৎসমাজে খুব সমাদৃত হয়েছিল। আমাদের সামনেও সেদিন মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের বইটার খুব প্রশংসা করলেন। এর আগেও যাঁরা সত্যজিৎ রায়ের বাসায় গেছেন, তাঁদের কাছে এই বইটির খুব প্রশংসা করেছেন। পরে বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের সঙ্গে পরিচয় হলে তাঁকে বলেছিলাম এ কথা। শুনে তিনি বলেছিলেন, আগেও কেউ কেউ এ কথা বলেছেন তাঁকে।

default-image

সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে সেদিন নানা কথা হয়েছিল। বাংলাদেশের সিনেমা নিয়ে জানতে চেয়েছিলেন। উৎসাহজনক কিছু বলতে পারিনি আমরা। তবে খুব গভীর কোনো বিষয়ে আমরা আর যাইনি। আসলে আমাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল তাঁর সঙ্গে কিছু সময় কাটানো। কথাবার্তার একপর্যায়ে সত্যজিৎ রায়কে অনুরোধ করলাম, তাঁর সঙ্গে আমরা ছবি তুলতে পারি কি না। সানন্দে রাজি হলেন। খুব কম দামি একটা ক্যামেরা ছিল আমাদের। সেটা দিয়ে প্রথমে সাশা আমাদের দুজনের একটা ছবি তুলে দিল—সত্যজিৎ রায় সামনে, পেছনে মালেকা আর আমি। তারপর আমি তুলে দিলাম সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে মা-ছেলের ছবি।

ছবি তোলা পর্ব শেষ হলে সত্যজিৎ রায় বললেন, দেখুন, ছবি তোলা এখন কত সহজ হয়ে গেছে। একটা বাচ্চা ছেলে, সে-ও টপাটপ ছবি তুলে ফেলতে পারে! আগে কল্পনাও করা যেত না এমনটা।

এর মধ্যে কখনোই আমাদের মনে হয়নি যে সত্যজিৎ রায় চাইছিলেন আমরা চলে যাই বা সে রকম কিছু। তবু আমরা ভাবলাম, তাঁর মতো মানুষের সময় নষ্ট করা ঠিক নয়। ধন্যবাদ জানিয়ে বিদায় নিলাম। তিনিও আমাদের ধন্যবাদ জানালেন।

এক বিস্ময়কর অনুভূতি নিয়ে আমরা ফিরে এলাম সেদিন। স্বল্প সময়ের সাক্ষাতের সেই অভিজ্ঞতা, সেই স্মৃতি অম্লান হয়ে থাকবে চিরকাল।

এখন সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে তোলা ছবিগুলো খুঁজতে গিয়ে একটিমাত্র ছবি পেলাম। সত্যজিৎ রায়ের পেছনে আমি আর মালেকা। দেখলাম, এক শিশুর কাঁচা হাতের তোলা সেই ছবিটিতে আমার মাথার অর্ধেকটা কাটা গেছে। তবু সে ছবিতে সত্যজিৎ রায় আছেন, এটিই আমাদের জীবনের এক অবিস্মরণীয় ঘটনা।

মতিউর রহমান: সম্পাদক, প্রথম আলো

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন