বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পেশাজীবন: স্নাতক শেষ করার পরপরই প্রভাষক হিসেবে বুয়েটে যোগ দিয়েছিলেন জামিলুর রেজা চৌধুরী। যুক্তরাজ্য থেকে স্নাতকোত্তর শেষে আবার তিনি বুয়েটে ফিরে আসেন। ১৯৭৬ সালে অধ্যাপক হন। দীর্ঘদিন তিনি বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন। পরে এই বিভাগের ডিন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। একই সময়ে ১৯৮২ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত এই ১০ বছর তিনি বুয়েটের কম্পিউটার সেন্টারের (বর্তমানে ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি) পরিচালক ছিলেন। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ছিলেন। ২০১০ সাল থেকে মৃত্যুর আগপর্যন্ত ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালের ১৯ জুন বাংলাদেশ সরকার তঁাকে জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেয়। এ ছাড়া অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে আর্থকোয়েক সোসাইটি, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির মতো বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন।

গবেষণা ও প্রকাশনা: দেশি–বিদেশি বিভিন্ন জার্নালে ড. জামিলুর রেজা চৌধুরীর ৭০টির বেশি গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। পিএইচডি গবেষণার সময় তিনি বহুতল ভবনের ‘শিয়ার ওয়াল’ বিশ্লেষণের একটি সহজ পদ্ধতি বের করেছিলেন, যা পরে কোল অ্যান্ড চৌধুরীস মেথড হিসেবে পরিচিতি পায়। দেশ–বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগে এটি পাঠ্য। বহুতল ভবন, কম খরচে ভবন নির্মাণ, ভূমিকম্পরোধী ভবনের নকশা, ঘূর্ণিঝড়রোধী বাড়ি নির্মাণসহ নানা বিষয়ে তাঁর গবেষণা আছে।

স্বীকৃতি: বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট স্বর্ণপদক, আছে ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে পাওয়া সম্মানসূচক ডক্টর অব ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি। ২০১৭ সালে তিনি একুশে পদক পান। ২০১৮ সালে পান জাপান সরকারের সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক পদক—অর্ডার অব দ্য রাইজিং সান (গোল্ড রে ও নেক রিবন)।

উল্লেখযোগ্য কাজ: স্বাধীনতার পর এ দেশে যত বড় বড় ভৌত অবকাঠামো তৈরি হয়েছে, তার প্রায় প্রতিটির সঙ্গেই জামিলুর রেজা চৌধুরী কোনো না কোনোভাবে জড়িত ছিলেন। যুক্ত ছিলেন বঙ্গবন্ধু সেতু, পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, কর্ণফুলী টানেল, ঢাকা সাবওয়ে, ঢাকা–আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ বিভিন্ন বড় প্রকল্পের বিশেষজ্ঞ দলেও ছিলেন তিনি।

গ্রন্থনা: মো: সাইফুল্লাহ

সূত্র: বুয়েটের ওয়েবসাইট

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন