বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বাঙালির মুক্তির আন্দোলনকে চিরতরে স্তব্ধ করে দিতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে এ দেশের নিরস্ত্র মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার, আলবদর, আলশামস। ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামের সেই অভিযানে কালরাতের প্রথম প্রহরেই চালানো হয় গণহত্যা। এর মধ্যেই প্রতিরোধযুদ্ধে নামে বাঙালি। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সেই সংগ্রামের পথ ধরে আসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা।
লেমকিন ইনস্টিটিউট ফর জেনোসাইড প্রিভেনশন বিবৃতিতে বলেছে, সাধারণ মানুষকে হত্যা, ধর্ষণ, বাড়িঘরে অগ্নিকাণ্ডের পাশাপাশি পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসররা বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের প্রথম থেকেই নিশানা করে। তাঁদের অপহরণ, হত্যা করে গণকবর দেওয়া হয়। তাঁদের স্মৃতি রক্ষার্থে প্রতিবছর ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করা হয়। অন্যান্য উদীয়মান জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মতো বাঙালি বুদ্ধিজীবীরা নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংস্কৃতির প্রতিভূ ছিলেন। তাঁরাই পাকিস্তানের বর্ণবাদী স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখেন এবং বাঙালি স্বায়ত্তশাসনের অধিকারের দাবিগুলো সামনে তুলে আনেন। নিহত বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে সাংবাদিক, দার্শনিক, কবি, সংগীতশিল্পী, লেখক, অধ্যাপক, চলচ্চিত্র নির্মাতা, আইনজীবী, চিকিৎসক এবং বিভিন্ন বাঙালি জাতিসত্তার প্রতিনিধি রয়েছেন।

স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের বিচার পাওয়া এবং ওই সময় পাকিস্তানি বাহিনীর হয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার বাংলাদেশের প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়েছে লেমকিন ইনস্টিটিউট ফর জেনোসাইড প্রিভেনশন। বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, বিচার বিভাগীয় জবাবদিহি অবশ্যই যেকোনো অন্তর্বর্তীকালীন ন্যায়বিচার এবং প্রতিরোধমূলক প্রচেষ্টার ভিত্তি হওয়া উচিত ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এই বিচারের ক্ষেত্রে জাতীয় প্রক্রিয়াগুলোতে সমর্থন দেওয়া।

জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অতিসত্বর একাত্তরের হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানায় লেমকিন ইনস্টিটিউট। এতে ভুক্তভোগীদের প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানো এবং অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনার পথ সুগম হবে বলে মনে করে প্রতিষ্ঠানটি। এই বিচারপ্রচেষ্টায় বাংলাদেশকে সহায়তা ও সমর্থন দিতে এবং সত্যের অন্বেষণ ও বিচারের জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে থেকে পাকিস্তানকে চাপ প্রয়োগেরও আহ্বান জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন