default-image

গত ১৬ নভেম্বর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন নড়াইল পৌরসভার মেয়র জাহাঙ্গীর বিশ্বাস। তিনি চিকিৎসাধীন থাকার সময় ফুসফুস, লিভার ও কিডনি কাজ করছিল না। রক্তের প্লাটিলেট একদম কমে গিয়েছিল। ছয় দিন আগে গত বুধবার মারা যান ৫৩ বছর বয়সী জাহাঙ্গীর। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য বলছে, নভেম্বরে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা যায়নি।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকাতেই ১৭ জন। আর গত এক সপ্তাহে ১৪৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

চলতি বছরে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের সময় ডেঙ্গুর মূল মৌসুমে রোগীর সংখ্যা কম ছিল। তবে হঠাৎ করেই অক্টোবর থেকে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। এক মাসের ব্যবধানে বেড়েছে ৩৮৪ জন। ডেঙ্গুর মূল মৌসুম জুন থেকে সেপ্টেম্বর, এই চার মাসে ডেঙ্গু রোগী ছিল ১৫৮ জন। অক্টোবরে এই সংখ্যা বেড়ে হয় ১৬৩। আর শুধু নভেম্বরেই এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪৭। অর্থাৎ, এক মাসের ব্যবধানে দেশে ডেঙ্গু রোগী বেড়েছে তিন গুণের বেশি।

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ১৭৪ জনের। ডেঙ্গু সন্দেহে মারা গেছে ৭ জন। এসব মৃত্যুর তথ্য পর্যালোচনার জন্য আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে। আইইডিসিআর এখন পর্যন্ত চারটি মৃত্যুর তথ্য পর্যালোচনা করে তিনটি মৃত্যু ডেঙ্গুজনিত বলে নিশ্চিত করেছে।

নড়াইল পৌরসভার মেয়রের মৃত্যু স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে গতকাল দেওয়া ডেঙ্গুর সর্বশেষ চিত্রে মেলেনি। তবে অধিদপ্তরের পরিচালক (এমআইএস) হাবিবুর রহমান বলেন, এটা ভুল হয়ে থাকতে পারে। তবে তাঁর মৃত্যু ডেঙ্গুতেই হয়েছে।

ডেঙ্গুর মৌসুম শেষ হওয়ার পর কেন রোগী বাড়ছে, তার কারণ বোঝা কঠিন বলে মনে করেন ভাইরোলজিস্ট ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, সাধারণত বৃষ্টি হলে এডিস মশার উপদ্রব বাড়ে। কিন্তু নভেম্বরে তেমন বৃষ্টি হয়নি। কেন ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে, তা বোঝা যাচ্ছে না। ঢাকার যেসব এলাকায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হচ্ছে, তা বের করে মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি আরও বেগবান করার পরামর্শ দেন তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ২০১৯ সালে সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিল ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জন। গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৩০০ লোক মারা যায়। আর সরকারি হিসাবে, ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা ১৭৯।

default-image

চলতি বছরের শুরুতে উড়ন্ত মশা মারার ওষুধের সংকটে পড়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবু নাসের বলেন, প্রতিদিন দুই পালায় ৭৫টি ওয়ার্ডে লার্ভিসাইড ও অ্যাডাল্টিসাইড ওষুধ দেওয়া হয়।

মশক নিয়ন্ত্রণে কার্যক্রম চলমান বলে জানান ঢাকা উত্তর সিটির (ডিএনসিসি) উপপ্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা লে. কর্নেল গোলাম মোস্তফা সারওয়ার। তিনি বলেন, এই সময়ে এডিস মশা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হচ্ছে নির্মাণাধীন স্থাপনাগুলোতে জমে থাকা পানি। স্থাপনাগুলোতে যাতে পানি না জমে, তা খেয়াল রাখা হচ্ছে।

এদিকে কীটতত্ত্ববিদেরা বলছেন, ওষুধ দেওয়া হয় কেবল সড়কে ও নালায়। অথচ এডিস মশার জন্ম ও বিস্তার হয় মূলত বাসাবাড়ি ও এর আশপাশে।

মশার বিস্তার ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গবেষণা করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার। তিনি বলেন, এডিস মশা নির্মূলে টার্গেট নির্দিষ্ট করে ওষুধ দিতে হবে। এর জন্য পরিকল্পিত ও বৈজ্ঞানিকভাবে নগরবাসী ও বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করে মশকনিধন কার্যক্রম চালানো যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন