default-image

চেক ডিজঅনারকে (চেক প্রত্যাখ্যান) কেন্দ্র করে নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট (এনআই) অ্যাক্টের অধীনে করা মামলার বিচার হবে শুধু যুগ্ম দায়রা আদালতে। এই আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ পক্ষ দায়রা আদালতে আপিল করতে পারবেন বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রোববার ওই রায় দেন। পৃথক চারটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ইতিপূর্বে দেওয়া রুল খারিজ করে এই রায় দেওয়া হয়। ওই বিষয়ে দেশের প্রত্যেক জেলা ও দায়রা জজ আদালতকে অবহিত করতে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ও হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রারকে অবিলম্বে সার্কুলার জারি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রায়ে বলা হয়, জেলা ও দায়রা জজ ওই নির্দেশনা অবহিত হওয়ার পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত বা দায়রা জজ আদালতে থাকা এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় মামলা বিচারের জন্য সংশ্লিষ্ট যুগ্ম দায়রা জজ আদালতে পাঠাবেন। মামলাগুলো যে পর্যায়ে আছে, সেই পর্যায় থেকে শুনানি হবে।

আইনজীবীরা বলছেন, হাইকোর্টের রায়ের ফলে এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারার অধীনে চেকের মামলার বিচার, আপিল ও রিভিশনের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের জটিলতা দূর হবে। বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমবে।

বিজ্ঞাপন

আদালতে পৃথক তিনটি রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ন কবির। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ কাওছার, মাজেদুল কাদের ও মোজাম্মেল হক। ইসলামী ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. মিজানুর রহমান খান। অপর রিটে বিবাদী সগীর হোসেনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এস এম আরিফ মন্ডল।

রায়ের বিষয়টি জানিয়ে আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ন কবির প্রথম আলোকে বলেন, এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় চেক ডিজঅনারের মামলা আগে যুগ্ম দায়রা জজ ও অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতে শুনানি হতো। দায়রা জজ আদালত নির্ধারণ করতেন মামলাটি কোন আদালতে শুনানির জন্য পাঠানো হবে। কোনো মামলায় যদি যুগ্ম দায়রা জজ আদালত রায় দিতেন, তাহলে সাজাপ্রাপ্ত আসামি দায়রা জজ আদালতে আপিলের সুযোগ পেতেন। তবে কোনো কোনো মামলায় অতিরিক্ত দায়রা জজ বা দায়রা জজ আদালতে শুনানি হয়ে রায় হলে, সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে আপিল করার জন্য হাইকোর্টে আসতে হতো। এই বিধান বৈষম্যমূলক ও সংবিধানের ২৭ ও ৩১ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক—এসব যুক্তিতে রিটগুলো করা হয়।

বিজ্ঞাপন

নথিপত্র থেকে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর থানার এ এ এম জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় মামলা করে, যা চাঁপাইনবাবগঞ্জের যুগ্ম দায়রা জজ, প্রথম আদালতে বিচারাধীন ছিল। তিনটি চেকের বিপরীতে হওয়া তিনটি মামলার কার্যক্রম চ্যালেঞ্জ করে ২০১৮ সালে পৃথক রিট করেন জিয়াউর। এর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৮ সালে হাইকোর্ট পৃথক রুল দেন।

আর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সগীর হোসেন নামের এক ব্যক্তি পাওনা টাকা পেতে এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় ইয়াকুব মিয়ার বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে মামলা করেন। মামলাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যুগ্ম দায়রা জজ, প্রথম আদালতে বিচারাধীন ছিল। এর কার্যক্রমের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ইয়াকুব মিয়া ২০১৯ সালে হাইকোর্টে রিট করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ২১ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল দেন। পৃথক রুলের ওপর শুনানি শেষে আজ রায় দেওয়া হয়।

মন্তব্য পড়ুন 0