এবার '৬৬ অধ্যায়ে বাংলাদেশ'

৬৬ অধ্যায়ে বাংলাদেশ বইয়ের প্রচ্ছদ
৬৬ অধ্যায়ে বাংলাদেশ বইয়ের প্রচ্ছদ

বিদেশে বাংলাদেশকে তুলে ধরার বেলায় জাপান মনে হয় অন্যান্য দেশের চেয়ে এগিয়ে। বাংলাদেশ নিয়ে লেখা এবং বাংলাদেশের কবি-সাহিত্যিকদের লেখা জাপানি ভাষায় অনুবাদ বইয়ের সংখ্যা একেবারে কম নয়। তা সত্ত্বেও দেশটির সার্বিক পরিচয় তুলে ধরে বইয়ের দেখা জাপানে অবশ্য খুব বেশি মেলে না। বাংলাদেশকে না জানা বা স্বল্প জানা জাপানিদের কাছে বাংলাদেশকে তুলে ধরার সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে দেশটি সম্পর্কে লেখা বই জাপানের বাজারে সহজপ্রাপ্য করে তোলা।

পর্যটকদের জন্য সে রকম দু-একটি বই আছে। কিন্তু সেগুলো থেকে ভ্রমণের বাইরে খুব বেশি জানার সুযোগ নেই। যাঁরা বাংলাদেশকে আরও গভীরভাবে জানতে চান, তাঁদের কথা মাথায় রেখে ২০০৩ সালে আকাশি শোতেন নামে নামী জাপানি প্রকাশনা সংস্থা একটি বই প্রকাশ করেছিল। এরিয়া স্টাডিজ বা আঞ্চলিক বিদ্যা সিরিজের বই হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের সমাজ, সংস্কৃতি, রাজনীতি, ধর্মাচার, কৃষ্টি থেকে শুরু করে দেশটির পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্কসহ বহুবিধ বিষয় বইটিতে রাখা হয়। সেবারের সেই বইয়ের নাম ছিল ৬০ অধ্যায়ে বাংলাদেশ। ২০০৯ সালে অপর একটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়।

ইতিমধ্যে আট বছর পার হয়ে গেছে। বাংলাদেশেও নানা রকম পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। ফলে প্রকাশনা সংস্থা এবার আগের সেই সংস্করণের পরিমার্জিত রূপ বাজারে ছাড়ার বদলে বরং পুরোপুরি নতুন করে লেখা একটি বই প্রকাশের উদ্যোগ নেয়। সেই উদ্যোগের ফলই হচ্ছে ৬৬ অধ্যায়ের বাংলাদেশ। গত অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে বইটি জাপানের বাজারে ছাড়া হয়েছে।

চারজন জাপানি গবেষক বইটি সম্পাদনা করেছেন। বইটি বাংলাদেশ নিয়ে কাজ করা জাপানের বেশ কিছু গবেষক, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, সমাজকর্মী, কূটনীতিক ও অন্যদের লেখা রচনার একটি সংকলন। চার শতাধিক পৃষ্ঠার এই বইয়ে নয়টি বিভাগে ভাগ করে সব কটি রচনা অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে। বইয়ের সেই পর্যায়ক্রমিক নয়টি বিভাগ হচ্ছে মানুষ, দেশ ও পানিসম্পদ; বাংলাদেশের সংস্কৃতি; অর্থনীতি ও শিল্প; সমাজ উন্নয়ন; ক্ষুদ্রঋণ, সামাজিক ব্যবসা ও এনজিও; নগর উন্নয়ন ও জনসংখ্যা সমস্যা; পল্লী উন্নয়ন ও কৃষি; পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং ক্ষুদ্র ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী এবং বাংলাদেশ ও বিশ্ব।

বিষয়ভিত্তিক বিভাজন সহজেই বলে দেয় বইটি শুধু সাধারণভাবে দেশটিকে জানার বই নয়, বরং বাংলাদেশের নানা বিষয় সম্পর্কে যাঁরা জানতে আগ্রহী, তাঁদের কৌতূহল মেটানো হচ্ছে এই বইয়ের মূল উদ্দেশ্য।

যে চারজন জাপানি যৌথভাবে বইটি সম্পাদনা করেছেন তাঁরা হলেন টোকিওর সেক্রেট হার্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাসাআকি ওহাশি, জাপানের উন্নয়ন গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষক মাইয়ুমি মুরাইয়ামা, টোকিওর বিদেশ চর্চা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক নাওনোরি কাসুকাবে এবং এনটিটি ডাটার কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার ও সমাজকর্মী জুনইয়া আদাচি।

সন্দেহ নেই উৎসাহী জাপানিদের বাংলাদেশ সম্পর্কে জানার আগ্রহ মেটাতে বইটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।