এস কে সিনহার ভাই ও ভাতিজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

আদালত
প্রতীকী ছবি

ব্যাংকের টাকা আত্মসাতের মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার ভাই ও ভাতিজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। আদালতের সমন জারির পরও স্বাক্ষ্য দিতে না আসায় আজ মঙ্গলবার তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪–এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম।

যে দুজন সাক্ষীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে, তারা হলেন সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার ভাই নরেন্দ্র কুমার সিনহা এবং ভাতিজা শঙ্খজিৎ সিংহ।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম প্রথম আলোকে বলেন, মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য আদালত থেকে সমন জারি হয়েছিল।

এরপরও তাঁরা আদালতে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দেননি, যে কারণে আইন অনুযায়ী আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন।

ব্যাংকের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় দুদকের করা মামলায় এস কে সিনহাসহ ১২ জন আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। মামলার ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। আজ এই মামলায় পদ্মা ব্যাংকের আইন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এম আতিফ খালেদ সাক্ষ্য দিয়েছেন।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মীর আহম্মেদ আলী সালাম বলেন, গত ১৩ আগস্ট সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ চারজনের সাক্ষ্য গ্রহণ বাকি রয়েছে।

কারাগারে থাকা তৎকালীন ফারমার্স ব্যাংকের নিরীক্ষা কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতীকে (বাবুল চিশতী) আজ কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে হাজির ছিলেন জামিনে থাকা আসামি ফারমার্স ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সাবেক ক্রেডিট প্রধান গাজী সালাহউদ্দিন, ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এ কে এম শামীম, ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, ভাইস প্রেসিডেন্ট লুৎফুল হক, টাঙ্গাইলের মো. শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা।

মামলায় পলাতক চারজন। তাঁরা হলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা, ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখার ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সফিউদ্দিন আসকারী, ভাইস প্রেসিডেন্ট লুৎফুল হক ও এস কে সিনহার কথিত পিএস রণজিৎ চন্দ্র সাহা এবং রণজিতের স্ত্রী সান্ত্রী রায় (সিমি)।

কীভাবে দুর্নীতি সংগঠিত হয়, সে ব্যাপারে মামলার বাদী দুদক কর্মকর্তা সৈয়দ ইকবাল হোসেন আদালতকে বলেছিলেন, ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর আসামি নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা ও শাহজাহান তৎকালীন ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) গুলশান শাখায় দুটি চলতি হিসাব খোলেন। পরদিন পৃথক দুটি হিসাবের বিপরীতে দুই কোটি করে মোট চার কোটি টাকা ঋণের আবেদন করা হয়। ঋণের আবেদনপত্রে ঠিকানা হিসেবে উত্তরার একটি বাড়ির ঠিকানা ব্যবহার করা হয়।

যে বাড়ির মালিক সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। তৎকালীন ফারমার্স ব্যাংকের কর্মকর্তা মামলার আসামি জিয়াউদ্দিন আহমেদ, সফিউদ্দিন আসকারী ও লুৎফুল হক ঋণ আবেদন যাচাই-বাছাই না করে এই ব্যাংক এবং ব্যাংকের কোনো নীতিমালা না মেনেই ঋণ প্রস্তাব প্রস্তুত করেন। এতে নিজেরা স্বাক্ষর করেন। আসামি জিয়াউদ্দিন আহমেদ ঋণ প্রস্তাবটি হাতে হাতে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে নিয়ে যান।

প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় কোনো যাচাই-বাছাই না করে ওই ঋণ প্রস্তাব দুটি অনুমোদনের জন্য নোট আকারে উপস্থাপন করেন। ব্যাংকটির ক্রেডিট শাখার গাজী সালাউদ্দিনের কাছে নিয়ে যান।

তিনিও কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই না করে ব্যাংকের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম শামীমের কাছে নথিটি নিয়ে যান। ব্যাংকের ঋণ পলিসি নীতি অনুযায়ী এই ধরনের ঋণ অনুমোদনের ক্ষমতা ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের না থাকা সত্ত্বেও অবৈধ প্রক্রিয়ায় তিনি ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন করেন। পরদিন ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর আসামি শাহজাহান ও নিরঞ্জন সাহার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অনুমোদিত ঋণের টাকা সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নামে পে-অর্ডার ইস্যু করা হয়।

ওই বছরের ৯ নভেম্বর সোনালী ব্যাংক সুপ্রিম কোর্ট শাখায় এস কে সিনহার ব্যাংক হিসাবে চার কোটি টাকা জমা হয়।

দুদক কর্মকর্তা সৈয়দ ইকবাল হোসেন আদালতকে আরও বলেন, সোনালী ব্যাংক সুপ্রিম কোর্ট শাখায় টাকা জমা হওয়ার পর এস কে সিনহা বিভিন্ন সময় টাকা তুলে তা হস্তান্তর–স্থানান্তর করেন। এর মধ্যে ওই বছরের ২৮ নভেম্বর ২টি চেকের মাধ্যমে এস কে সিনহা তাঁর আপন ভাইয়ের শাহ্জালাল ব্যাংকের উত্তরা শাখার হিসাবে ১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ও ৭৪ লাখ টাকা স্থানান্তর করেন।