কক্সবাজারে হরতালেও পাহাড় কাটা থেমে নেই
জামায়াতে ইসলামীর ডাকা হরতালেও কক্সবাজার শহরের সংরক্ষিত উঁচু পাহাড় কাটা থেমে নেই। দিনদুপুরে পাহাড় কাটা মাটি ট্রাক বোঝাই করে প্রধান সড়ক দিয়ে সৈকতসংলগ্ন গলফ মাঠের নিচু জমি ভরাট করা হলেও কেউ বাধা দিচ্ছে না। গত কয়েক দিনে নির্বিচারে শহরের ১০-১২টি পাহাড় কেটে ফেলায় পরিবেশ-প্রতিবেশ হুমকির মুখে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল বুধবার সকাল ১০টার দিকে শহরের বাইপাস সড়কের পাশে (উত্তরণ হাউজিং সোসাইটির উত্তর পাশে) লাগানো বিশাল একটি উঁচু পাহাড় এক্সাভেটর দিয়ে কাটা শুরু করেন কয়েকজন শ্রমিক। এ সময় স্থানীয় লোকজন বাধা দিলে শ্রমিকেরা বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়ে এই পাহাড় কাটা হচ্ছে। মাটি নেওয়া হচ্ছে সৈকতপারে নির্মিতব্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের গলফ মাঠ ভরাটের জন্য।
খবর পেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আবদুর রহমান পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে এলে এক্সাভেটর ফেলে শ্রমিকেরা পালিয়ে যান। পরে ইউএনও এক্সাভেটরটি জব্দ করেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কাজী আবদুর রহমান বলেন, হরতালের দিনেও পাহাড় কাটা বন্ধ করা যাচ্ছে না।
পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের সহকারী পরিচালক সরদার শরীফুল ইসলাম বলেন, এক্সাভেটরসহ পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে। পরিবেশবাদী সংগঠন কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা বলেন, অসাধু ব্যক্তি ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের নাম দিয়ে পাহাড় কাটার মহোৎসব চালাচ্ছে এবং মাটির রমরমা বাণিজ্য করছে। এ ব্যাপারে প্রশাসন নীরব।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সরদার শরীফুল ইসলাম বলেন, ৪ আগস্ট দুপুরে সিটি কলেজসংলগ্ন বিশাল পাহাড় কাটার সময় একটি এক্সাভেটরসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে। পরে সিটি কলেজের অধ্যক্ষ ক্যা থিং অংসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম পরিবেশ আদালতে মামলা করা হয়েছে। অবশ্য ক্যা থিং অং দাবি করেন, তিনি পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত নন। ক্রিকেট স্টেডিয়ামের মাটি ভরাটের জন্য কিছু লোক এই পাহাড় কাটেন।
‘কক্সবাজার বাঁচাও আন্দোলন’-এর সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য মাটির প্রয়োজন হলে শহরের ভরাট বাঁকখালী নদীর তলদেশ খনন করা যায়। কিন্তু তা না করে শহরের পাহাড়গুলো দিনরাত সমানে কেটে ফেলা হচ্ছে। এতে পরিবেশ-প্রতিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার মুহামঞ্চদ শাহজাহান বলেন, ‘কক্সবাজারে ক্রিকেট স্টেডিয়াম চাই, কিন্তু পাহাড় কেটে নয়।’