default-image

দেশে গত বছরের মার্চে যখন করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়, তখন আমরা প্রস্তুত ছিলাম না। ফলে চিকিৎসা এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাপনা নিয়ে করোনার পেছন-পেছন দৌড়িয়েছি। এটা কোনো কার্যকর পদ্ধতি নয়। সংক্রমণ সঠিকভাবে মোকাবিলা করতে হলে অবশ্যই করোনার আগে দৌড়াতে হবে। আগাম প্রস্তুতি থাকতে হবে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ যখন আসবে, তখন কী কী করা হবে, তার কৌশলগত পরিকল্পনা আগেই করে রাখা প্রয়োজন ছিল। সরকারের সেই কৌশল হয়তো থাকতে পারে। তবে জনগণেরও তা জানা থাকা দরকার। কারণ, জনগণকে সম্পৃক্ত করতে না পারলে সরকার সফল হবে না।

করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের অন্য রোগ রয়েছে, তাদের মৃত্যুহার বেশি কি না, সেটি খুঁজে বের করা দরকার। একই সঙ্গে কোন বয়সের মানুষদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি হচ্ছে এবং কোন বয়সীরা মারা যাচ্ছে, তা–ও বের করতে হবে। সংক্রমণ বৃদ্ধি পেলে এবং তাতে বয়স্করা যদি বেশি আক্রান্ত হন, তাহলে মৃত্যুহার বাড়বে।

মৃত্যুহার কমাতে হলে স্বাস্থ্যব্যবস্থার মান উন্নত করতে হবে। আক্রান্ত হলে সম্পূর্ণ আইসোলেশনে (বিচ্ছিন্নকরণ) রেখে চিকিৎসা দিতে হবে। করোনায় আক্রান্তদের বেশির ভাগই সাধারণ চিকিৎসায় ভালো হয়ে যাচ্ছে। ৫ শতাংশ লোকের জন্য দরকার আইসিইউ, ভেন্টিলেটর, অক্সিজেন। আমাদের এগুলোর প্রস্তুতি থাকতে হবে।

বিজ্ঞাপন

মানুষকে প্রস্তুত করতে হবে, তাদের সচেতন করতে হবে এবং সম্পৃক্ত করতে হবে। আমরা মানুষকে সচেতন করেছি, কিন্তু সম্পৃক্ত করতে পারিনি।

চিকিৎসাব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ করতে যথাযথ পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি থাকা দরকার। উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা রাখতে হবে। এগুলো নিশ্চিত করা গেলে উপজেলা পর্যায় থেকেই দেশের ৮৫ শতাংশ মানুষকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব। খুব বেশি অসুস্থ হলে জেলা বা বড় হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দিতে হবে। তাহলে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যাবে, নয়তো মৃত্যুহার অনেক বাড়বে।

মাস্ক পরা, হাত ধোয়া এবং দূরত্ব বজায় রাখা—এই তিনটি বিষয় মানুষকে অবশ্যই মেনে চলতে হবে। ন্যূনতম উপসর্গ দেখা দিলেই পরীক্ষা করাতে হবে। করোনা শনাক্ত হওয়ার পরপরই আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিতে হবে।

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দেশব্যাপী লকডাউন দেওয়া হয়েছে। এটি একটি বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থা। তবে খেয়াল রাখা দরকার, দেশব্যাপী লকডাউন তখনই হবে, যখন সারা দেশে সংক্রমণের হার একই রকম থাকবে। যে জেলা বা উপজেলায় সংক্রমণের হার বেশি, সেখানে লকডাউন বা সীমিত লকডাউন দিতে হবে। ভোলার মতো একটা দ্বীপের সংক্রমণ তো ঢাকার মতো নয়। তাহলে এখন ভোলায় কেন লকডাউন হবে? লকডাউন দিতে হবে সেসব জায়গায়, যেখান থেকে সংক্রমণ ছড়াতে পারে এবং সেখানকার মানুষ যেন সেখানেই থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন