default-image

বিদেশগামী কর্মীদের কাজে যোগ দেওয়ার কথা বিবেচনায় নিয়ে সরকার ১৭ এপ্রিল থেকে পাঁচ দেশে বিশেষ ফ্লাইট চালু করে। গত ১৫ দিনে বিশেষ ফ্লাইটে অন্তত ৬৫ হাজার কর্মী বিদেশে গেছেন। এর মধ্যে প্রধান গন্তব্য ছিল মধ্যপ্রাচ্য। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ভারতীয় কর্মী নিয়োগ বন্ধ থাকায় বাংলাদেশের কর্মীদের সেখানে কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা গত রোববার প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, গত বছর করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রথম পর্বে প্রবাসী কর্মীদের চাকরির সুরক্ষা ছিল রীতিমতো চ্যালেঞ্জের। ওই সময়ে বিদেশ থেকে কর্মী ফিরিয়ে আনার চাপ ছিল। আবার যাঁরা দেশে ফিরেছিলেন, তাঁদের বড় অংশটি ফিরে যাননি। গত বছর করোনা পরিস্থিতি সরকার ভালোভাবে সামাল দেওয়ায় কোনো দেশ বাংলাদেশের কর্মী নিয়োগ কিংবা ফ্লাইট চলাচলে বিধিনিষেধ দেয়নি। এই পরিস্থিতিতে এবার বেশি কর্মীকে বিদেশে পাঠানো গেছে। এমনকি বিদেশ যাওয়া কর্মীর তুলনায় ফিরে আসার আনুপাতিক হারও বেশ কম।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ ফ্লাইট চালু হওয়ার পর থেকে ১ মে পর্যন্ত সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ওমান, বাহরাইন ও সিঙ্গাপুরে গেছেন ৬৪ হাজার ৮৮৩ জন। একই সময়ে ওই সাত দেশ থেকে দেশে ফিরেছেন ১৬ হাজার ৭০৭ জন। বিদেশ যাওয়া কর্মীদের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও কাতারে গেছেন যথাক্রমে ২৫ হাজার ৫০১, ২১ হাজার ৯৪৩ ও ১০ হাজার ৪৯৮ জন।

বিজ্ঞাপন

সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, এক মাসের বেশি সময় ধরে সৌদি আরবে ভারতের কর্মী নিয়োগ বন্ধ থাকায় সেখানে বাংলাদেশের কর্মীদের চাহিদা হঠাৎ বেড়েছে। দেশটিতে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রতিদিন গড়ে তিন হাজার করে নতুন কর্মীর চাহিদার অনুমোদন দিয়েছে। বাংলাদেশের কর্মী নিয়োগের নতুন এই পরিস্থিতিকে বিশেষভাবে কাজে লাগানোর জন্য গত মাসে ঢাকা সফরের সময় গুরুত্বারোপ করেন রিয়াদে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী।

বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য বিশেষ ফ্লাইট চালুর বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘করোনাভাইরাস সংক্রমণের যে পরিস্থিতি এখন রয়েছে, তাতে যেকোনো দেশ তাদের সীমান্ত বাংলাদেশের জন্য বন্ধ করে দিতে পারে। কাজেই বাংলাদেশের জন্য যতক্ষণ ফ্লাইট চালু থাকবে, সেই সময় পর্যন্ত আমরা লোকজন পাঠানো অব্যাহত রাখব।’

মাসুদ বিন মোমেন জানান, গত বছরের একই সময়ের চিত্রটা ছিল এখনকার ঠিক উল্টো। তখন বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের কর্মীদের ফেরত পাঠাতে চেয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশ নেয়নি।

মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি ভালোভাবে সামাল দেওয়ায় বাংলাদেশ এবার কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশের কর্মীদের মূল গন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে চাহিদাও বেড়েছে। ফ্লাইট বন্ধ করে দিলে এই লোকগুলো যেতে পারতেন না। সে জন্য আমরা বিশেষ ফ্লাইট চালুর সুযোগ তৈরি করেছি।’

মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত কূটনীতিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ১৫ দিনে বিশেষ ফ্লাইটে বাংলাদেশের কর্মী নিয়োগের সংখ্যাটা উল্লেখ করার মতো। প্রতিবেশী ভারতের কর্মী নিয়োগ বন্ধ যেমন এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে, এর পাশাপাশি অন্তত তিনটি কারণ বাংলাদেশের জন্য সুযোগ তৈরি করেছে। এগুলো হচ্ছে আগের কর্মী চলে আসায় শূন্য জায়গাগুলোতে কর্মীদের কাজের সুযোগ বেড়েছে। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের কর্মীদের মজুরি অন্য দেশের তুলনায় কম হওয়ায় নিয়োগকারীরা তাঁদের নিতে আগ্রহী থাকে। তৃতীয়ত, যেসব কষ্টসাধ্য কাজ এই অঞ্চলের অনেক দেশের কর্মীরা সচরাচর করতে চান না, বাংলাদেশের কর্মীদের সেসব কাজে সহজে নিয়োগ দেওয়া যায়।

বিজ্ঞাপন

গত বছরের এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের লোকজনকে দেশে ফিরিয়ে আনা শুরু হয়। ওই সময় থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এক লাখের বেশি বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এর বেশির ভাগই এসেছেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় সরকার ১৪ এপ্রিল থেকে বিদেশগামী ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছিল। প্রবাসী কর্মীদের কাজে ফেরত যেতে ১৭ এপ্রিল থেকে ৫টি দেশের ৮টি শহরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বিশেষ ফ্লাইট চালু করে।

চালু হওয়া বিশেষ ফ্লাইটগুলো সৌদি আরবের শহর রিয়াদ, দাম্মাম ও জেদ্দা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের শহর দুবাই ও আবুধাবি, ওমানের মাসকট, কাতারের দোহা ও সিঙ্গাপুরে কর্মী পরিবহন করে। ওই গন্তব্যগুলো থেকে ভিসা ও কাজের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া বাংলাদেশের কর্মীরা ফিরতি ফ্লাইটে দেশে ফিরে আসেন।

পরে বাংলাদেশ বিমানের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি এয়ারলাইনসগুলো কর্মী পরিবহন শুরু করে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন