দুই দিক থেকে আসা পানি পদ্মায় এসে পড়ায় রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও শরীয়তপুরের নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করতে শুরু করেছে। আগামী কয়েক দিন পদ্মার পারের জেলাগুলোর নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। এ ব্যাপারে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী উদয় রায়হান প্রথম আলোকে বলেন, উজানে বৃষ্টি চলবে। তবে বৃষ্টির পরিমাণ কমতে পারে। ব্রহ্মপুত্র ও গঙ্গার পানি যমুনা হয়ে পদ্মা দিয়ে নামছে। যে কারণে সেখানে আগামী কয়েক দিন পানি বাড়তে পারে।

ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস বলছে, চলতি মাসের শেষের দিকে ব্রহ্মপুত্র ও গঙ্গার উজানে আবারও ভারী বৃষ্টি শুরু হতে পারে। এরই মধ্যে ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গের হিমালয়ের পাদদেশের এলাকাগুলোতে প্রবল বন্যা চলছে। ওই বন্যার পানি আগামী দু–তিন দিনের মধ্যে বাংলাদেশের পদ্মা ও যমুনা নদী দিয়ে বঙ্গোপসাগরে নামতে শুরু করবে। ফলে দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে বন্যা বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের মধ্যাঞ্চলের অনেক এলাকায় নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম না করলেও চর ও বাঁধের বাইরের এলাকা প্লাবিত হতে পারে। সেখানে বিপুল পরিমাণ ঘরবাড়ি ও মানুষের বসতি আছে।

অন্যদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার দেশের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায়, ১২২ মিলিমিটার। তবে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগেও বৃষ্টি বাড়তে শুরু করেছে। আজ বুধবারও রাজশাহী, চট্টগ্রাম, রংপুর, বরিশাল ও খুলনা বিভাগে বৃষ্টি বাড়তে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর ১০৯টি পয়েন্টের মধ্যে ৬৮টিতে পানি বাড়ছে। আর ৩৪টিতে পানি কমতে শুরু করেছে। ১৮টি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন