বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশি ও কাউন্সিলরদের অনুরোধে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র জন বিগস বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের সময়কালের সঙ্গে মিল রেখে উদ্‌যাপনের ৯ মাসব্যাপী নানা আয়োজনের কর্মসূচি নেন। গত ১৬ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এ জন্য কাউন্সিলের তহবিল থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৫০ হাজার পাউন্ড, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৮ লাখ টাকা।

টাওয়ার হ্যামলেটসের উদ্যোগে ২৬ মার্চ পূর্ব লন্ডনের আলতাব আলী পার্কের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে উত্তোলন করা হয় বাংলাদেশের পতাকা। এ ছাড়া একই দিন কাউন্সিল কার্যালয় বা টাওয়ার হ্যামলেটস টাউন হলেও বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। লাল-সবুজ আলোকসজ্জায় আলোকিত হয় স্থানীয় ব্রোমলি টাউন হল।

এর বাইরে দুটি আয়োজন ছিল। একটির আয়োজন করে ‘ব্রিটিশ বাংলাদেশি পাওয়ার অ্যান্ড ইন্সপাইরেশন১০০’ বা ‘বিবিপিআই১০০’ নামের সংগঠনটি। তাদের উদ্যোগে যুক্তরাজ্যের নান্দনিক নিদর্শন ‘লন্ডন আই’তে ২৬ মার্চ আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়। অন্যটি হলো ক্যানারি ওয়ার্ফে যুক্তরাজ্যের দ্বিতীয় উচ্চতম ভবন ‘ওয়ান কানাডা স্কয়ারে’ লাল-সবুজ আলোকসজ্জা। ২৯ মার্চের এই আয়োজনের উদ্যোক্তা টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের স্পিকার মোহাম্মদ আহবাব হোসেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এসব আয়োজনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয় হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনীমকে। কিন্তু ৩১ মার্চ লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশন একটি বিজ্ঞপ্তি পাঠায়। এতে বলা হয়, লন্ডন হাইকমিশনের উদ্যোগে ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবে, টাওয়ার হ্যামলেটস মেয়রের অফিস টাউন হলে এবং ব্রোমলি পাবলিক হলে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ক্যানারি ওয়ার্ফের আলোকসজ্জা লন্ডন হাইকমিশনের উদ্যোগে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০তম বার্ষিকী উদ্‌যাপনেরই একটি অংশ, যা ২৬ মার্চ শুরু হয়েছে। একই দিনে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে প্রখ্যাত লন্ডন আই আলোকিত হয়েছিল। এ ছাড়া ২৬ মার্চ হাইকমিশনার টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র ও স্পিকারের সঙ্গে পূর্ব লন্ডনের আলতাব আলী পার্কে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপনে ৯ মাসব্যাপী অনুষ্ঠানমালার শুভ উদ্বোধন করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে কোথাও প্রকৃত আয়োজকদের কথা উল্লেখ না করার বিষয়ে ১ এপ্রিল প্রথম আলোর পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়। পরদিন হাইকমিশনের পক্ষ থেকে একটি সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়। এতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ক্যানারি ওয়ার্ফের ভবনে আলোকসজ্জাকে টাওয়ার হ্যামলেটসের স্পিকার মোহাম্মদ আহবাব হোসেনের উদ্যোগে কাউন্সিলের স্পিকারের কার্যালয়, ক্যানারি ওয়ার্ক গ্রুপ ও বাংলাদেশ হাইকমিশনের একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা বলে উল্লেখ করে।

কী কারণে আগের বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রচার করতে হলো, তার কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে প্রথম আলোর প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ হাইকমিশন জানায়, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সব আয়োজনে তারা যৌথ উদ্যোক্তা। টুইটারে ভুয়া ছবি প্রকাশের বিষয়ে তারা বলেছে, ঘটনাটি ভুলবশত ঘটেছে। ছবি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপন নিয়ে টাওয়ার হ্যামলেটস থেকে ১৬ মার্চ যে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে যে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়, তাতে কোথাও বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের কথা উল্লেখ ছিল না। হাইকমিশন নিজে গত ৩১ মার্চ যে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করেছে, সেখানেও যৌথ উদ্যোগের কথা বলেনি। ২ এপ্রিল পাঠানো সংশোধিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও যৌথ উদ্যোগের কথা বলা হয়নি।

টাওয়ার হ্যামলেটসের একাধিক কাউন্সিলর বাংলাদেশ হাইকমিশনের কৃতিত্ব দাবির সমালোচনা করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁরা প্রথম আলোকে বলেন, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল বাংলাদেশ হাইকমিশনের স্বীকৃতি বা বাহবার জন্য বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপন করছে না। হাইকমিশন প্রকৃত উদ্যোক্তাদের কথা স্বীকার না করুক, নিজেদের কৃতিত্ব দাবি করল কোন যুক্তিতে? বিষয়টি টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের প্রশাসনে জানাজানি হয়েছে। হাইকমিশনের এমন কাণ্ড বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশদের হেয় করেছে।

বিবিপিআই১০০-এর প্রতিষ্ঠাতা কাউন্সিলর আব্দাল উল্লাহ বলেন, হাইকমিশন সুবর্ণজয়ন্তী পালনের আয়োজনের প্রকৃত উদ্যোক্তাদের কথা স্বীকার করে ধন্যবাদ জানালে বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের সম্মান বাড়ত।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন