কৃষকদের মাঝে জনপ্রিয় হচ্ছে ব্রি-৩৪ সুগন্ধি ধান
দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় ব্রি-৩৪ সুগন্ধি জাতের ধানের চাষ কৃষকদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এ বছর উপজেলার ৯ হাজার ৮৬১ হেক্টর জমিতে সুগন্ধি ব্রি-৩৪ ধানের চাষ হয়েছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আউলিয়া পুকুর, পুনট্রি, ভিয়াইল, ফতেজংপুর, সাতনালা, আবদুলপুরসহ ১২টি ইউনিয়নে কৃষকেরা ৯ হাজার ৮৬১ হেক্টর জমিতে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত ব্রি-ধান ৩৪ জাতের সুগন্ধি ধানের চাষ করেন। গত বছর চাষ হয়েছিল ৩ হাজার ৫৭১ হেক্টর জমিতে। এ বছর তা বেড়ে প্রায় তিন গুণ হয়েছে।
গত বুধবার উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, যত দূর দৃষ্টি যায়, মাঠে মাঠে শুধু সোনালি ধান। পাকা ধানের সুগন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। জমির পাশ দিয়ে হেঁটে যেতেই নাকে আসছে সুগন্ধি ঘ্রাণ।
উপজেলার আউলিয়াপুকুর ইউনিয়নের কৃষক মো. মহসীন আলী ও ভিয়াইল ইউনিয়নের কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, এ বছর এলাকার কৃষকেরা শতকরা ৮০ ভাগ জমিতে ব্রি-৩৪ জাতের ধান চাষ করেছেন। একসময় অবস্থাপন্ন কৃষকেরা বছরজুড়ে পোলাও ও পায়েস খাওয়ার জন্য সামান্য জমিতে সুগন্ধি ধানের চাষ করতেন। সেই সময় কাটারী, কালনী, নেনিয়াসহ বিভিন্ন জাতের সুগন্ধি ধানের প্রচলন ছিল। কিন্তু ফলন ছিল খুবই কম। এ কারণে প্রান্তিক বা মাঝারি কৃষকেরা ওই সব ধান চাষে আগ্রহ ছিল না। কিন্তু ব্রি-৩৪ জাতের ধান কেবল সুগন্ধিই নয়, এই ধানের দাম বাজারে সবচেয়ে বেশি। ফলনও ভালো। ফলে কৃষকেরা বাণিজ্যিক ভিত্তিতেই এই ধানের চাষ করছেন।
জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক রেজা হুমায়ুন ফারুক চৌধুরী বলেন, দেশে ও বিদেশে ভোক্তাদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় সুগন্ধি চাল ‘রাঁধুনী পাগল’। এই চাল আসলে ব্রি-ধান ৩৪-এরই চাল। এই চাল দেশে যেমন চাহিদা, তেমনি বিদেশও প্রচুর পরিমাণে রপ্তানি হচ্ছে। বাজারে এ ধানের চাহিদা ও দাম দুটোই বেশি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শ ও সহযোগিতায় কৃষকদের মাঝে ব্রি-৩৪ জাত ধান চাষে আগ্রহ বেড়েছে।