default-image

মধ্যপ্রাচ্য ও ভিয়েতনামের পর এবার গ্রেপ্তার হলেন লেবানন ফেরত ৩২ অভিবাসী শ্রমিক। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে দুজন নারী। তুরাগ থানায় আজ সোমবার দায়ের হওয়া মামলায় পুলিশ বলেছে, লেবানন ফেরত অভিবাসী শ্রমিকদের ছেড়ে দিলে তারা ডাকাতি, দস্যুতা, খুন, জঙ্গি নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়াবে।

এর আগে মধ্যপ্রাচ্য ও ভিয়েতনাম ফেরত ৩০২ জন অভিবাসী শ্রমিকের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ তোলা হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধেও তুরাগ থানা-পুলিশ ৫৪ ধারায় মামলা করেছিল। লেবানন ফেরত অভিবাসী শ্রমিকদের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে একই ধারায়। আজই তাদের কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন


গ্রেপ্তারকৃতদের একজন মিজানুর রহমান।মিজানুরের স্বজন এমদাদুল হক প্রথম আলোকে বলেন, তিনি (মিজানুর) দশ বছর আগে ভাগ্য ফেরাতে লেবাননে গিয়েছিলেন। সংসার টানতে হতো। গেল দশ বছরে তাই একবারও বাংলাদেশে আসতে পারেননি। কোয়ারেন্টিনে শেষে বাসায় ফেরার কথা ছিল, কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কি ঘটেছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, লেবাননের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হয়ে যাওয়ায় রোজগার কমে গিয়েছিল মিজানুরের। সেখানে দালাল ধরে ইউরোপের কোনো একটা দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সিরিয়ায় সেনাবাহিনীর তল্লাশিচৌকিতে ধরা পড়ে যান। সাত-আট দিন জেলও খেটেছেন। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে আশ্রয় শিবিরে রাখা হয়েছিল। পরে একজন আইনজীবীর মাধ্যমে দেশে ফেরার টিকিট করিয়েছিলেন। সব খুইয়ে দেশে ফিরেছেন।
গ্রেপ্তারকৃতদের অপরাধ কি জানতে চাইলে তুরাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিউল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, অপরাধের কথা এজাহারে লেখা আছে। এর আগেও একই অভিযোগে তিন শর বেশি অভিবাসী শ্রমিককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের কি প্রমাণ পাওয়া গেছে? জানতে চাইলে মো. শফিউল্লাহ বলেন, তদন্ত চলছে। শেষ হলে বলা যাবে।

বিজ্ঞাপন


এজাহারে অভিবাসী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে পুলিশের উপপরিদর্শক মো. মোহাইমিনুর রহমান লিখেছেন, ৩২ বাংলাদেশি সিরিয়ার কারাগারে সাত মাস অন্তরীণ ছিলেন। গত ১১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসার পর তাদের দিয়াবাড়ি কোয়ারেন্টিন সেন্টারে রাখা হয়। তাঁরা বিদেশে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় সাজা পেয়েছেন এবং বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ভেতর তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা আছে। কোয়ারেন্টিনে থাকার সময় তাঁরা গ্রুপ ভিত্তিকভাবে সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মসূচি পালন করাসহ বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড ঘটানোর জন্য গোপনে শলাপরামর্শ করত বলে গোপন সূত্রে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন


এর আগে গত ৫ জুলাই কুয়েত, কাতার ও বাহরাইন থেকে আসা ২১৯ জনকে পুলিশি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলে পাঠায় আদালত। পরের দফায় গত ১ সেপ্টেম্বর ভিয়েতনাম ফেরত ৮১জনসহ মোট ৮৩ জনকে একই অভিযোগে জেলে পাঠানো হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক সি আর আবরার প্রথম আলোকে বলেন, সরকারের এসব কর্মকাণ্ডে চরম দ্বৈততা। অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়া অভিবাসী শ্রমিকদের দেশে ফিরিয়ে এনে উন্নত জীবন-যাপনের সুযোগ করে দেওয়া নিয়ে একটা প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। সেখানে এই সব অভিবাসী শ্রমিককে দফায় দফায় কারাগারে পাঠানো সংবিধানের লঙ্ঘন। লেবাননের অবস্থা খুবই খারাপ। যারা ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করছিল তারা ছিল নিরুপায়। তাদের বিরুদ্ধে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ আনা খুবই অমানবিক।

এই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, দিয়াবাড়িতে কোয়ারেন্টিন সেন্টার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত। সেখানে অভিবাসী শ্রমিকেরা কীভাবে ষড়যন্ত্র করেন, এবং সেই অপরাধে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয় এটাই বোধগম্য নয়।

মন্তব্য পড়ুন 0