default-image

দেশে ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ, হৃদ্‌রোগের মতো অসংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন আছে, চিকিৎসার ক্ষেত্রেও অনেক অগ্রগতি হয়েছে। ক্যানসার পুরোনো রোগ। কিন্তু ক্যানসার আন্দোলন কেন গড়ে উঠল না?

হাবিবুল্লাহ তালুকদার: নেতৃত্ব একটি বড় বিষয়। ক্যানসারের প্রতিরোধ ও চিকিৎসা আসলে নেতৃত্বহীন। ডায়াবেটিস বা হৃদ্‌রোগের ক্ষেত্রে নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসকেরা নেতৃত্ব দিয়েছেন। ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে অধ্যাপক ইব্রাহিম বা হৃদ্‌রোগের ক্ষেত্রে অধ্যাপক মালেক নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁরা রাষ্ট্রীয় আনুকূল্যও পেয়েছেন। তাঁদের ওপর ভরসা করে অন্যান্য চিকিৎসক ও সমাজসেবী এ কাজে যুক্ত হয়েছেন। কিন্তু ক্যানসারের ক্ষেত্রে তেমন ঘটেনি। তবে আমাদের জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞরা এবং সে সময়ের নীতিনির্ধারকদের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। কারণ ১৯৮০–র দশকে ৫০ শয্যার ক্যানসার হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্প প্রণয়নের সময় ক্যানসার চিকিৎসাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিশেষায়িত বিষয়, যেমন রেডিয়েশন, মেডিকেল, সার্জিক্যাল, গাইনি ও অনকোলজি বিভাগ, ক্যানসার প্রতিরোধ ও গবেষণার জন্য ক্যানসার ইপিডেমিওলজি বিভাগ সৃষ্টির মতো দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তারই ফল আজকের পূর্ণাঙ্গ জাতীয় ক্যানসার ইনস্টিটিউট।

গত ৫০ বছরে ক্যানসার প্রতিরোধ বা চিকিৎসায় বাংলাদেশে হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু হয়নি—এমন কাজগুলো কী?

হাবিবুল্লাহ তালুকদার: বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রথম আধুনিক যন্ত্র দিয়ে ক্যানসার চিকিৎসার উদ্যোগ নেওয়া হয় ১৯৫৩ সালে, কুমুদিনী হাসপাতালে। আর পি সাহা দুটি রেডিওথেরাপি যন্ত্র এনেছিলেন। সেগুলো ছিল ‘ডিপ এক্স-রে’ মেশিন। এরপর ১৯৫৯ সালে সে যন্ত্র আনা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এগুলো স্বাধীনতার আগের ঘটনা। তবে এসব উদ্যোগ থেকে বোঝা যায় যে ক্যানসারের আধুনিক চিকিৎসা ও প্রযুক্তি দেশে আনার প্রচেষ্টা সরকারসহ কারও কারও মধ্যে কাজ করেছিল।

এরপর ১৯৮০ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের একটি ওয়ার্ডে ক্যানসার রোগী রেখে একটি পৃথক হাসপাতাল করার উদ্যোগ শুরু হয়। এরও পরে মহাখালীতে রোটারি ক্লাব একটি ভবন তৈরি করে দেয়। সেটা রোটারি ক্যানসার ডিটেকশন ইউনিট নামে চালু হয়। ভবনটি এখনো আছে। তারই পাশে আজ গড়ে উঠেছে জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল। প্রথমে ৫০ শয্যা, পরে ১৫০ শয্যা এবং আরও পরে ৩০০ শয্যার হাসপাতালে সেটি উন্নীত করা হয়।

এর বাইরে পুরোনো সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে সীমিত আকারে ক্যানসার চিকিৎসা হয়। বেসরকারিভাবে আহ্‌ছানিয়া মিশন হাসপাতাল চালু আছে। এ ছাড়া বেসরকারি কয়েকটি হাসপাতালে এর চিকিৎসা হচ্ছে। চিকিৎসার আয়োজন এখনো মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী, প্রতি ১০ লাখ মানুষের জন্য একটি ক্যানসার চিকিৎসাকেন্দ্র থাকা দরকার। জনসংখ্যা অনুযায়ী বাংলাদেশে ১৭০টি ক্যানসার চিকিৎসাকেন্দ্র থাকার কথা। আছে ২০টির মতো।

বিজ্ঞাপন
  • জনসংখ্যা অনুযায়ী বাংলাদেশে ১৭০টি ক্যানসার চিকিৎসাকেন্দ্র থাকার কথা। আছে ২০টির মতো।

  • চিকিৎসার আয়োজন এখনো মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক।

  • ক্যানসার বিষয়ে নিজস্ব গ্রহণযোগ্য জাতীয় নিবন্ধন বা জরিপ নেই।

  • ক্যানসারে আক্রান্ত প্রায় অর্ধেক মানুষ দেশের প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসার বাইরে।

বাংলাদেশের ঘাড়ে ক্যানসারের বোঝাটা কত বড়?

হাবিবুল্লাহ তালুকদার: ক্যানসার বিষয়ে আমাদের নিজস্ব কোনো গ্রহণযোগ্য জাতীয় নিবন্ধন বা জরিপ নেই। ক্যানসারের প্রাদুর্ভাব বা প্রকোপ বোঝার জন্য আমাদের নির্ভর করতে হয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অধিভুক্ত সংস্থা গ্লোবোক্যানের ওপর। এই প্রতিষ্ঠানের অনুমিত হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতিবছর ১ লাখ ৫৬ হাজার মানুষ নতুন করে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়। বছরে ক্যানসারে মারা যায় প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার মানুষ।

অন্যদিকে বিভিন্ন হাসপাতালে যারা চিকিৎসা নিচ্ছে, এদের সংখ্যা সব মিলিয়ে হবে ৫০ হাজার। এর মানে প্রায় অর্ধেক ক্যানসার আক্রান্ত মানুষ দেশের প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসার বাইরে। এদের একটি অংশ বিদেশে চিকিৎসা নেয়, একটি অংশ ওঝা-কবিরাজের কাছে যায়, আরেকটি অংশের হয়তো কোনো চিকিৎসাই হয় না।

আমাদের দেশে নির্ভরযোগ্য তথ্য না থাকার কারণ কী? ক্যানসারের প্রকোপ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়ার জন্য কী করা দরকার?

হাবিবুল্লাহ তালুকদার: ক্যানসারের নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য দুটি স্বীকৃত পদ্ধতি আছে। হাসপাতালভিত্তিক ক্যানসার নিবন্ধন ও জনগোষ্ঠীভিত্তিক ক্যানসার নিবন্ধন। হাসপাতালভিত্তিক ক্যানসার নিবন্ধন পদ্ধতিতে একটি হাসপাতালে আসা রোগীদের তথ্য সুসংগঠিতভাবে সংগ্রহ, সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা করা হয়। এতে রোগীর আর্থসামাজিক পরিস্থিতির তথ্যও থাকে। তার ভিত্তিতে একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। এই প্রতিবেদন নীতিনির্ধারক ও গবেষকেরা ব্যবহার করতে পারেন। জাতীয় ক্যানসার ইনস্টিটিউটে এটা চালু আছে।

এই পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা হলো এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া থেকে একটি দেশের ক্যানসার পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র, অর্থাৎ আক্রান্ত ও মৃত্যুহার পাওয়া যায় না। একটি হাসপাতালে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগী আসে, আসতে পারে। সে জন্য জনগোষ্ঠীভিত্তিক ক্যানসার নিবন্ধন পদ্ধতি দরকার।

জনগোষ্ঠীভিত্তিক ক্যানসার নিবন্ধন পদ্ধতিতে একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীতে কত মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত, তার তথ্য সংগ্রহ করা হয়। কাজটি ধারাবাহিকভাবে করতে হয়। একবার কাজটি করলে তা জরিপের পর্যায়ে পড়ে, তা থেকে প্রকৃত অবস্থা জানা যায় না। হাসপাতাল ও জনগোষ্ঠীভিত্তিক ক্যানসার নিবন্ধনের তথ্য সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি দেশের ক্যানসারের প্রকৃত তথ্য বা চিত্র পাওয়া যায়।

এতকাল বাংলাদেশে কাজটি হয়নি কেন? এ ব্যাপারে এখন উদ্যোগ কতটুকু?

হাবিবুল্লাহ তালুকদার: জাতীয় ক্যানসার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে হাসপাতালভিত্তিক ক্যানসার নিবন্ধন হয়। প্রথম হয়েছিল ২০০৫ সালে। সর্বশেষ ২০১৭ সালের প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। পরের বছরগুলোর কাজ চলছে। তবে কিছু সীমাবদ্ধতা আছে।

অন্যদিকে চলতি স্বাস্থ্য খাত কর্মসূচিতে অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণের একটি কর্মপরিকল্পনা আছে। সেখানে একটি উপজেলায় জনগোষ্ঠীভিত্তিক ক্যানসার নিবন্ধনের প্রস্তাব ছিল। কিন্তু তখন হয়নি। এখন আবার অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চলছে।

এসব করার জন্য জাতীয় কর্মকৌশল বা পরিকল্পনা দরকার। যেমন আছে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি। ক্যানসারের ক্ষেত্রে কি এ ধরনের কোনো জাতীয় কর্মকৌশল আছে, অথবা নির্দিষ্ট কোনো কর্মসূচি?

হাবিবুল্লাহ তালুকদার: জাতীয় ক্যানসার নিয়ন্ত্রণ কৌশলপত্র এবং ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল মেয়াদি একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছিল। এই দলিল তৈরিতে সহায়তা করেছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে ৭২ পৃষ্ঠার ওই কৌশলপত্র পুস্তিকা আকারে ছেপে প্রকাশ করা হয়। কিন্তু এরপর ওই জাতীয় কৌশলপত্র অনুসরণ সেভাবে করা হয়নি। সেটি হালনাগাদও করা হয়নি। সে অর্থে জাতীয়ভাবে ক্যানসার নিয়ন্ত্রণে এখন কোনো কর্মসূচি নেই।

সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু প্রয়োজনীয় কাজটি কেন হচ্ছে না, গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়ার পরও কেন তা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না, সেটি খতিয়ে দেখা দরকার। নইলে ক্যানসার প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসা সমন্বিত রূপ এবং গতি পাবে না।

বিজ্ঞাপন

জাতীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি না থাকলেও কিছু কিছু কাজ হচ্ছে বলে শোনা যায়।

হাবিবুল্লাহ তালুকদার: কাজ তো অবশ্যই হচ্ছে। ক্যানসার চিকিৎসার অগ্রগতি ও আধুনিকায়ন অবশ্যই হয়েছে। সর্বাধুনিক যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তি, দক্ষতা এসেছে সরকারি ও বেসরকারিভাবে। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় আধুনিক ব্যবস্থা অপ্রতুল ও রাজধানীকেন্দ্রিক।

জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ের জন্য প্রায় ৪০০ ভায়া সেন্টার চালু আছে। এই ব্যবস্থা থেকে ৩০ থেকে ৬০ বছর বয়সী নারীরা সহজে তাঁদের জরায়ুমুখ ক্যানসারের পরিস্থিতি জেনে নিতে পারছেন। কিন্তু ক্যানসার নিয়ন্ত্রণের চারটি আবশ্যিক উপাদান, অর্থাৎ প্রতিরোধ, স্ক্রিনিং, চিকিৎসা ও প্রশমনসেবা সমানতালে এগোচ্ছে না।

কোন ধরনের কর্মসূচি থাকা দরকার বলে আপনি মনে করেন?

হাবিবুল্লাহ তালুকদার: বিষয়টি বিশদভাবে ব্যাখ্যার দাবি রাখে। দেশে কোন ধরনের ক্যানসারের প্রকোপ বেশি, তার বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্যের ঘাটতি রয়েছে। গ্লোবোক্যানের তথ্যই আমরা ব্যবহার করছি। সেই তথ্যের সঙ্গে মাঝেমধ্যে আমরা একমত হতে পারি না, কিন্তু আমাদের জনগোষ্ঠীভিত্তিক পরিসংখ্যান নেই বলে চ্যালেঞ্জও করতে পারি না।

ক্যানসারের স্ক্রিনিং হচ্ছে মূলত হাসপাতালে। কেউ হাসপাতালে সেবা নিতে এলে হাসপাতাল তথ্য পায়। আবার অন্য রোগের চিকিৎসা নিতে এসেও ক্যানসার শনাক্ত হয়। এটা হলো অসংগঠিত ক্যানসার স্ক্রিনিং। এর জন্য ১৫ বছরে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ১০ শতাংশের মতো নারীকে এর আওতায় আনা গেছে। গুরুত্বপূর্ণ অথচ মুখগহ্বরের ক্যানসার অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এ জন্য সমাজভিত্তিক সংগঠিত স্ক্রিনিং কর্মসূচির বিকল্প নেই। সমাজের মানুষকে অবহিত ও উদ্বুদ্ধ করে তাদের স্ক্রিনিং সেন্টারে আনতে হবে। জাতীয়ভাবে ক্যানসার স্ক্রিনিং কর্মসূচি থাকলে এটা করা সম্ভব হতো। কীভাবে পদ্ধতিগতভাবে কাজটি করা যায়, তা অনেকেরই জানা। কিন্তু কাজটি হচ্ছে না।

অনেকে যুক্তি দিয়ে বলবেন, জাতীয়ভাবে ক্যানসার স্ক্রিনিং করার মতো অবকাঠামো ও আর্থিক সক্ষমতার ঘাটতি আছে। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, স্বল্পোন্নত দেশে গণহারে তিনটি ক্যানসারের স্ক্রিনিং করা সম্ভব। এগুলো হচ্ছে স্তন ক্যানসার, জরায়ুমুখ ক্যানসার ও মুখগহ্বরের ক্যানসার। কিন্তু বাংলাদেশে তা হচ্ছে না।

বর্তমান সময়ে সরকারের উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ কী?

হাবিবুল্লাহ তালুকদার: বর্তমানে ক্যানসার চিকিৎসা মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক। সারা দেশের রোগীদের চিকিৎসার জন্য ঢাকাতে আসতে হয়। খরচ বেশি হওয়ায় অনেকে ঢাকায় আসতে চান না। ইচ্ছা থাকলেও অনেকের আর্থিক সামর্থ্যে কুলায় না। অনেকে চিকিৎসা থেকে বিরত থাকেন। সরকার আটটি বিভাগীয় শহরে আটটি পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার কেন্দ্র করার উদ্যোগ নিয়েছে, প্রকল্পের কাজও শুরু হয়েছে। আমি একে বিশাল অগ্রগতি মনে করি। প্রকল্পে মাল্টিডিসিপ্লিনারি অর্থাৎ সার্জারি, কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপিসহ প্রয়োজনীয় বিভাগগুলো অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। প্রতিরোধ ও গবেষণার জন্য ক্যানসার রোগতত্ত্ব বিভাগ আছে। গাইনি ও শিশু ক্যানসারের বিভাগ আছে। মোবাইল ক্যানসার সচেতনতা ও স্ক্রিনিং ইউনিট আছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বিভাগীয় শহরের আশপাশের জেলার মানুষ ক্যানসার শনাক্ত ও ক্যানসারের চিকিৎসায় আগের চেয়ে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠবে। আমি এ প্রকল্পের জন্য সরকারের প্রতি অশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

আটটি বিভাগে আটটি হাসপাতাল করাই কি যথেষ্ট? মানুষকে সচেতন করার উপায় কী? এ ক্ষেত্রে সরকার কী করছে?

হাবিবুল্লাহ তালুকদার: ক্যানসারের প্রকোপ কমাতে হলে ক্যানসার প্রতিরোধ করতে হবে। এটি প্রতিরোধের প্রধান অস্ত্র জনসচেতনতা। লাগাতারভাবে জনসচেতনতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। সরকারি উদ্যোগের সঙ্গে অন্য যারা কাজ করছে, তাদের সম্পৃক্ত করতে হবে। স্তন ক্যানসার বা জরায়ুমুখ ক্যানসার নিয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ আছে। ধূমপানবিরোধী আন্দোলনের বড় ভূমিকা আছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের আরও বড় ভূমিকা থাকা দরকার। গণমাধ্যম এ ব্যাপারে ভূমিকা রেখেছে। সিভিল সোসাইটিরও বড় ভূমিকা আছে। তবে এসব কাজের একটি সমন্বয় দরকার, সুসংগঠিত প্রচার-প্রচারণা দরকার। মানুষ সচেতন হলে ক্যানসারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ থেকে দূরে থাকবে। মানুষ সচেতন হলে রোগ শনাক্তের জন্য আগেভাগে হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসবে।

গুরুত্ব দিতে হবে গবেষণার প্রতি। ক্যানসারবিষয়ক স্নাতকোত্তর কোর্সে ক্যানসার রোগতত্ত্ব অন্তর্ভুক্ত ছিল। কেন বাদ গেল, তা আমার নিজের কাছে বিস্ময়। ক্যানসার প্রতিরোধ বা গবেষণা সম্পর্কে না পড়ে একজন ক্যানসার বিশেষজ্ঞ হবেন, এটা ভাবা যায়? স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর এই বছরে অবহেলিত ও অসম্পূর্ণ কাজগুলো শুরু হোক, নাগরিক হিসেবে এটাই আমার চাওয়া।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন