ক্রিকেট এবং বাংলাদেশ, শুরু থেকে শেষ

বিজ্ঞাপন
default-image

বাংলাদেশে ক্রিকেট একটি খেলা না, তার থেকেও অনেক অনেক বেশি কিছু। বর্তমানে বাংলাদেশের ক্রিকেট দেশের ১৬ কোটি মানুষের রক্তে মিশে যাওয়া নেশা। তাইতো প্রেস কনফারেন্সে সাকিব আল হাসান একদিন বলেছিলেন পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের থেকেও আমাদের দেশে ক্রিকেট বেশি জনপ্রিয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট খেললে মাঠে খেলে ১১ জন, কিন্তু তাদের পেছনে তাদের সাহস দেওয়ার জন্য ১৭ কোটি মানুষ থাকে। সবার চাওয়া একটাই, জিতবে আমাদের বাংলাদেশ। এই দেশে এই ক্রিকেট খেলাটা যখন এতই জনপ্রিয়, তখন এই খেলার ইতিহাস না জানলে তো হবে না।

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেঙ্গল টাইগার নামেই অধিক পরিচিত এবং প্রশংসিত। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-বিসিবি বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলসহ দেশের সকল ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা।

বাংলাদেশ সর্বপ্রথম ১৯৭৯ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসি ট্রফি দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আত্মপ্রকাশ করে। ওই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ দু'টি ম্যাচ জয়লাভ করে এবং দু'টি ম্যাচ হেরে যায়।

বাংলাদেশ সর্বপ্রথম একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৯৮৬ সালের ৩১ মার্চ এশিয়া কাপে।

default-image

বাংলাদেশ ওয়ানডে স্ট্যাটাস পায় ১৯৯৭ সালে। বাংলাদেশের এখন অব্দি অন্যতম অর্জন হলো ১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফি জয়, এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। কারণ, এই জয়ের মাধ্যমেই বাংলাদেশ পেয়েছিল প্রথমবারের মতো ক্রিকেটের সর্বোচ্চ আসর বিশ্বকাপ (১৯৯৯ সালে) খেলার সুযোগ। প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলেই চমক দেখিয়েছিল বাংলাদেশ, জানান দিয়েছিল চোখে চোখ রেখে হুংকার দেওয়ার মতো একটি দল বিশ্ব শাসন করতে প্রস্তুত হচ্ছে। প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলে বাংলাদেশ হারিয়েছিল স্কটল্যান্ড এবং তখনকার হট ফেবারিট পাকিস্তানকে।

একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে বাংলাদেশ তাদের প্রথম জয়টা পায় ২২ ম্যাচ হারের পর। ১৯৯৮ সালে মোহাম্মদ রফিকের অসাধারণ নৈপুণ্যে (৭৭ রান ও ৩ উইকেট) কেনিয়ার বিরুদ্ধে ভারতের মাটিতে জয় পায় বাংলাদেশ। সেদিন আতহার আলী খান ও মোহাম্মদ রফিক মিলে জুটি বেঁধেছিলেন ১৩৭ রানের। আতহার আলী করেছিলেন ৪৭ রান।

২০০০ সালের ১০ নভেম্বর বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল টেস্ট খেলার মর্যাদা অর্জন করে। তাও আবার শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে খেলেছিল বাংলাদেশ নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের অধিনায়কত্বে। নাঈমুর রহমান দুর্জয় বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট অধিনায়ক। বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট ম্যাচে ১৪৫ রান করে ইতিহাসে নাম লিখান আমিনুল ইসলাম বুলবুল। অধিনায়ক নাইমুর রহমানের ১৩২ রানে ৬ উইকেট অভিষেক টেস্টের প্রথম ইনিংসে কোনো বোলারের সেরা বোলিং। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে ৯ উইকেটে হেরে যায় বাংলাদেশ। সেই থেকে শুরু হয় দেশে টেস্ট ক্রিকেটের পথচলা।

বাংলাদেশ প্রথম টেস্ট জয় পায় ২০০৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চট্টগ্রামে। ম্যাচ সেরা হন এনামুল হক জুনিয়র।

এরপর থেকে দাপটের সঙ্গে চলতে থাকে বাংলাদেশের ক্রিকেট। সাফল্য শুরুর দিকে কম আসছিল, কিন্তু বাংলাদেশ দাতে দাঁত চেপে লড়াই সবার সঙ্গেই করছিল। ২০০৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ছিল বাংলাদেশের জন্য দুঃস্বপ্নের বিশ্বকাপ।

২০০৭ সালের বিশ্বকাপের কথা হয়তো কখনোই ভোলা যাবে না। স্মরণীয় ভারত বধ যে সেই বিশ্বকাপেই হয়েছিল। বাংলার তিন দামাল ছেলে সাকিব, তামিম, মুশফিক এক সাথে প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছিল। তিনজনই করেছিল ভারতের বিপক্ষে হাফ-সেঞ্চুরি। তামিমের জহির খানকে ডাউন দ্যা উইকেটে এসে ছক্কা মারাটা এখনো সবার চোখেই লেগে আছে। সেই থেকে বাংলাদেশকে ছোট করে দেখার কোনো সুযোগই নেই।

২০১১ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের স্বাগতিক দেশ হয়েছিল বাংলাদেশ। সেবার বাংলাদেশ তিনটি ম্যাচ জিতেও নক-আউট পর্বে যেতে পারেনি। ইংল্যান্ডকে এ বিশ্বকাপে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিল বাংলাদেশ।

২০১২ এশিয়া কাপের কথা তো সবারই মনে আছে। আহ! কি একটা দল ছিল আমাদের। কোনো প্রতিপক্ষই যেন আমাদের কাছে শক্তিশালী মনে হতো না। ভারতকে নাকানিচুবানি খাইয়ে ফাইনালে গিয়েছিলাম। তারপর......থাক আর নাই বলি, চোখের কোণে এতক্ষণে জল হয়তো এসে গেছে যারা এই লেখাটা পড়ছেন।

২০১৪ কিংবা ২০১৬ এশিয়া কাপ কিংবা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ তীরে এসে তরী ডোবা যেন আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল।

২০১৫ বিশ্বকাপ ছিল আমাদের স্বপ্নের বিশ্বকাপ। ইংল্যান্ডকে বধ করে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ খেলেছিল বিশ্বকাপের নক-আউট পর্বে। সেদিনের কমেন্ট্রি আজও কানে লেগে আছে ‘বাংলাদেশ টাইগার্স হেভ নকড দ্যা ইংলিশ লায়ন্স আউট অব দ্যা ওয়ার্ল্ড কাপ’। রুবেল সেদিন উনার জাত চিনিয়ে দিয়েছিলেন।

২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির কথা এখনো মনে আছে সবারই, কেননা আন্তর্জাতিক কোনো টুর্নামেন্টে প্রথম সেমিফাইনাল খেলি আমরা সাকিব-রিয়াদ বীরত্বে। কার্ডিফে কিউইদের বিপক্ষে দুজনই করেছিলেন অনবদ্য সেঞ্চুরি।

মাঝে বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাস নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ টেস্টে ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সমালোচকদের সমালোচনার জবাব দিয়েছে।

default-image

সর্বশেষ ২০১৯ বিশ্বকাপে অনেক আশা নিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু একজন সাকিব আল হাসান ছাড়া বলার মতো পারফর্ম কেউই করতে পারেননি। 
তারপরও আশা দেখেছিল বাংলাদেশ সেমিতে খেলার। সেটা সম্ভব হয়নি। কারণ, ক্রিকেট যে দলীয় খেলা।

করোনায় সব ধরনের খেলা প্রায় বন্ধ ছিল, আস্তে আস্তে মাঠে ফিরছে খেলা। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল যেসময় মাঠে ফিরবে, আশা করি আগের থেকেও ভয়ংকর রূপে ফিরবে, বাঘের রূপে ফিরবে।

১৭ কোটি মানুষের একটাই চাওয়া এগিয়ে যাক বাংলাদেশ, বিশ্বকাপ জিতুক বাংলাদেশ। মৃত্যুর আগে যেন দেখে যেতে পারি বিশ্বকাপ উঁচিয়ে ধরেছে বাংলাদেশ। শুভকামনা বাংলাদেশ দ্যা টাইগার্স।


*লেখক: শিক্ষার্থী, দ্বাদশ শ্রেণি, বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ, সিলেট।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন