ক্ষণিকের অতিথি

গরুকে খাইয়ে দিচ্ছে দুই ভাইবোন। ছবি: আবদুর রশিদ
গরুকে খাইয়ে দিচ্ছে দুই ভাইবোন। ছবি: আবদুর রশিদ

ঝিরি ঝিরি বৃষ্টিতে ভিজছে গরুটি। তার সঙ্গে ভিজছে দুই ভাইবোন আরিয়ান ও আলভিনা। খাইয়ে দিচ্ছে ঘাস ও খড়। কোরবানির পশু হিসেবে হাট থেকে কিনে আনা এই গরুর ওপর এক ধরনের মমতা জন্মেছে ওদের। শান্ত গরুটির গুঁতোগুঁতির অভ্যাস নেই বলে ভাবও হয়ে গেছে। এ জন্য আদর করে খাওয়াচ্ছে।
গত শনিবার গরুটি হাট থেকে কিনে আনার পর প্রায় সারাক্ষণ এর সঙ্গে আছে ওরা।
আজ সোমবার বিকেলে ধানমন্ডি-৩ নম্বর রোডের একটি বাসার নিচতলার আঙিনায় রাজধানীর সাউথ ব্রিজ স্কুলের শিক্ষার্থী এই ভাইবোনের সঙ্গে দেখা। গরুটাকে দেখভালের লোকজন আছে। এরপরও ওরা গরুটাকে একটু আরাম দিতে তৎপর।
আরিয়ান বলল, ‘গরু কিনে আনার পর ঘাস কিনতে গেছি। বিচালি কিনতে গেছি। এখন খাইয়ে দিচ্ছি। গরুর জন্য হঠাৎ মায়া হয়ে গেছে।’
রাজধানীর মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, ভূতের গলি, কলাবাগান, রামপুরা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কোরবানি জন্য কেনা গরু ও ছাগল রাখা হয়েছে বাসাবাড়ির নিচতলার গ্যারেজ, বেজমেন্ট বা বাড়ি ও সামনের রাস্তার ফুটপাতে।

কোরবানির জন্য কিনে আনা গরু দেখছে এক শিশু। ছবি: আবদুর রশিদ
কোরবানির জন্য কিনে আনা গরু দেখছে এক শিশু। ছবি: আবদুর রশিদ

এমনই একটি ফুটপাতে গরু দেখতে এসেছে ধানমন্ডির আরেকটি বাসার নিচে চার বছরের রামিন। বাবা-মায়ের সঙ্গে গরু দেখতে এসেছে। একটু ভয়ও পাচ্ছে সে। গরু নড়লে সেও নড়ে। গরু গুঁতো দেওয়ার ভঙ্গি করলে ভয়ে সে কেঁদে ওঠে। মিজানুর রহমান বলেন, ‘ছেলেটি গরুর কাছ থেকে যেতেই চাইছে না।’
রাজধানীর কলাবাগানের একটি বাসার নিচে দেখা গেল এক জোড়া বিশাল গরু। দুটির দাম ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। এত বড় গরু দেখেও ভয় পাচ্ছিল না ওয়াইডব্লিউসিএর অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী নওশীন। আজ ভোরে গরুটি আনার পর থেকে সে বহুবার নিচে এসে দেখেছে। খাইয়ে দিচ্ছে ঘাস-বিচালি।
সে বলল, ‘আমাদের গরুগুলো খুব বড়। খুব খুশি হয়েছি। এখন ঘাস খাইয়ে দিচ্ছি।’

গরুকে বিচালি খাওয়ানো হচ্ছে। ছবি: আবদুর রশিদ
গরুকে বিচালি খাওয়ানো হচ্ছে। ছবি: আবদুর রশিদ

কোরবানির পশু কেনার প্রতি অনেক আগে থেকেই ক্রেতাদের একটা আগ্রহ থাকে। কত দামের মধ্যে কেমন গরু কেনা হবে, এ নিয়ে চলে জল্পনা-কল্পনা। কেনার পর গরু বা ছাগলের যত্নআত্তি চলতে থাকে। বাড়ির ছেলে বুড়ো সবারই একটা মমতা থাকে এতে। বিশেষ করে ছোটদের আগ্রহটা থাকে বেশি। কোনো বাড়িতে কোরবানির পশু বেশি দিন থাকলে পরিবারের সদস্য কারও কারও মায়া পড়ে যায়। তারপর এই ক্ষণিকের অতিথি যথানিয়মে বিদায় নিলে ক্ষণিকের জন্যই একটা শূন্যতা রেখে যায়।