খাগড়াছড়িতে মং সার্কেলের রাজপুণ্যাহ অনুষ্ঠিত
নানা আয়োজনে মং সার্কেলের ঐতিহ্যবাহী রাজপুণ্যাহ (রাজস্ব আদায়ের উৎসব) খাগড়াছড়ির রাজবাড়ি প্রাঙ্গণে গতকাল শনিবার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়। রাজপুণ্যাহ অনুষ্ঠানে প্রজাদের কাছ থেকে আদায় করা ভূমি ও জুমের কর মৌজাপ্রধান হেডম্যান রাজার হাতে তুলে দেন।
গতকাল বেলা ১১টায় মং রাজা সাচিং প্রু চৌধুরী নিজস্ব সেনাবেষ্টিত অবস্থায় রাজবাড়ি থেকে দরবার হলে যান। এ সময় তাঁকে স্বাগত জানান মৌজাপ্রধান হেডম্যান, গ্রামপ্রধান কারবারি ও প্রজারা।
অনুষ্ঠান শুরু হয় প্রথমে মারমা, চাকমা, ত্রিপুরা ও বাঙালিদের পৃথক নৃত্য ও পরে যৌথ নৃত্যের মধ্য দিয়ে।
দরবার হলে মং সার্কেলের রাজা সাচিং প্রু চৌধুরী বলেন, এলাকার শান্তি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সবার মঙ্গলের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। হিংসা, বিদ্বেষ ও বিভেদ ভুলে এক হতে হবে।
বর্তমান রাজা সাচিং প্রু চৌধুরী ২০০৯ সালে রাজা হিসেবে অভিষেকের পর এটি পঞ্চম রাজপুণ্যাহ অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে রাজমাতা মাধবী লতা চৌধুরী, রাজকুমারী উমাচিং চৌধুরী, খাগড়াছড়ি থেকে নির্বাচিত সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাথোঅং মারমা, ইউএনডিপির প্রতিনিধি রবার্ট স্টলম্যান, জেলার ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। রাজপুণ্যাহ উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক হেডম্যান হিরঞ্জয় ত্রিপুরা বলেন, পুণ্যাহ অনুষ্ঠানে মং সার্কেলের ৮০ জন হেডম্যান রাজার হাতে রাজস্ব তুলে দেন। এ ছাড়া চার শতাধিক গ্রামপ্রধান কারবারি ও প্রজা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
রাজস্ব আদায়ের এই উৎসব মহা ধুমধামে তিন পার্বত্য জেলার তিনটি সার্কেলে (চাকমা সার্কেল, বোমাং সার্কেল ও মং সার্কেল) আলাদা আলাদাভাবে উদ্যাপন করা হয়। এই উৎসব আদিবাসীদের সংস্কৃতিরও একটি অংশ। এদিন মৌজাপ্রধান হেডম্যান প্রজাদের কাছ থেকে আদায় করা ভূমি ও জুমের কর রাজার হাতে তুলে দেন। তেমনি সাধারণ প্রজারাও রাজার সান্নিধ্য লাভ করে। এ সময় তারা রাজাকে উপঢৌকন হিসেবে জুমের বিভিন্ন ফসল, চাল ও ফলমূল দিয়ে থাকে।