একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালে বাগেরহাটের বিভিন্ন স্থানে গণহত্যা, ধর্ষণ, লুট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় শেখ সিরাজুল ইসলাম মাস্টারের (৮০) সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধ তদন্ত সংস্থা। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে মুঠোফোনে তদন্ত সংস্থার সদস্য জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মো. হেলালউদ্দিন প্রথম আলোকে এ কথা জানান।হেলালউদ্দিনের নেতৃত্বে তদন্ত সংস্থার পাঁচ সদস্যের একটি দল মুক্তিযুদ্ধকালে বাগেরহাট সদর, কচুয়া ও রামপাল উপজেলার যেসব স্থানে গণহত্যা, ধর্ষণ, লুট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল, গত সোম ও মঙ্গলবার সেসব স্থান পরিদর্শন করে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি নেয়। তদন্ত দল সদর উপজেলার বেশরগাতি ও কান্দাপাড়া, কচুয়ার শাঁখারীকাঠি, মঘিয়া ভাসাবাজার এবং রামপাল সদর ও ডাকরা গ্রামের বধ্যভূমি, গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের স্থল পরিদর্শন করে। তারা ২১ জন প্রত্যক্ষদর্শী ও সাক্ষীর জবানবন্দি নেয়। তদন্ত কর্মকর্তা হেলালউদ্দিন বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালে সিরাজুল ইসলাম মাস্টার রাজাকার বাহিনীর প্লাটুন কমান্ডারের দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর অধীনে দেড় শতাধিক রাজাকার ছিল। তিনি পাকিস্তানি সেনাদের নিয়ে একাত্তরের ১৬ জুন কান্দাপাড়া গ্রামে ১৯ জনকে গুলি করে হত্যা করেন। পরে তিনি পাশের কচুয়া উপজেলা সদরে ৩০০ বাড়িতে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেন। একই সময়ে তাঁর বাহিনী মঘিয়া ভাসাবাজারে ১৬ জনকে এবং শাঁখারীকাঠি গ্রামে ৪২ জনকে হত্যা করে। হেলালউদ্দিন বলেন, একাত্তরের ২১ মে হিন্দু সম্প্রদায়ের সহস্রাধিক নারী, পুরুষ ও শিশু পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতায় আতঙ্কিত হয়ে রামপালের ডাকরা গ্রামের ঠাকুরবাড়িতে জড়ো হয়েছিল। রাজাকাররা এই খবর জেনে রাজাকার কমান্ডার রজব আলী ফকির ও সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে ওই দিন দুপুর ১২টার দিকে লঞ্চ নিয়ে সেখানে গিয়ে নির্বিচার গুলি চালিয়ে সাত শতাধিক নিরস্ত্র নারী, পুরুষ ও শিশুকে হত্যা করে। তিনি জানান, রাজাকার সিরাজ মাস্টারের বিরুদ্ধে বাগেরহাটের সদর, কচুয়া ও রামপাল থানায় মোট সাতটি মামলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0