বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৮ বিভাগে ৮টি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। সেখানে স্নাতকোত্তরের পাশাপাশি গবেষণাতেও আপনারা মনোযোগী হবেন। এ জন্য আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এসব বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য হলো, সেখানে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সঙ্গে গবেষণা করা। আমাদের স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের গবেষণা একান্তভাবে অপরিহার্য।’ তিনি বলেন, ‘অনেকে ভালো গবেষণা করে যাচ্ছেন। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে যাঁরা ভালো ও নামীদামি চিকিৎসক হয়ে যান, তাঁরা চিকিৎসাসেবা দিতেই ব্যস্ত থাকেন। তাঁরা যদি কিছুটা সময় ব্যয় করে এই গবেষণার দিকে নজর দেন; আমাদের দেশের পরিবেশ, আবহাওয়া, জলবায়ু সবকিছু মিলিয়ে এ দেশের মানুষের কী কী ধরনের রোগ দেখা দেয় এবং এর প্রতিরোধশক্তিটা কীভাবে বাড়ানো যায়, সেটার কিন্তু ব্যবস্থা নেওয়া যায়।’

দেশে ক্যানসার চিকিৎসায় বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন শুরু হয়েছে। এই চিকিৎসাপদ্ধতি আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘দেশের জনসংখ্যার কথা চিন্তা করেই আমাদের এই ব্যবস্থাটা নিতে হবে।’

ঢাকার সাভারে বায়োটেকনোলজি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বায়োকেমিক্যাল, বায়োমেডিক্যাল, বায়োটেকনোলজি, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, অনকোলোজি এসব বিষয়ে গবেষণা খুবই প্রয়োজন। এসব বিষয়ের প্রতি চিকিৎসকদের নজর দিতে হবে। কেন আমাদের দেশের মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে, সেগুলো আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে ক্যানসার, কিডনি এবং হার্টের রোগের প্রাদুর্ভাব একটু বেশি দেখা যাচ্ছে।’ এ জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যেই ক্যানসার চিকিৎসা সহজলভ্য করতে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে হৃদ্‌রোগ, কিডনি ও ক্যানসার রোগের সেবা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।’

এদিকে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন অমিক্রন থেকে সুরক্ষায় টিকা গ্রহণ এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে চলার জন্য সবার প্রতি পুনরায় আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন হয়ে আমাদের জনশক্তি গড়ে উঠুক। আর এই মহামারিকে (করোনা) যেভাবে হোক আমাদের মোকাবিলা করতে হবে এবং এ জন্য সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।’ কোভিড-১৯ প্রতিরোধে দেশবাসীকে ভয় না পেয়ে এবং কোনো ধরনের অপপ্রচারে কান না দিয়ে টিকা নেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ভয় না পেয়ে টিকাটা নিয়ে নিলে আপনাদের জীবনটা রক্ষা পাবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একজন মানুষও যেন টিকাপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত না হয়, সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ৩১ কোটি ডোজ টিকার ব্যবস্থা করে রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে রাজধানীসহ সারা দেশে ১৩ কোটির বেশি টিকা দেওয়া হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ ছাড়াও বুস্টার ডোজ দেওয়া শুরু হয়েছে। কেননা, আমাদের দেশের মানুষ সুস্থ এবং সুরক্ষিত থাকুক, সেটাই আমি চাই।’ করোনা সংক্রমণ এড়াতে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও জনসমাগম এড়িয়ে চলার ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে চলতে জনগণের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, করোনার নতুন ধরন অমিক্রনে শিশুদের ঝুঁকি বেশি। তাই ১২ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে আরও কম বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের ৮০ ভাগ মানুষকে টিকার আওতায় আনা হবে এবং করোনার জন্য সরকারের দেওয়া প্রণোদনার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার জরুরি প্রয়োজনে বাজেটে ১০ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রাখার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

এই অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব লোকমান হোসেন মিয়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অনুষ্ঠানে একটি ভিডিও চিত্রও প্রচার করা হয়।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন