গান্ধী-নেতাজির স্মৃতিধন্য গ্রন্থাগার ভবন ভেঙে ফেলা হবে

নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু ১৯২৮ সালের ১২ এপ্রিল রাজশাহী সাধারণ গ্রন্থাগারের অভিমত খাতায় লিখেছিলেন, ‘আমার বলতে দ্বিধা নেই, এই ধরনের গ্রন্থাগার কলকাতার বাইরে খুব কমই রয়েছে।’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই গ্রন্থাগারের জন্য নিজের হাতে স্বাক্ষরিত বই উপহার হিসেবে পাঠিয়েছিলেন। সে বই এখনো রয়েছে।

এই গ্রন্থাগার ভবনটি ভেঙে নতুন করে করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুই-এক দিনের মধ্যেই ভবনটি ভাঙার জন্য নিলাম করা হবে।

গ্রন্থাগার সূত্রে জানা গেছে, ১৮৮৪ সালে দিঘাপতিয়ার দানশীল রাজা প্রমথনাথ রায় গ্রন্থাগারের জন্য রাজশাহী নগরের মিয়াপাড়া এলাকায় ৪৪ শতাংশ জমি দান করেন। দ্বিতল এই ভবন তৈরির খরচ বহন করেন কাসিমপুরের জমিদার কেদার প্রসন্ন লাহিড়ী। তাঁর বাবার নামে ভবনের মিলনায়তনের নাম রাখা হয় ‘গিরিশ চন্দ্র হল’। এই গ্রন্থাগারে ১০টি কক্ষ রয়েছে। বই রয়েছে ৩৬ হাজার। এর মধ্যে ২৯টা বইয়ে স্বহস্তে স্বাক্ষর করে পাঠিয়েছিলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

গ্রন্থাগারের পরিদর্শন বইয়ে মূল্যবান কথা লিখে গেছেন সরোজিনী নাইডু, মোহিতলাল মজুমদার, আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়, জলধর সেন, স্যার আজিজুল হক, সজনী কান্ত দাস, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, শরৎচন্দ্র বোসসহ আরও অনেকে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের চারটি গ্রন্থাগারের মধ্যে রাজশাহী সাধারণ গ্রন্থাগারকে বিভাগীয় লাইব্রেরির মর্যাদা দেন। এই ভবন ভাঙার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে রাজশাহীর অনেক কবি-সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। রাজশাহীর কবি শামীম হোসেন বলেন, তাঁদের জানামতে প্রায় ১৫০ বছরের ঐতিহ্য এই ভবন ভাঙার জন্য প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ থেকে কোনো সনদপত্র নেওয়া হয়নি। গ্রন্থাগার কমিটির সাধারণ সভায় সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়নি। তিনি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রাজশাহীর সংস্কৃতিকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

গ্রন্থাগার পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি কবি ও গবেষক তসিকুল ইসলাম বলেন, ভবনের ওপরের কড়ি-বর্গা দুর্বল হয়ে গেছে। এ জন্য নতুন করে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভবনের সামনের দিকটা হুবহু করা যায় কি না, তাঁরা দেখবেন। নতুন নকশা তো সম্পূর্ণ অন্য রকম শুনে তিনি বলেন, সেটাও ইচ্ছা করলে বদলানো যাবে।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, তাঁরা মনে করেন ভবনটির প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্য নেই। এ জন্য প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কোনো সনদ নেওয়া হয়নি। নতুন ভবন হবে তিনতলা, কিন্তু পাঁচতলার সমান উঁচু হবে।