গোয়ালন্দের সেই ভূমি কর্মকর্তাকে বদলি
অবশেষে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) হাসেম আলী মণ্ডলকে জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। ২০ মে জেলা প্রশাসক এই বদলির আদেশে সই করেন৷
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ১০৭ নম্বর মহিদাপুর চরখণ্ড মৌজার ৩২০ নম্বর দাগের ৮৩ একর জমির মধ্যে ৩৬ দশমিক ৮৫ একর কয়েক লাখ টাকার বিনিময়ে জালিয়াতি করে ভুয়া মালিকদের নামে রেকর্ডভুক্ত করেন হাসেম আলী। এ নিয়ে গত ১৩ এপ্রিল জেলা প্রশাসকের কাছে নয়জন জমির মালিক লিখিত অভিযোগ করেন। পরে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আনছার উজ্জামান ঘটনা তদন্তে গেলে প্রকৃত জমির মালিকেরা জমি তাঁদের নামে রেকর্ডভুক্ত করে খাজনা গ্রহণের দাবি জানান। তাঁরা হাসেম আলী মণ্ডলের শাস্তিও দাবি করেন। তদন্তকালে আনছার উজ্জামান জমির চর্চা খতিয়ান বইয়ের পৃষ্ঠার গরমিল পান এবং তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন৷ এ নিয়ে গত ৩০ এপ্রিল প্রথম আলোয় ‘ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ’ শিরোনামে প্রতিবেদন ছাপা হয়।
২০ মে জেলা প্রশাসক মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল তহশিলদার হাসেম আলী মণ্ডলকে বালিয়াকান্দির নারুয়া ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ে বদলি করেন এবং নারুয়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ইলিয়াস কবিরকে উজানচর ইউনিয়নে যোগদানের আদেশ দেন।
হাসেম আলী মণ্ডল বলেন, ‘অভিযোগ সম্পর্কে আমি কিছুই বলতে পারব না। আমাকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বদলি করা হয়েছে বলে জানি। এখানে নতুন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা যোগদান করলে তাঁকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে চলে যাব।’
আনছার উজ্জামান গতকাল রোববার বলেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।
তবে এই অপরাধের সঙ্গে হাসেম আলী সুনির্দিষ্টভাবে জড়িত কি না, তা আরও খতিয়ে দেখার পর বিষয়টি প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তের স্বার্থে এবং প্রাথমিকভাবে অভিযোগের অনেকটা সত্যতা পাওয়ায় তাঁকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে।