বিজ্ঞাপন

ঈদের নামাজে করোনা থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা হয়। এ ছাড়া করোনা মোকাবিলায় টিকাসহ যাবতীয় পদক্ষেপে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাতে সফল হন, তার জন্যও দোয়া করা হয়। মহামারির সম্মুখযোদ্ধা চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ, সাংবাদিকদের জন্য দোয়া করেন মুসল্লিরা। করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের সুস্থতার জন্য দোয়া করা হয়।

করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে মসজিদের ভেতর এবার জামাত আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু উপস্থিতি বেশি থাকায় মুসল্লিদের সারি মসজিদের বাইরে চলে আসে। প্রায় সব মুসল্লির মুখে মাস্ক ছিল। তবে সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করা অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হয়নি।

নামাজ শেষে মুসল্লিরা কোলাকুলি করেন। তবে এবার অনেকেই তা এড়িয়ে চলেছেন। প্রতিবছর ঈদের নামাজে জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সাংসদ, রাজনীতিবিদেরা অংশ নেন। তবে এবার করোনার কারণে তাঁরা অনুপস্থিত ছিলেন। চট্টগ্রামের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নিজ নিজ এলাকার মসজিদে নামাজ আদায় করেন বলে জানা গেছে।

জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদে আট বছরের ছেলেকে নিয়ে নামাজ আদায় করতে এসেছিলেন শামসুল আলম। তিনি বলেন, এবার বিশেষ পরিস্থিতিতে ঈদ হচ্ছে। আগামীবার যেন এই করোনা দূর হয়ে যায়।

ঈদের দিন শুরুতে আকাশ ছিল পরিষ্কার। কিন্তু সকাল সোয়া নয়টা থেকে বৃষ্টি শুরু হয় চট্টগ্রামে। এতে নামাজ শেষে ঘরমুখী মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন।

জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদে দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল নয়টায়। জমিয়াতুল ফালাহ ছাড়া নগরের সুগন্ধা আবাসিক এলাকা জামে মসজিদ, হজরত শেখ ফরিদ (র.) চশমা ঈদগাহ মসজিদ, চকবাজার সিটি করপোরেশন জামে মসজিদ ও মা আয়েশা সিদ্দিকী চসিক জামে মসজিদে (সাগরিকা জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়ামসংলগ্ন) ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের তত্ত্বাবধানে একটি করে প্রধান ঈদ জামাত নিজ নিজ মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন মসজিদ কমিটিগুলো ছয় দফা নির্দেশনা দিয়েছে। এগুলো হচ্ছে নামাজের আগে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবাণুনাশক দ্বারা পরিষ্কার করতে হবে, মসজিদে কার্পেট না বিছিয়ে মুসল্লিদের জায়নামাজ নিয়ে আসতে হবে এবং বাসা থেকে অজু করে আসার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

সব মুসল্লিকে মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করতে হবে। ঈদের নামাজ আদায়ের সময় পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। শিশু, অসুস্থ, বয়োবৃদ্ধ এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা ঈদ জামাতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধ নিশ্চিতকল্পে মসজিদে জামাত শেষে কোলাকুলি এবং পরস্পর হাত মেলানো পরিহার করার জন্য অনুরোধ করা হয়।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন