বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বন্দরের তথ্যে দেখা যায়, অর্থবছরের শুরুতে করোনার প্রভাবে কনটেইনার পরিবহনের সংখ্যা প্রতি মাসে আড়াই লাখের নিচে নেমে যায়। তবে এ বছরের শুরুতে প্রতি মাসে কনটেইনার পরিবহনের সংখ্যা আড়াই লাখ ছাড়িয়ে যায়। এ ধারা এখনো অব্যাহত আছে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান আজ বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, করোনাঝুঁকির মধ্যেও বন্দর কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকেরা দিনরাত কাজ করেছেন। ব্যবহারকারীরা প্রতিনিয়ত সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় করোনায় কনটেইনার পরিবহনে প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

করোনার সময় শ্রীলঙ্কার কলম্বো, মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাং ও সিঙ্গাপুরের সিঙ্গাপুর বন্দরে যেভাবে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে, চট্টগ্রামে তা হয়নি বলে উল্লেখ করেন এম শাহজাহান। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে কলকারখানা খোলা রাখার যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তাতে করে বন্দরে পণ্যের স্তূপ হয়নি। পরিচালন কার্যক্রমও সচল ছিল, যেখানে বিদেশের অনেক বন্দরের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে যত পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়, তার মাত্র ২৫ শতাংশ কনটেইনারে এবং বাকি পণ্য জাহাজের খোলে (বাল্ক আকারে) আনা-নেওয়া হয়। কনটেইনারে তুলনামূলক কম পণ্য পরিবহন হলেও পণ্য বিবেচনায় এর গুরুত্ব বেশি। কারণ, দু-তিনটি ছাড়া সব শিল্পকারখানার কাঁচামাল কনটেইনারে আমদানি হয়। এ তালিকায় আছে পোশাক, ওষুধ, জুতা, ইস্পাত, বাণিজ্যিক পণ্য, ভোগ্যপণ্য ইত্যাদি। আবার রপ্তানি পণ্যের প্রায় পুরোটাই পাঠানো হয় কনটেইনারে। এসব কারণে কনটেইনারে পণ্য পরিবহনের প্রবৃদ্ধি কমবেশি হওয়াটা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি নির্দেশ করে।

কনটেইনারে কাঁচামাল আমদানি ও রপ্তানি পণ্য পরিবহনে এককভাবে শীর্ষ ব্যবহারকারী হলো বিজিএমইএ। বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, করোনার শুরুতে হোঁচট খেলেও অর্থবছরের শেষ দিকে রপ্তানি বেড়েছে। তাতে কাঁচামাল আমদানিও বেড়েছে। বন্দরের কনটেইনার পরিবহন বাড়ার ক্ষেত্রে এটি প্রভাব ফেলেছে।

গেল অর্থবছরে কনটেইনার পরিবাহিত পণ্যসহ মোট পণ্য পরিবহনেও প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে বন্দর দিয়ে ১১ কোটি ৩৭ লাখ টন পণ্য পরিবহন হয়। ২০১৯-২০ অর্থবছরে পরিবহন হয়েছিল ১০ কোটি ১৫ লাখ টন। এ হিসাবে পণ্য পরিবহনে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১২ শতাংশ। বন্দর জেটি ও বহির্নোঙর, কমলাপুর ডিপো ও পানগাঁও টার্মিনালে পণ্য পরিবহনের হিসাব করে এ তথ্য জানিয়েছে বন্দর।

দেশে এখন কনটেইনার পরিবহন হয় চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর দিয়ে। কনটেইনার পরিবহনের ৯৮ শতাংশই আনা-নেওয়া হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। তাতে এ বন্দরের গুরুত্ব বেশি। এমন পরিস্থিতিতে কনটেইনার পরিবহনের হার হঠাৎ বাড়লে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে কি না, তা নিয়েও শঙ্কা আছে। তবে বন্দর চেয়ারম্যান প্রথম আলোকে জানান, পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল এ বছরের ডিসেম্বরে যুক্ত হচ্ছে। তাতে কনটেইনার পরিবহনে প্রবৃদ্ধি হলেও সমস্যা হবে না। আর নিয়মিত যন্ত্রপাতি ও কনটেইনার রাখার জায়গা বাড়ানো হচ্ছে। বন্দরের সক্ষমতাও প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন