চাকরি পেলেন শুধু মা কিন্তু বেতন হয়নি

ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে ২০১৩ সালের ১৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী বয়রা গ্রামের শিশু রাব্বি (১০) গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য প্রশাসনিক দুর্বলতা স্বীকার করে রাব্বির বাবা, মা ও বড় ভাইকে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
কিন্তু ওই হত্যাকাণ্ডের তিন বছরে শুধু রাব্বির মায়ের স্থায়ী চাকরি হলেও বেতন আটকে আছে। উপাচার্য পরিবর্তন হওয়ায় বাকিদের চাকরি পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ১৬ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শামসুদ্দিন আল আজাদ ও সাধারণ সম্পাদক রফিকুজ্জামান ওরফে ইমনের পক্ষের মধ্যে শুরু হওয়া সংঘর্ষ টানা চার দিন চলে। ১৯ জানুয়ারি গুলিতে রাব্বি নিহত হয়। পরদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট ট্রেনিং ইনস্টিটিউট-সংলগ্ন মাঠে রাব্বির জানাজায় প্রায় দেড় হাজার মানুষ অংশ নেন। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য মো. রফিকুল হক রাব্বির পরিবারের তিনজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
সূত্র আরও জানায়, প্রশাসন রাব্বির বাবা দুলাল মিয়াকে পরিবহন শাখায় এবং মা মিনারা খাতুনকে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে মাস্টাররোলে চাকরি দেয়। রাব্বির ভাইয়ের বয়স ১৮ না হওয়ায় তাকে চাকরি দেয়নি প্রশাসন। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে রাব্বির মায়ের চাকরি স্থায়ী করা হয়। পরে রফিকুল হক পদত্যাগ করেন। ২৪ মে নতুন উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর ওই নিয়োগ বিশ্লেষণের জন্য তদন্ত কমিটি হয়। কমিটির সুপারিশে ১৭ আগস্ট বিজ্ঞাপনবহির্ভূত নিয়োগের কারণ দেখিয়ে রাব্বির মায়ের নিয়োগ বাতিল করে প্রশাসন। ২১ আগস্ট ‘চাকরি পেয়েও হারালেন নিহত রাব্বির মা’ শিরোনামে প্রথম আলোয় সংবাদ ছাপা হয়। পরে নিয়োগটি বহাল করে প্রশাসন।
রাব্বির মা বলেন, নিয়োগ স্থায়ী হওয়ার পর থেকে বেতন পাচ্ছেন না। প্রায় এক বছর হলো বেতন ছাড়াই চাকরি করছেন।
গতকাল সোমবার সকালে পরিবহন শাখায় গিয়ে দেখা যায়, দুলাল মিয়া কাজ করছেন। তিনি বলেন, ‘চাকরি দেওয়ার কথা বলে হত্যাকাণ্ডের মামলাটি বিভিন্ন কায়দায় তুলে নিতে বাধ্য করে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রশাসন। কিন্তু এখন আমার চাকরিও স্থায়ী করছে না। স্ত্রীর বেতনও আটকে রেখেছে।’
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবদুল মালেক বলেন, সন্তান হারানোর ক্ষতিপূরণ কিছুই হতে পারে না। অন্তত গরিব পরিবারটি যেন ভালোভাবে খেয়েপরে বাঁচতে পারে এটাই এলাকাবাসীর আশা। কিন্তু শিক্ষিত লোকদের কথা আর কাজের মধ্যে দেখি বিস্তর ফারাক! এখন তাদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় যা করছে, তা অমানবিক।
উপাচার্য আলী আকবর বলেন, রাব্বির মায়ের স্থায়ী নিয়োগটি নিয়ে আগের উপাচার্য ঝামেলা করেছিলেন। এটি সুরাহা করতে কিছুটা সময় লাগছে। তাঁকে মাস্টাররোলের বেতন দেওয়ায় তিনি তা নিচ্ছেন না। আর রাব্বির বাবার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শাখায় পদ শূন্য সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।