গত ২০ নভেম্বর বিমান আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিমান পর্ষদের চেয়ারম্যান সাজ্জাদুল হাসান বলেন, যাঁদের কারণে সম্প্রতি বিমানের শিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে, তাঁদের খুঁজে বের করতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। একই অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বলেন, বিমানের বিলম্ব হলে বা সেবায় কোনো বিঘ্ন ঘটলে দায়ী ব্যক্তিকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এরপর গত ২৪ নভেম্বর বিমানের পর্ষদ সভায় বিমান পরিচালনায় ‘বাধা সৃষ্টিকারী’ ককপিট ক্রুদের (স্পেশাল পে) বিষয়ে ‘সিদ্ধান্ত গ্রহণপূর্বক চাকরি থেকে অপসারণ, অবসায়ন ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের’ জন্য বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইওকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বিমানের পরিচালক (প্রশাসন) জিয়াউদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে জানানো হয়। এরপর ২৯ নভেম্বর ক্যাপ্টেন মাহবুবকে চাকরিচ্যুত করার চিঠিতে সই করেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

ওই চিঠিতে বলা হয়, অ্যাসোসিয়েশেন অব বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস লিমিটেডের আর্টিক্যাল ৫৯(বি)-এর ক্ষমতাবলে ব্যবস্থাপনা পরিচালক চাকরিচ্যুতির এই আদেশ দিয়েছেন। চাকরিজীবনের কোনো পাওনা থাকলে মাহবুবুর রহমানকে বিমানের হিসাব শাখা থেকে তা বুঝে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ওই চিঠিতে।

এ বিষয়ে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সালেহ মোস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা কোনো প্রেসিডেন্টকে টার্মিনেট করিনি। আমরা বিমানের একজন ক্যাপ্টেনকে টার্মিনেট করেছি।’ তিনি এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
করোনা পরিস্থিতিতে গত বছরের ৫ মে এক প্রশাসনিক আদেশে বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পাইলটদের বেতন কমানো হয়। এর মধ্যে পাইলটদের বেতন কমে ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত। বন্ধ হয় ওভারসিস অ্যালাউন্স, যা স্থায়ী বেতনের অংশ। ফলে মোট বেতন কমার হার দাঁড়িয়েছিল ৫৭ থেকে ৬৫ শতাংশ। এ ছাড়া বন্ধ হয় ওভারটাইম, প্রোডাকটিভিটি অ্যালাউন্স ও ফ্লাইং অ্যালাউন্স। এরপর চলতি বছরের মার্চের প্রথম সপ্তাহে বিমান বেতন কর্তনের হার ১০ শতাংশ কমিয়ে আনে।

এরপর গত ১৩ জুলাই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জারি করা এক আদেশে বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন সমন্বয় করে আগের নিয়মে বেতন-ভাতা দেওয়া হয়। তবে পাইলটদের বেতন-ভাতা কর্তন অব্যাহত থাকে।

বাপার পাইলটরা বলছেন, তাঁদের মোট বেতনের ৪৮ শতাংশ সমন্বয় করা বাকি আছে। গত তিন মাসে বিমানের অন্য কর্মকর্তা–কর্মচারীদের বেতন সমন্বয় করা হয়েছে, কিন্তু পাইলটদের বেতনের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা সমন্বয়ে বিমানের পাইলটেরা দাবি জানিয়ে আসছেন। বেতন-ভাতা নিয়ে অসন্তুষ্ট পাইলটরা গত ২৫ অক্টোবর থেকে তাঁদের চুক্তি অনুযায়ী কর্মঘণ্টার অতিরিক্ত সময় কাজ করা থেকে বিরত থাকেন। তাতে বিমানের বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বিলম্বিত হয়, দুর্ভোগে পড়েন আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের যাত্রীরা।

পাইলটদের সঙ্গে সে সময় বিমান কর্তৃপক্ষের দফায় দফায় আলোচনা হয়। সংগঠনের সভাপতি হিসেবে তাতে পাইলটদের নেতৃত্ব দেন ক্যাপ্টেন মাহবুব। সে সময় বিমানের পরিষদের সভায় বেতন কাটার বিষয়টি সমন্বয় করা হবে বলে পাইলটদের আশ্বাস দেওয়া হয়।

বাপা সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে ১৫৭ জন পাইলট আছেন। ক্ষুব্ধ পাইলটরা নির্ধারিত কর্মঘণ্টার বেশি দায়িত্ব পালন করতে চাচ্ছেন না। তাঁদের মাসে নির্ধারিত কর্মঘণ্টা হচ্ছে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ৬০ ঘণ্টা ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ৭৫ ঘণ্টা।

বাপা জানিয়েছে, ক্যাপ্টেন মাহবুব অক্টোবর ও নভেম্বর এ দুই মাসেই কর্মঘণ্টার চেয়ে অতিরিক্ত ১৫ ঘণ্টা ফ্লাই করেছেন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন