চালের চেয়ে খুদ ও ভুসির দাম বেশি

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বর্তমানে মানুষের খাবার চালের চেয়েও গো-খাদ্য খুদ ও ভুসির দাম বেশি। গো-খাদ্যের দাম এভাবে বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ কৃষক ও খামারিরা।
উপজেলার রায়গঞ্জ পৌরসভার ধানগড়া, চান্দাইকোনা ইউনিয়নের চান্দাইকোনা, ব্রহ্মগাছা ইউনিয়নের ব্রহ্মগাছা, ঘুড়কা ইউনিয়নের ভুইয়াগাঁতী ও ঘুড়কা এবং সোনাখাড়া ইউনিয়নের নিমগাছী হাট-বাজারে খোঁজ নিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ অবস্থা জানা যায়। সাধারণ মানুষ বর্তমানে যে চাল কিনছেন তার প্রতি কেজির দাম ২২ থেকে ২৪ টাকা। সরকারি উদ্যোগে বর্তমানে খোলাবাজারে ১৫ টাকা কেজিতে চাল বিক্রি হচ্ছে। অথচ গরুর খাবার হিসেবে ব্যবহার হওয়া চালের খুদ ২২ টাকা ও গমের ভুসি ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া পাঁচ-ছয় টাকা কেজির ধানের কুঁড়া বর্তমানে ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ধানগড়া বাজারের ব্যবসায়ী আবদুল লতিফ সরকার বলেন, পাইকারি বাজারের চেয়ে খুচরা বাজারে গো-খাদ্যের দাম আরেকটু বেশি। অথচ চালের দাম সব বাজারেই কম। ওই বাজারের আরেক ব্যবসায়ী শাকিল সরকার বলেন, বিভিন্ন পণ্যের দাম ওঠানামা করে। কিন্তু চালের চেয়ে গো-খাদ্যের দাম বেশি হওয়ার বিষয়টি অবাক করার মতো।
উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের বেতুয়া গ্রামের আজাহার আলী বলেন, গরুর খাবারের দাম অনেক বেশি। কিন্তু গরুর দুধের দাম কম। তাই দুধ বিক্রি করে খুদ-ভুসির দামও পাওয়া যায় না।
রণতিথা এলাকার বুলু সরকার বলেন, কৃষক ধান উৎপাদন করলে তার দাম থাকে না। বাজারে চালের দাম পড়তির দিকে হলেও গরুর খাবার খুদ আর ভুসির দাম বেড়েই চলেছে। বিষয়টি মারাত্মক বলে জানান তিনি।
রায়গঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের ভেটেরিনারি সার্জন আমীর হামজা বলেন, গো-খাদ্যের দাম বাড়লে সাধারণ কৃষক ও খামারিদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। কেন এভাবে দাম বাড়ছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তিনি জানান।