বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুত, সরবরাহ, আমদানি ও মূল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং স্থিতিশীল রাখাবিষয়ক বৈঠকে সরকারি সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

এতে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) সহকারী প্রধান মাহমুদুল হাসান যে উপস্থাপনা তুলে ধরেন তাতে দেখা যায়, ঠিক এক বছর আগের তুলনায় এখন দেশে খোলা ও বোতলজাত ভোজ্যতেলের দাম ৩৮ থেকে ৭০ শতাংশ বেশি। চিনির দাম বেড়েছে ২৬ শতাংশ। দেশি পেঁয়াজের দাম খুব একটা বাড়েনি। তবে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম বেড়েছে প্রায় ৩১ শতাংশ। দেশি রসুনের দাম কমেছে প্রায় ২৪ শতাংশ। তবে বাজারের মোট চাহিদার বড় অংশ পূরণ হয় আমদানি করা রসুন দিয়ে। এ রসুনের দাম বেড়েছে ৬৪ শতাংশ। স্বস্তি আছে আদার দামে।

চালের দাম গত বছরই অনেক চড়া ছিল। তার চেয়ে এখন আরও কিছুটা বেশি, যা উঠে আসে ট্যারিফ কমিশনের উপস্থাপনায়। উল্লেখ্য, এবার বোরো মৌসুমে ভালো ফলনও চালের দামে স্বস্তি আনতে পারেনি।

এই যখন পরিস্থিতি, তখন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বৈঠক শেষে একটি কোম্পানির শীর্ষস্থানীয় এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, সয়াবিন তেলের লিটারপ্রতি দর আরও প্রায় ১৫ টাকা বাড়ানোর একটি প্রস্তাব ৫ আগস্ট জমা দেওয়া হয়েছে। তবে মন্ত্রণালয় থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এ মাসে দাম বাড়ানো যাবে না। এ জন্য তাঁরা আগামী মাসের অপেক্ষায় রয়েছেন। তিনি আরও বলেন, বিশ্ববাজারে চিনির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। চিনির দাম বাড়ানোর প্রস্তাবও দেওয়া হবে।

বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেল ও চিনির দাম বেড়ে যাওয়ায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একাধিক দফা চিঠি দিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) কর কমানোর অনুরোধ করেছিল। তবে কর কমেনি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিশ্ববাজারে দাম যেহেতু অনেক বেড়ে গেছে, তাতে তেল-চিনি থেকে সরকারের রাজস্ব আদায়ও বেড়েছে। এক কেজি চিনিতে এখন কর দাঁড়াচ্ছে ২৮ টাকার মতো। সরকার এখন করে ছাড় দিলেও রাজস্ব আদায় আগের চেয়ে কমবে না।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হলো জানতে চাইলে সচিব তপন কান্তি ঘোষ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ব্যবসায়ীদের নিয়ে বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছি। ওইভাবে কোনো সিদ্ধান্তের কথা বলা যাচ্ছে না। ব্যবসায়ীদের নিয়মনীতি মেনে ব্যবসা করার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছি। তাঁরাও আমাদের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।’

বাণিজ্যসচিব জানান, মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে পণ্যমূল্যের ক্ষেত্রে অনেক কার্যকারণ (ফ্যাক্টর) কাজ করে। তবে ব্যবসায়ীরা বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে যতটুকু বাড়বে, সে অনুযায়ী হিসাব করে যতটুকু বৃদ্ধি অভ্যন্তরীণ বাজারে হওয়া উচিত, সেটাই তাঁরা করবেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, চিনির খুচরা মূল্য আপাতত ৭৫ টাকা থেকে ৮০ টাকার মধ্যেই থাকবে বলে আলোচনা হয়েছে। আর ভোজ্যতেলের দাম আগে যেটা নির্ধারণ করা হয়েছিল, সেটাই থাকবে। শোকের মাস বিবেচনায় এ মাসে নতুন করে দাম বাড়ানোর সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ালেও তা পরে বিবেচনা করা হবে।

করোনাকালে বহু মানুষের আয় কমেছে। একটু কম দামে পণ্য পেতে লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ভ্রাম্যমাণ ট্রাক ও খোলা বাজারে চাল বিক্রি কর্মসূচির সামনে। সেখানে অনেক মানুষকে ফিরে যেতে হয় পণ্য না পেয়ে। আবার গ্রামের মানুষ এসব কর্মসূচির বাইরে থেকে যায়। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য চড়া দামেই কিনতে হচ্ছে বেশির ভাগ মানুষকে।

কারওয়ান বাজারের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করেন আবদুর রাজ্জাক। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘আগে ৯ হাজার টাকা বেতন পাইতাম। এখন দেয় সাড়ে ৬ হাজার টাকা। করোনার কারণে বেতন কমাইয়া দিছে। চাল, ডাল, তেল ও চিনির দাম বাইড়া গেছে। সংসার যে কিরাম কষ্টে চালাইতাসি, তা বইলা বুঝাইতে পারুম না।’

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন