default-image

বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্ভাবন, চিকিৎসা, রোগী ব্যবস্থাপনা ও রোগ প্রতিরোধে নানা সাফল্য রেখেছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি)। এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি ৬০ বছর পার করেছে। ওরস্যালাইন, ডায়রিয়া চিকিৎসায় জিংকের ব্যবহার, শিশুদের তীব্র অপুষ্টির চিকিৎসাপদ্ধতি, জনসংখ্যার ভারে ন্যুব্জ বাংলাদেশের জন্য পথসঞ্চারী গবেষণা, মুখে খাওয়া কলেরার টিকা—৬০ বছরে একের পর এক সাফল্যের পালক যুক্ত হয়েছে আইসিডিডিআরবির মুকুটে। এর স্পর্শে বেঁচেছে কোটি প্রাণ।

কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশসহ বিশ্বের নানা দেশের কোটি কোটি শিশুর জীবন বাঁচিয়েছে ওরস্যালাইন। সহজ এবং লোকায়ত পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রাণরক্ষাকারী এই খাবার স্যালাইন আইসিডিডিআরবির গবেষণার ফল। আইসিডিডিআরবি চিকিৎসাসেবা, গবেষণা এবং প্রশিক্ষণে এর দক্ষতা গড়ে তুলেছে। এর মাধ্যমে বিস্ময়কর সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

আইসিডিডিআরবিতে এমন নানা উদ্ভাবন, গবেষণা এখনো হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির জন্য ১ ফেব্রুয়ারি ছিল একটি বিশেষ দিন। ওই দিন নির্বাহী পরিচালক হিসেবে এই প্রথম কোনো বাংলাদেশি দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি তাহমিদ আহমেদ। এ প্রতিষ্ঠানের কাজ নিয়ে তাহমিদ আহমেদ বলছিলেন, ‌‘আমাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা ও আবিষ্কার এখনো প্রায়োগিক পর্যায়ে রয়েছে, যেগুলো অপুষ্টিজনিত সমস্যা, নিউমোনিয়া, মাতৃমৃত্যুরোধসহ অনেক সমস্যা মোকাবিলায় সহায়ক হবে। এসব সাফল্য নিঃসন্দেহে গৌরবের, যা শুধু আইসিডিডিআরবির একার নয়, বাংলাদেশের মানুষ এবং বাংলাদেশ সরকার ও এই গৌরবের সমান দাবিদার।’

বিজ্ঞাপন

শুরুর কথা

১৯৬০ সালের ৫ ডিসেম্বর তৎকালীন সাউথ এশিয়ান ট্রিটি অর্গানাইজেশন (সিয়াটো) এবং যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের (এনআইএইচ) অধীনে ঢাকায় কলেরা রিসার্চ ল্যাবরেটরি নামের একটা ছোট গবেষণাগার প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীকালে ১৯৭৮ সালে একটি সরকারি অধ্যাদেশের মাধ্যমে এটি ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডায়ারিয়াল ডিজিজ রিসার্চ, বাংলাদেশে (আইসিডিডিআরবি) পরিণত হয়। ১৯৭৯ সালে জেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি সভায় ইউএনডিপির সভাপতিত্বে ২৬টি উন্নয়নশীল ও উন্নত দেশ এবং উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধির ভোটের মাধ্যমে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে আইসিডিডিআরবি অনুমোদন লাভ করে।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) চেয়ারম্যান ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নবজাতক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লা প্রথম আলোকে বলেন, ‌‘গবেষণার কাজ মানবকল্যাণে ব্যবহারের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আইসিডিডিআরবি। দেশের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যার ক্ষেত্রে সরকারের নীতি পরিবর্তনে অনবদ্য অবদান এ প্রতিষ্ঠানের। এর ব্যাপ্তি দেশের সীমা ছাড়িয়ে বিস্তৃত হয়েছে নানা দেশে।’

আইসিডিডিআরবি গবেষণা ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে ছয় দশকে যেসব অবদান রেখেছে, তার মধ্যে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের কথা উল্লেখ করেছেন নির্বাহী পরিচালক তাহমিদ আহমেদ।

default-image

খাওয়ার স্যালাইনের উদ্ভাবন

বর্তমানে খাওয়ার স্যালাইন বা ওআরএস নামে পরিচিত ওরাল রিহাইড্রেশন থেরাপির (ওআরটি) প্রথম সফল গবেষণার ফলাফল ১৯৬৮ সালে বিজ্ঞান সাময়িকী দ্য ল্যানসেট-এ প্রকাশিত হয়। পরবর্তী এক দশকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, ইউএনডিপিসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা কোটি কোটি প্যাকেট খাওয়ার স্যালাইন, এর তৈরি ও ব্যবহারবিধি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়।

২০০৭ সালে গবেষক ফন্টেইন, গার্নার ও ভনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৮২ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত খাওয়ার স্যালাইন সারা বিশ্বে বছরে ৪০ লাখ হিসেবে প্রায় ৫ কোটি শিশুর জীবন বাঁচিয়েছে। এ হিসাবে ২০১৯ পর্যন্ত খাওয়ার স্যালাইনের ব্যবহার ৭ কোটিরও বেশি শিশুর জীবন বাঁচিয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

২০১২ সালের জুন মাসে দ্য ল্যানসেট খাওয়ার স্যালাইনকে ‘বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসংক্রান্ত আবিষ্কার’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

default-image

জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফলতা

জনসংখ্যার ভারে ভারাক্রান্ত বাংলাদেশের জন্মনিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম অনেক দেশের কাছেই শিক্ষণীয়। তবে এ সাফল্য এক দিনে আসেনি। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে আইসিডিডিআরবির মাঠপর্যায়ের কাজের সাফল্য এ দেশকে পথ দেখিয়েছে—এ কথা স্বীকার করেন জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞরা। আইসিডিডিআরবি চাঁদপুরের মতলবে মা ও শিশু স্বাস্থ্য এবং পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম শুরু করে ১৯৭৭ সালে। এর সফলতার কারণে অতি দ্রুতই বাংলাদেশ সরকার এটি দেশব্যাপী বাস্তবায়ন করে। আইসিডিডিআরবি দেখিয়েছিল, যদি ঘরে ঘরে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের কথা প্রচার করা যায়, তবে সাফল্য আসে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জনসংখ্যা গবেষণা প্রতিষ্ঠান পপুলেশন কাউন্সিলের দেশীয় পরিচালক ওবায়দুর রব প্রথম আলোকে বলেন, ‌‘আইসিডিডিআরবির অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজের মধ্যে যদি দুটি উজ্জ্বলতম অবদানের কথা উল্লেখ করি, তাহলে তা হবে ওরস্যালাইন ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম। বাংলাদেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে এ প্রতিষ্ঠানটি পথের দিশারি।’

জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞ ওবায়দুর রব জানান, মতলবের সাফল্যের পর সরকারিভাবে আইসিডিডিআরবির মডেল গ্রহণ করা হয়। যশোরের অভয়নগর ও সিরাজগঞ্জে তা পরীক্ষামূলকভাবে পরিচালনা করে বিপুল সাফল্য পাওয়া যায়।

পরবর্তীকালে সারা দেশে এর কার্যক্রম বিস্তৃত করা হয়, এর ফলে বিস্ময়করভাবে বাংলাদেশের মোট প্রজননহার ৬ দশমিক ৩ থেকে হ্রাস পেয়ে ২০১৬ সালে মাত্র ২ দশমিক ১-এ এসে দাঁড়ায়। অর্থাৎ আগে যেখানে সন্তান জন্মদানক্ষম একেকজন নারী গড়ে ৬টি সন্তান জন্ম দিতেন, সেটি এখন কমে দুই-এর মতো দাঁড়িয়েছে।
শুধু দেশের ভেতরেই নয়। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে আইসিডিডিআরবির সাফল্য বাংলাদেশের সীমানা অতিক্রম করে বিদেশেও সফলতা এনেছে। ঘানা সফলতা পেয়েছে মতলব মডেল বাস্তবায়ন করে। এরপর পার্শ্ববর্তী অন্যান্য আফ্রিকার দেশেও এর বাস্তবায়ন শুরু হয়।

default-image

মুখে খাওয়ার কলেরা টিকার সূচনা

১৯৮৫ সালে মতলবে প্রথমবারের মতো মুখে খাওয়ার কলেরার টিকার ওপর গবেষণা শুরু হয়। এর ফলে সহজে টিকা দেওয়া যায় এবং সাশ্রয়ী মূল্যে মুখে খাওয়ার কলেরার টিকা (ওসিভি) তৈরি হয়, যা এখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মজুত করছে। তাদের এই মজুত থেকে বিভিন্ন দেশ কলেরা টিকা পেয়েছে এবং লাখ লাখ মানুষের জীবন বেঁচেছে। আইসিডিডিআরবি বাংলাদেশের একটি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানে কলেরা টিকা তৈরির প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও প্রযুক্তি সরবরাহে সহায়তা করেছে। এখন বাংলাদেশেই কলেরার টিকা প্রস্তুত হচ্ছে।

কলেরার টিকার ক্ষেত্রে আইসিডিডিআরবি এবং প্রতিষ্ঠানটির জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ফেরদৌসী কাদরীর ভূমিকার কথা স্মরণ করেছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। তাঁর কাছে কাদরী ‌‘মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নায়ক’।

গত বছরের ৬ অক্টোবর নিজের ব্লগিং সাইট ‘গেটস নোটসে’ বিল গেটস লিখেছেন, ‌‘২০১১ সালে ড. কাদরী ও আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) গবেষক দল নতুন ও আরও সাশ্রয়ী মুখে খাওয়ার কলেরা টিকা “স্যাংকল”-এর সম্ভাব্যতা নিয়ে একটি সমীক্ষা চালান। ওই গবেষণার অংশীদার ছিল আমাদের ফাউন্ডেশন। গবেষণায় দেখা যায়, সাশ্রয়ী মূল্যের ওই টিকা দরিদ্র ও শহুরে পরিবেশে কলেরার বিস্তার রোধে কার্যকর হাতিয়ার হতে পারে। টিকাটি সেখানকার মানুষকে কলেরার বিরুদ্ধে ৫০ শতাংশের বেশি সুরক্ষা দেয়।’
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ের কলেরার টিকা কর্মসূচির ব্যাপক প্রসারের কারণে ২০১৮ সালে বৈশ্বিক পর্যায়ে কলেরা সংক্রমণ ৬০ শতাংশ কমে এসেছে। অবশ্য, ২০১৯ সালে কলেরার সংক্রমণ আবার বাড়লেও মোট মৃত্যু ৩৬ শতাংশ কমেছে।

ফেরদৌসী কাদরী কলেরা টিকা গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সম্পর্কে বলেছেন, কলেরা টিকার গবেষণায় সব সময় প্রাধান্য পেয়েছে যেন টিকাটি মুখে গ্রহণ করা যায়, টিকাটি যেন সব ধরনের পরিবেশে সহজে ব্যবহার করা হয়, সুলভ হয় এবং বেশি মানুষকে সুরক্ষা দিতে পারে। এর পাশাপাশি, কলেরা প্রাদুর্ভাবপ্রবণ এলাকায় সম্ভাব্য মহামারি ঠেকানোর উপায় বের করাও এই টিকা নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

বিজ্ঞাপন
default-image

কলেরা টিকার বৈষম্যমূলক ব্যবহারের সমাপ্তি

একসময় উন্নয়নশীল দেশের জনগণের জন্য উন্নত দেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক কলেরা টিকা গ্রহণের শর্ত ছিল। টিকা না নিয়ে উন্নত দেশে পা রাখতে পারত না বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল অনেক দেশের মানুষ। এ ছিল অনেক বড় একটি বৈষম্য।
১৯৭০ সালে আইসিডিডিআরবির বিজ্ঞানীরা দেখেন, তখন ব্যবহৃত ইনজেক্টেবল কলেরা টিকার কার্যকারিতা আসলে কম। এরই প্রেক্ষাপটে ২৬তম ওয়ার্ল্ড হেলথ অ্যাসেম্বলিতে (১৯৭৩) এ টিকার ব্যবহার বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়। এর ফলে টিকার বৈষম্যমূলক ব্যবহার বন্ধের পাশাপাশি সাশ্রয় হলো কোটি কোটি টাকার।

মা ও নবজাতকের ধনুষ্টঙ্কার নির্মূল

১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞানীরা গবেষণায় দেখেন, গর্ভধারণের আগে মেয়েদের ধনুষ্টঙ্কারের (টিটেনাস) টিকা দেওয়া হলে ধনুষ্টঙ্কারের কারণে নবজাতকের মৃত্যুর হার ৭৫ শতাংশ কমে যায়। এই গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা বিশ্বের ৫৩টি দেশের ১৫ কোটিরও বেশি নারীকে ধনুষ্টঙ্কারের টিকা দেয়। ফলে ৪৭টি দেশ থেকে এই রোগ নির্মূল হয়েছে।

শিশুর তীব্র অপুষ্টির চিকিৎসাপদ্ধতি

বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স’-এর তথ্য, তীব্র অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের জন্য আইসিডিডিআরবির উদ্ভাবিত চিকিৎসাপদ্ধতি শিশুমৃত্যুর হার ২০ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। এই গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই অঞ্চলের শিশুদের তীব্র অপুষ্টির ক্ষেত্রে চিকিৎসাপদ্ধতিটির অনুমোদন দিয়েছে।
এ ছাড়া সম্প্রতি আরেকটি নতুন গবেষণায় অপুষ্টি মোকাবিলায় জীবাণুর (মাইক্রোব) ভূমিকা বা মাইক্রোবায়োটা ডিরেক্টেড কমপ্লিমেন্টারি ফুড (এমডিসিএফ) সংক্রান্ত আইসিডিডিআরবি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণাকে সায়েন্স জার্নাল ২০১৯ সালের বিশেষ ১০টি বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির একটি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই গবেষণা ভবিষ্যতে শিশুদের অপুষ্টির চিকিৎসায় আমূল পরিবর্তন ঘটাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডায়রিয়া চিকিৎসায় জিংকের ব্যবহার

২০০২ সালে আইসিডিডিআরবি বিজ্ঞানীরা দেখান, ডায়রিয়া চিকিৎসায় জিংকের ব্যবহার শিশুদের মৃত্যুহার কমায়। ২০০৪ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ইউনিসেফ ডায়রিয়া চিকিৎসায় খাওয়ার স্যালাইনের পাশাপাশি জিংক ব্যবহারকে একমাত্র চিকিৎসাপদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এটি অনেক উন্নয়নশীল দেশকে শিশুমৃত্যু কমাতে উল্লেখযোগ্যভাবে সহায়তা করেছে।

default-image

ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা মা ও নবজাতকের অসুস্থতা কমায়

২০০৮-১০ সালে বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন, গর্ভবতী নারীদের ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা দেওয়া হলে এটি ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের অসুস্থতা ৬৩ শতাংশ কমাতে পারে এবং মা-শিশুর মধ্যে শ্বাসপ্রশ্বাসের সংক্রমণ এক-তৃতীয়াংশ কমায়। এর ফলে নবজাতকের জন্মের সময়ের ওজনও বাড়ে। এই গবেষণার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গর্ভবতী নারীদের ফ্লু টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেয়। ২০১২ সালে গবেষণাটি কানাডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন জার্নালের ব্রুস স্কোয়ারস পুরস্কার পেয়েছে।

পোলিও নির্মূলের বৈশ্বিক প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নেওয়া

আইসিডিডিআরবির বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন, পোলিও টিকার (বিওপিভি, এমওপিভি ১, এমওপিভি ২ ও এফআইপিভি) ভিন্ন ভিন্ন ডোজ এবং ডোজগুলোর মধ্যে সময়ের পরিবর্তন এনে টিকার কার্যকারিতা বেশি পাওয়া যায়। এই ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পাকিস্তান, আফগানিস্তান, সিরিয়া, লাওস, ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, বাংলাদেশ এবং অন্যান্য পোলিও প্রাদুর্ভাব আছে এমন দেশগুলোতে পোলিও টিকাদান কর্মসূচির সংশোধন করে। গবেষণার ফলাফল টাইপ-২ পোলিও ভাইরাস নির্মূলের বৈশ্বিক উদ্যোগ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গবেষণার ওপর প্রকাশিত নিবন্ধ ২০১৬ ও ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) চার্লস সি শেফার্ড বিজ্ঞান পুরস্কার পায়।

শিশুর তীব্র নিউমোনিয়া চিকিৎসায় বাবল-সিপ্যাপ আবিষ্কার

২০১৫ সালে বিজ্ঞানীরা শিশুদের তীব্র নিউমোনিয়া ও হাইপোক্সিমিয়া চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য অত্যন্ত কম খরচে প্রস্তুত বাবল-সিপ্যাপ আবিষ্কার করেন। আক্রান্ত শিশুকে অক্সিজেন সরবরাহের এই পদ্ধতি হাজার হাজার শিশুর অকালমৃত্যু রোধ হয়েছে। বাংলাদেশ এবং ইথিওপিয়ায় বর্তমানে এর ওপর বড় পরিসরে গবেষণা চলছে। এরই মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কোভিড-১৯ আক্রান্ত শিশুদের নিউমোনিয়া ও হাইপোক্সিমিয়া চিকিৎসায় ‘নন-ইনভেসিভ ভেন্টিলেশন’ পদ্ধতি হিসেবে বাবল-সিপ্যাপ অক্সিজেন থেরাপিকে অনুমোদন দিয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন