জঙ্গল সলিমপুরে 'সাম্রাজ্য' সম্পর্কে জানত না প্রশাসন!

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে সরকারি পাহাড় দখল করে ব্যাপক বসতি গড়ে ওঠায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী। তিনি বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে ক্যাসিনো নাকি তাজমহল বানিয়েছে সেটা বিষয় নয়। কীভাবে হয়েছে সেটা বিষয়। এভাবে তো মুসা বিন শমসেরও পারবে না! তিনি ৫৬ হাজার কোটি টাকার মালিক।

গতকাল সোমবার দুপুরে বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলনকক্ষে শক্তিশালী পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির ১৭তম সভায় জেলা প্রশাসক এভাবে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। এর আগে সভায় বক্তব্য উপস্থাপন করতে গিয়ে সীতাকুণ্ডের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল ইসলাম ভূঁইয়া জঙ্গল সলিমপুরে পাহাড় কেটে অবৈধ বসতির বিষয়টি উত্থাপন করেন।

নাজমুল ইসলাম সভায় বলেন, ওখানে পাহাড়ের ভেতরে আরেক সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে। ওই সাম্রাজ্যে লোকজন নিজেদের মতো করে রাস্তা তৈরি করছে, পাহাড় কাটছে। বৈদ্যুতিক-সংযোগ আছে। এমন ক্ষমতাবান সাম্রাজ্য যে, সেখানের একটি অংশে স্থানীয় চেয়ারম্যানেরাও যেতে ভয় পান। ওখানে ভোলা, বরিশাল, লক্ষীপুর, নোয়াখালীসহ বিভিন্ন এলাকার লোকজন এসে বসতি গড়েছেন।

এ সময় জেলা প্রশাসক জিল্লুর রহমান মাইক টেনে নিয়ে বলেন, ‘আপনি পৌনে দুই বছর সীতাকুণ্ডের ইউএনও। এই সময়ে আপনি একটি রিপোর্ট কিংবা নোট দেননি কেন? সরকারি পাহাড় কেটে এভাবে সাম্রাজ্য গড়ে তুলবে। আমাদের কী কিছুই করার নেই। আমরা নীরবে করতে দিলাম কেন? সে যত ক্ষমতাবান হবে হোক, আমাদের কাজ আমাদেরকে তো করতে হবে।’

এরপর বিভাগীয় কমিশনার মো. রুহুল আমীন সভায় বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে অবৈধভাবে বসতি যারাই গড়ে তুলক, তাদের সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিরোধ করতে হবে।

গতকালের সভায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন পাহাড় থেকে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি উচ্ছেদ, বিভিন্ন সেবা-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া নগরের বিভিন্ন পাহাড়ের ৬৮৪টি পরিবারকে উচ্ছেদ করে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে পুনর্বাসনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় কমিশনার।

পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যসচিব অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আবদুল জলিল বলেন, চট্টগ্রাম নগরে ৬৮৪টি পরিবার অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে রয়েছে। এই পরিবারগুলোর সদস্যসংখ্যা ৩ হাজারের আশপাশে হবে।

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, পুনর্বাসনের জন্য তালিকা করে যাচাই-বাছাই করা হবে। অচিরেই পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকারি সংস্থাগুলোকে নিজ  মালিকানাধীন পাহাড় থেকে বসতি উচ্ছেদ করতে হবে। প্রয়োজনে জেলা প্রশাসন সহায়তা করবে।

সভায় সহকারী কমিশনার ভূমি (সদর) আছিয়া খাতুন বলেন, বিভিন্ন পাহাড়ে অভিযান চালানোর সময় দেখা গেছে, ওখানে অবৈধ বিদ্যুৎ ও গ্যাস-সংযোগ রয়েছে। উচ্ছেদ করার পর পুনরায় এসব সংযোগ দেওয়া হয়।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা ইসরাত রেজা বলেন, মতিঝর্না পাহাড়টি রেলওয়ের মালিকানাধীন। ওই পাহাড় কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি। তাই ওখানকার সব বসতিই অবৈধ। সে হিসেবে সকল সেবা-সংযোগও অবৈধ।

জেলা প্রশাসক সভায় বলেন, কী কারণে পাহাড়ধস হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকেরা তা গবেষণা করবেন। কিন্তু প্রতিবেদনের জন্য বসে থাকলে হবে না। উচ্ছেদ কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে।