টিকা তৈরি
জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট সক্ষমতা হারিয়েছে
একসময় আইপিএইচ টিকা রপ্তানি করত। মূল্যায়নকে গুরুত্ব দিয়ে আগামী দিনের করণীয় নির্ধারণ করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞের।
টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা হারিয়েছে সরকারের জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট (আইপিএইচ)। টিকা তৈরির ভৌত অবকাঠামো নেই। নষ্ট হয়ে গেছে যন্ত্রপাতি। উপযুক্ত জনবল নেই। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে লেখা চিঠিতে এসব কথা বলেছেন ইনস্টিটিউটের পরিচালক।
১১ মে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক তানভীর আহমেদ চৌধুরীর চিঠির বিষয় ছিল জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে করোনার টিকা ও সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত টিকা উৎপাদন। সূত্র জানিয়েছে, একই চিঠি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকেও পাঠানো হয়েছে।
দেশের মানুষকে করোনার টিকা দেওয়ার জন্য সরকার নানা ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে। একাধিক দেশ থেকে সরকার টিকা কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি দেশে করোনার টিকা উৎপাদন করার জন্য একাধিক দেশের সঙ্গে আলোচনাও অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠানে টিকা উৎপাদন করা সম্ভব কি না, সেই আলোচনাও আছে। জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের টিকা উৎপাদনের অভিজ্ঞতা আছে।
এ ব্যাপারে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বক্তব্যের জন্য মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
ছিল অনেক কিছু, এখন নেই
জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে ১৯৫৮ সালে গুটিবসন্তের টিকা উৎপাদন শুরু হয়। একই সময়ে টাইফয়েড ও কলেরার টিকা উৎপাদন শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। ওই সময় প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত টিকা এশিয়ার বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হতো। ১৯৭৮ সালে গুটিবসন্তের এবং ১৯৯৭ সালে টাইফয়েড ও কলেরার টিকা উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
অন্যদিকে ১৯৭২ সালে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট জলাতঙ্ক রোগের টিকা উৎপাদন শুরু করে। তা অব্যাহত ছিল ২০১১ সাল পর্যন্ত।
১৯৭৮ সালে ধনুষ্টঙ্কার ও ডিফথেরিয়া–ধনুষ্টঙ্কারের টিকা তৈরি শুরু হয়। এই টিকা সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে (ইপিআই) ব্যবহার করা হতো। ডিফথেরিয়া–ধনুষ্টঙ্কারের টিকার উৎপাদন ১৯৮৭ সালে বন্ধ হয়ে যায়। ধনুষ্টঙ্কারের টিকা উৎপাদন বন্ধ হয় ২০০৪ সালে।
বিশ্ব থেকে গুটিবসন্ত নির্মূল হওয়ার কারণে এর টিকা উৎপাদনের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে আসে। অন্য টিকাগুলোর ক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
প্রতিষ্ঠানের পরিচালক চিঠিতে বলেছেন, ভৌত অবকাঠামো টিকা তৈরির জন্য উপযুক্ত পরিস্থিতিতে নেই। কিছু অবকাঠামো অন্য কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে টিকা তৈরির যন্ত্রপাতি অব্যহৃত থাকার কারণে নষ্ট হয়ে গেছে। কিছু যন্ত্রপাতি আধুনিক প্রযুক্তিতে টিকা তৈরির উপযুক্ত নয়।
জনবল প্রসঙ্গে চিঠিতে বলা হয়েছে, জনবল বেশির ভাগ জ্যেষ্ঠ পদমর্যাদার। কারিগরি ও ব্যবস্থাপনার জনবল বেশির ভাগ অবসরে গেছেন। জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে পদের সংখ্যা ৮৬৬। এর মধ্যে ৩০০ পদ শূন্য।
এই পরিস্থিতিতে করোনার টিকা বা অন্য টিকা উৎপাদনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের কথা বলেছেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। তিনি বলেছেন, অবকাঠামো সংস্কার ও পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন অবকাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন। এ ছাড়া যন্ত্রপাতি কেনার পাশাপাশি জনবল নিয়োগ ও নতুন পদ সৃষ্টি করতে হবে।
১৯৬৫ সালে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন বিশিষ্ট ভাইরোলজিস্ট ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা নিয়ে প্রতিষ্ঠানের পরিচালকের মূল্যায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। নীতিনির্ধারকদের কাজ হবে এই মূল্যায়নকে গুরুত্ব দিয়ে আগামী দিনের করণীয় নির্ধারণ করা।