জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, আকুরটাকুর পাড়া মৌজায় ৬৬ শতাংশ অর্পিত সম্পত্তিভুক্ত জমি ১৯৭২ সালে তৎকালীন গণপরিষদ সদস্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বার্ষিক ভাড়ায় ইজারা নেন। ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত তিনি ভাড়া পরিশোধ করতেন। একপর্যায়ে লতিফ সিদ্দিকী নিজেই ওই জমির মালিকানা দাবি করে আদালতে মামলা করেন। মামলায় নিম্ন আদালতে তিনি ডিগ্রি পান। সরকারপক্ষ জেলা জজ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে লিভ টু আপিল করে। সরকারের পক্ষে রায় দেন আদালত। পরে লতিফ সিদ্দিকী উচ্চ আদালতে সরকারের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন। সুপ্রিম কোর্টও সরকারের পক্ষে রায় দেন।

লতিফ সিদ্দিকীর দখল থেকে গত ২৪ জানুয়ারি জমিটি উদ্ধার করে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসন জমিটিতে একটি পার্ক স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়। পার্কটি বঙ্গবন্ধুর ছেলে শেখ রাসেলের নামে ‘শেখ রাসেল শিশুপার্ক’ করার ঘোষণা করা হয়। পরে জমিটি টাঙ্গাইল পৌরসভাকে ইজারা দেওয়া হয়। পৌরসভা সেখানে কাঁচাবাজার করার সিদ্ধান্ত নেয়। ওই জায়গায় ৬৭টি দোকান এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য উন্মুক্ত শেড নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বটতলা বাজারটি রাস্তার ওপরে বসে, এ জন্য স্থানান্তর প্রয়োজন। কিন্তু সেটি সদর সড়কের পাশে স্থানান্তর করা হলে আরও বেশি অসুবিধার সৃষ্টি হবে। বাজার স্থাপনের নকশা করা হলেও সেখানে পার্কিং ব্যবস্থা নেই। ফলে বাজারে মালামাল আনা–নেওয়ার গাড়ি এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের গাড়ি এলে সদর সড়ক এবং উত্তর পাশে তালতলা সড়কে প্রতিনিয়ত যানজট লেগে থাকবে। এ ছাড়া আবাসিক এলাকায় কাঁচাবাজার হলে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হবে। তাই সেখানে পার্ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এলাকার বাসিন্দা আইনজীবী রফিকুল ইসলাম জানান, এখানে বাজার স্থাপন হলে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হবে, জনভোগান্তি বাড়বে।

গত বৃহস্পতিবার ওই স্থানে গিয়ে দেখা যায়, পশ্চিম প্রান্তে দোকান নির্মাণকাজ চলছে। দোকানের প্রাচীর ৩–৪ ফুট করে উঠে গেছে। অন্য প্রান্তে মাটি সমানকরণের কাজ চলছে।

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গনি জানান, জমিটি উদ্ধার করার পর সেখানে ‘শেখ রাসেল শিশুপার্ক’ স্থাপনের পরিকল্পনা হয়েছিল। কিন্তু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জমিটিতে পার্ক স্থাপন না করে অন্য কোনো জনস্বার্থে ব্যবহারের পরামর্শ দেয়। এ ছাড়া অর্পিত ‘ক’ তফসিলভুক্ত সম্পত্তি সরকারি কোনো দপ্তরকে স্থায়ীভাবে দেওয়ার বিধান নেই। এ ছাড়া জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় উদ্ধারকৃত জায়গাটিতে বটতলা বাজার স্থানান্তরের দাবি ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে। পরে অস্থায়ীভাবে শর্ত সাপেক্ষে পৌরসভাকে জমিটি বার্ষিক ভাড়ায় ইজারা দেওয়া হয়।

টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এস এম সিরাজুল হক জানান, শহরের বটতলা বাজারটি রাস্তার ওপরে বসে। ওই বাজার স্থানান্তরের দাবি দীর্ঘদিনের। জেলা প্রশাসন কর্তৃক উদ্ধার হওয়া জায়গাটি পৌরসভা বার্ষিক ভাড়ায় ইজারা নিয়েছে। জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভায় সর্বসম্মতিভাবে বটতলা কাঁচাবাজারটি ওই জায়গায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেখানে মানসম্মত ও পরিচ্ছন্ন কাঁচাবাজার স্থাপনের কাজ চলছে।