জরাজীর্ণ ঘরে পাঠদান

নাজুক অবকাঠামোর কারণে সন্তানদের এই প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে চান না অভিভাবকেরা। প্রায় ফাঁকা শ্রেণিকক্ষ l প্রথম আলো
নাজুক অবকাঠামোর কারণে সন্তানদের এই প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে চান না অভিভাবকেরা। প্রায় ফাঁকা শ্রেণিকক্ষ l প্রথম আলো

মাত্র ৪ শতাংশ জায়গা। তার অর্ধেক আবার অন্যের দখলে। বাকি ২ শতাংশে রয়েছে একটি টিনের ঘর। তা-ও সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে সেই ঘরেই চলছে পাঠদান।
বরিশাল নগরের পি কে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র এটি। শ্রেণিকক্ষসংকট ও নাজুক অবকাঠামোর কারণে ১৬৬ বছরের পুরোনো এই প্রতিষ্ঠানে অভিভাবকেরাও এখন তাঁদের সন্তানদের পাঠাতে চান না।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৮৪৮ সালে তৎকালীন বরিশাল নগরের কালীবাড়ি সড়কে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরে জমিদার বিজয় বর্মণের স্ত্রী সুখদা সুন্দরী বিদ্যালয়ের জন্য এখানে জমি বরাদ্দ দেন। তবে কোন সালে এটি স্থানান্তর করা হয়, তা কেউ জানাতে পারেননি। বরিশাল বিভাগ ও সিটি করপোরেশনে উন্নীত হওয়ার পর নগরের সর্বত্র উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে। কিন্তু ছোঁয়া লাগেনি এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে দীর্ঘদিনেও এই বিদ্যালয়ের কোনো উন্নয়ন হয়নি। বৃষ্টির সময় স্কুলের মধ্যে হাঁটুপানি জমে। তখন ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয় না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরের প্রাণকেন্দ্র সদর রোডসংলগ্ন বেনি সিংয়ের হাবেলি এলাকায় বিদ্যালয়ের ছোট্ট জরাজীর্ণ আধা পাকা ঘর। চারদিকে সুউচ্চ আবাসিক ভবন। তাই মূল সড়ক থেকে বিদ্যালয়ের অস্তিত্ব বোঝার উপায় নেই। দুটি আবাসিক ভবনের মাঝখানের সরু পথ দিয়ে বিদ্যালয়ে ঢুকতে হয়। ঘরটিতে তিনটি কক্ষ। দুটিতে চলে পাঠদান। অপরটিতে বসেন শিক্ষকেরা। বর্তমানে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ৫০ জনের মতো। আর শিক্ষক মাত্র তিনজন। তাঁরাই পালা করে পড়ান।
বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নিলুফা পারভীন জানান, কয়েক বছর আগে বিদ্যালয়টির জন্য ৩২ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। কাজ না করায় ওই অর্থ ফেরত যায়। বর্তমানে ৪২ লাখ টাকা বরাদ্দ আছে। কিন্তু বিদ্যালয়ের সম্পত্তি অন্যের দখলে থাকায় ভবন নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই এবারও অর্থ ফেরত যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, পাশে সরকারি জায়গা বিদ্যালয়ের নামে বরাদ্দ দিলে সমস্যার সমাধান সম্ভব।
জেলা প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, পি কে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় দুই দাগে ৭ শতাংশ জমি রয়েছে। এর ৩ শতাংশ জমি দীর্ঘদিন ধরে ইজারা নিয়ে ভোগদখল করছেন এক ব্যক্তি। আশির দশকে ওই ৩ শতাংশ বিদ্যালয়ের নামে ইজারা দেওয়া হয়েছিল। সেই থেকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইজারার টাকা পরিশোধ করছে।
বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র পরিমল রায় বলেন, ‘আমাদের সময় এ স্কুলে অনেক ছাত্রছাত্রী ছিল। এখন সরকারের উচিত স্কুলের পাশের সরকারি জমি স্কুলের নামে বরাদ্দ দিয়ে বহুতল ভবন করা। তাহলেই এর ঐতিহ্য ফিরবে।’

১৬৬ বছরের পুরোনো প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান করুণ অবস্থা
১৬৬ বছরের পুরোনো প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান করুণ অবস্থা


এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু ইউসুফ মো. রেজাউর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের পাশে সরকারি সম্পত্তি থাকলে অগ্রাধিকারভিত্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তা পাবে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ করলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘আমি বিষয়টি জানি না। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেব।’
বরিশাল নগর সৌন্দর্য রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব কাজী এনায়েত হোসেন বলেন, শহরে এখন কোনো টিনের ছাউনির স্কুল নেই। সবগুলো একতলা বা দোতলা।