default-image

নিরীহ পাটকলশ্রমিক জাহালমের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ বিষয়ে রুলের ওপর আগামীকাল বুধবার রায় দেবেন হাইকোর্ট। রায় ঘোষণার জন্য কাল দুপুর ২টায় সময় নির্ধারণ করেছেন উচ্চ আদালত।

অন্যদিকে, বাসের চাপায় পা হারানো রাসেল সরকারের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ বিষয়ে রুল ও রিটের ওপর রায়ের জন্য বৃহস্পতিবার দিন রেখেছেন আদালত।

বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার রায়ের এই সময় নির্ধারণ করেন।

বিজ্ঞাপন

জাহালমের কারাভোগ ও ক্ষতিপূরণ প্রশ্নে হাইকোর্টের আগে দেওয়া স্বতঃপ্রণোদিত রুল রায় প্রদানের জন্য আজকের কার্যতালিকার ১ নম্বর ক্রমিকে ছিল। রাসেল সরকারের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ নিয়ে করা রিটটি রায় প্রদানের জন্য ছিল ৫ নম্বর ক্রমিকে।

আজ আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে পক্ষগুলোর বক্তব্য শুনে রায়ের দিন ও সময় নির্ধারণ করেন হাইকোর্ট।

আদালতে জাহালমের মামলায় দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

সোনালী ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শেখ জাকির হোসেন। ব্র্যাক ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আনিসুল হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এম সাইফুল আলম।

অন্যদিকে, রাসেল সরকারের মামলায় গ্রিনলাইন পরিবহনের পক্ষে শুনানিতে যুক্ত হন আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক।

বিজ্ঞাপন

‘৩৩ মামলায় “ভুল” আসামি জেলে: “স্যার, আমি জাহালম, সালেক না…”’ শিরোনামে গত বছরের ২৮ জানুয়ারি প্রথম আলোতে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি নজরে আনা হলে হাইকোর্টের ওই বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত রুলসহ আদেশ দেন। রুলে সোনালী ব্যাংকের ১৮ কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে দুদকের করা ৩৩ মামলায় তিন বছর ধরে কারাগারে থাকা নিরপরাধ জাহালমকে মুক্তি দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নিষ্ক্রিয়তা বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। জাহালমকে ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা-ও রুলে জানতে চাওয়া হয়। আদালতের নির্দেশে গত বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি কারাগার থেকে মুক্তি পান জাহালম। এরপর গত ১২ ফেব্রুয়ারি রুলের ওপর শুনানি শেষ হয়।

২০১৮ সালের ২৮ এপ্রিল মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে গ্রিনলাইন পরিবহনের একটি বাস চাপা দিলে পা হারান রাসেল। এ ঘটনায় কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী উম্মে কুলসুম রিট করেন। একই বছরের ১৪ মে হাইকোর্টের দেওয়া রুলে রাসেলকে কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। গত ৫ মার্চ রুলের ওপর শুনানি শেষ হয়। সেদিন আদালত ১৫ এপ্রিল রায়ের জন্য দিন রাখেন।

তবে মহামারির কারণে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির সঙ্গে মিল রেখে আদালতে ছুটি চলে। পরে হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চটি পুনর্গঠন করা হয় ও বিচারিক এখতিয়ার পরিবর্তন করা হয়। ফলে আর রায় হয়নি। পরে প্রধান বিচারপতি তিনের জন্য দ্বৈত বেঞ্চটি গঠন করে দেন।

মন্তব্য পড়ুন 0