জুমভূমি ও জুমচাষ ব্যবস্থাপনা তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে হস্তান্তর

১৯০০ সালের পার্বত্য শাসনবিধি সংশোধন করে জুমভূমি ও জুমচাষ ব্যবস্থাপনা তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে হস্তান্তর করা হয়েছে। এখন থেকে জুমের খাজনা বা রাজস্বের সরকারি অংশ সরাসরি জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিলে জমা হবে। আগে এই রাজস্ব সরকারের কোষাগারে জমা হতো।
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জেলা পরিষদ শাখা সূত্রে জানা যায়, পার্বত্য শাসনবিধির ৪১ ও ৪২ ধারা অনুযায়ী জুমভূমি ও খাজনা ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত বিষয়টি জেলা প্রশাসকেরা তত্ত্বাবধান করতেন।
বর্তমানে ওই দুটি ধারা সংশোধন করে ‘জেলা প্রশাসক’-এর পরিবর্তে ‘জেলা পরিষদ’ শব্দ দুটি প্রতিস্থাপন করা হয়। ফলে রাজস্ব আদায়সহ পুরো জুম ব্যবস্থাপনা এখন জেলা পরিষদের দায়িত্ব।
জানা গেছে, গত ২৫ এপ্রিল পার্বত্য শাসনবিধি সংশোধনের প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
এরপর তা কার্যকর করার জন্য ৪ ডিসেম্বরে পার্বত্য মন্ত্রণালয় থেকে সংশ্লিষ্ট জেলা পরিষদ এবং জেলা প্রশাসকদের পরিপত্র পাঠানো হয়েছে।
পার্বত্য শাসনবিধি অনুযায়ী পাড়ার কার্বারি (পাড়াপ্রধান) ও মৌজার হেডম্যানরা (মৌজাপ্রধান) প্রত্যেক আদিবাসী জুমচাষি পরিবার থেকে ছয় টাকা ৬৫ পয়সা জুম খাজনা আদায় করেন।
রাজপূণ্যাহ উৎসবে রাজা বা চিফকে আনুষ্ঠানিকভাবে ওই খাজনা দেওয়া হয়। শাসনবিধি সংশোধনের আগে খাজনার সরকারি প্রাপ্য অংশ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা নেওয়া হতো।
বান্দরবান হেডম্যান অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক উনিহ্লা মার্মা বলেন, আদায়কৃত খাজনার ৩৭ শতাংশ হেডম্যান, ৪২ শতাংশ রাজা ও ২১ শতাংশ সরকার পেয়ে থাকে। বান্দরবান পার্বত্য জেলায় প্রায় সাড়ে ১১ হাজার আদিবাসী পরিবার জুমচাষ করে।
বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা মারমা বলেন, বান্দরবানে ১৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত রাজপূণ্যাহ উৎসবে আদায়কৃত জুম খাজনার সরকারি প্রাপ্য অংশ জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিলে নেওয়া হবে। জুমসংক্রান্ত নথিপত্র ও তথ্য সংরক্ষণ এবং জুমচাষ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বও এখন থেকে জেলা পরিষদের কাছে ন্যস্ত হলো।