টানা বর্ষণে তরমুজ, পাকা ধান ও পাটের চারার ক্ষতি

বৃষ্টিতে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় খেতে পানি জমে পচে গেছে অনেক তরমুজ। তরমুজগাছও মরে যাচ্ছে। ছবিটি গত শনিবার হিজলবাড়ী এলাকা থেকে তোলা l প্রথম আলো
বৃষ্টিতে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় খেতে পানি জমে পচে গেছে অনেক তরমুজ। তরমুজগাছও মরে যাচ্ছে। ছবিটি গত শনিবার হিজলবাড়ী এলাকা থেকে তোলা l প্রথম আলো

কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টির পানিতে গোপালগঞ্জে তরমুজখেতে বেশ ক্ষতি হয়েছে। শরীয়তপুরে খেতে পানি জমে পচে যাচ্ছে পাটের চারা। আর বাগেরহাটে পাকা বোরো ধান ঘরে তুলতে পারছেন না কৃষকেরা। কাটা ধান খেতে নষ্ট হচ্ছে।
দুই দিনের টানা বর্ষণে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় তরমুজখেতে পানি জমেছে। তরমুজগাছ মরে যাচ্ছে। নষ্ট হয়েছে অনেক তরমুজ। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার মতে, ক্ষতির পরিমাণ দেড় কোটি টাকা। তবে কৃষকদের দাবি, তাঁদের অন্তত তিন কোটি টাকার তরমুজ নষ্ট হয়ে গেছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এ বছর সাড়ে ১ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে কোটালীপাড়ায় তরমুজ চাষ করা হয়েছে ৮১০ হেক্টর জমিতে। উপজেলার কালীগঞ্জ, তেঁতুলবাড়ি, বুরুয়া, হিজলবাড়ি, নলুয়া, চকপুকুরিয়া গ্রাম তরমুজের জন্য বিখ্যাত।
হিজলবাড়ি গ্রামের কৃষক নকুল হালদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রতিবছর আয়ের একটি বড় অংশ আসে তরমুজ বিক্রি করে। এ জন্য ঋণ নিয়ে তরমুজ চাষ করি। কিন্তু বৃষ্টিতে আমার খেত ডুবে গেছে। আমার ঋণ শোধ করতে হলে বাড়িঘর বেচতে হবে।’
কালীগঞ্জ বাজারের আড়তদার দিলীপ হালদার বলেন, ২০ বছর ধরে এই এলাকায় তরমুজের চাষ হচ্ছে। এ তরমুজ বিক্রি করে এলাকাবাসী কোটি কোটি টাকা আয় করে। কিন্তু কয়েক দিনের বৃষ্টিতে কৃষকদের সর্বনাশ হয়ে গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রথীন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, কোটালীপাড়ায় ৮১০ হেক্টর জমির মধ্যে ৩২০ হেক্টর জমির তরমুজখেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃষ্টির আগে কৃষক ৪০ থেকে ৫০ ভাগ ফসল ঘরে তুলতে পেরেছিলেন।
এদিকে শরীয়তপুরে ছয় দিনের টানা বর্ষণে জমিতে পানি জমে পাটের চারা পচে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার থেকে শরীয়তপুরে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি হচ্ছে। এই এলাকায় সর্বোচ্চ ১২ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে।
শরীয়তপুরে ২৮ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করা হয়েছে। বর্তমানে পাটের চারা ছয় ইঞ্চি থেকে দেড় ফুট লম্বা হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে শরীয়তপুরের অধিকাংশ কৃষিজমিতে পানি জমেছে। জমিতে তিন দিন পানি থাকলেই পাটের চারা পচতে থাকে। ইতিমধ্যে অনেক চারা পচতে শুরু করেছে।
সদর উপজেলার আঙ্গারীয়া ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার সিকদার বলেন, এই এলাকার অধিকাংশ জমি নিচু। জমিতে পানি জমে পাটের ভয়াবহ ক্ষতি হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকদের নিয়ে জমি থেকে পানি সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিছু স্থানে জমির পানি সরাতে পাইপের প্রয়োজন, কালভার্ট প্রয়োজন। এসব সহায়তা চেয়ে ইউএনওর কাছে আবেদন করা হয়েছে।
এদিকে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে পাকা বোরো ধান বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। এরই মধ্যে নষ্ট হতে শুরু করেছে। অসময়ে বৃষ্টিতে ফসল ঘরে তুলতে পারছেন না কৃষকেরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্য অনুয়ায়ী, চলতি বছর জেলার নয়টি উপজেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫১ হাজার হেক্টর। তবে চাষ হয়েছে ৫৩ হাজার হেক্টর জমিতে। এখন পর্যন্ত শতকরা ৩৭ ভাগ জমির ধান পুরোপুরি পেকেছে। ১৬ ভাগ জমির ধান কাটা হয়েছে।
গত তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে সদর উপজেলার গোটাপাড়া, কান্দাপাড়া, বেশরগাঁতি, চরগ্রাম, বেমরতা, ফতেপুর, ডেমা, চুলকাঠি, শ্রীঘাট, সিঅ্যান্ডবি বাজার, ষাটগম্বুজসহ বিভিন্ন উপজেলার পাকা বোরো ধানের মাঠ তলিয়ে যায়। তবে জেলায় মোট কী পরিমাণ জমির বোরো ধান নষ্ট হয়েছে, তা নিশ্চিত করতে পারেনি কৃষি বিভাগ।
বাগেরহাট কৃষি বিভাগের উপপরিচালক মো. আবতাব উদ্দিন বলেন, বৃষ্টিতে জেলার কত হেক্টর জমির বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার তালিকা তৈরি করতে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।

{প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা দিয়েছেন ফরিদপুর অফিস, শরীয়তপুর প্রতিনিধি ও বাগেরহাট সংবাদদাতা}