default-image
গণটিকাদানের ৫ দিনের চিত্র
৭ ফেব্রুয়ারি: ৩১,১৬০
৮ ফেব্রুয়ারি: ৪৬,৫০৯
৯ ফেব্রুয়ারি: ১,০১,০৮২
১০ ফেব্রুয়ারি: ১,৫৮,৪৫১
১১ ফেব্রুয়ারি: ২,০৪,৫৪০

প্রতিদিন করোনার টিকা নেওয়া মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। গণটিকাদান শুরু হওয়ার প্রথম পাঁচ দিনে এই প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। এভাবে চলতে থাকলে ঢাকা জেলার জন্য বরাদ্দ প্রথম ডোজের টিকা আগামী ১০ দিনে ফুরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের অনুমান, সারা দেশে ১৫ দিনের মধ্যে প্রথম ডোজ টিকা দেওয়া শেষ হতে পারে।

তবে কিছু জেলা টিকাদানের ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে। যেসব জেলায় বরাদ্দ টিকার তুলনায় টিকা দেওয়ার পরিমাণ কম সেসব জেলা থেকে টিকা অন্য জেলায় নেওয়া হবে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা প্রথম আলোকে বলেছেন।  

বিজ্ঞাপন

সম্প্রসারিত টিকা দান কর্মসূচির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঢাকা মহানগরসহ ঢাকা জেলার জন্য ৬ লাখ ৪৮ হাজার টিকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ পর্যন্ত মহানগরসহ ঢাকা জেলায় মোট ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯৮৯ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট আছে ৫ লাখ ৮ হাজার ১১টি টিকা। সর্বশেষ দিনে অর্থাৎ ১১ ফেব্রুয়ারি টিকা নিয়েছিলেন ৫১ হাজার ১৫৯ জন। টিকা দেওয়ার বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে অবশিষ্ট টিকা ১০ দিনে শেষ হতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোভিড-১৯–বিষয়ক মিডিয়া সেলের প্রধান ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা গতকাল শুক্রবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত এক সপ্তাহে টিকার ব্যাপারে মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ করা গেছে। মানুষের মধ্যে টিকা নিয়ে ভয় বা দ্বিধা লক্ষ করা যাচ্ছে না। বেশি মানুষ টিকা নিতে চাচ্ছেন।’

কেন্দ্র হিসেবে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি টিকা দেওয়া হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের টিকাদান কেন্দ্রে। মোট ৬ হাজার ৪৪৪ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন এই কেন্দ্রে ব্যাপক ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কনক কান্তি বড়ুয়া গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের কেন্দ্রের জন্য বরাদ্দ ছিল ২০ হাজার টিকা। আরও ১০ হাজার টিকা বাড়ানো হয়েছে।’

সরকারের হাতে ছিল ৭০ লাখ টিকা। এই টিকা দুই ডোজ করে ৩৫ লাখ মানুষকে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সরকারি কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সারা দেশে প্রথম ডোজ টিকা দেওয়া শেষ হবে।

সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিদিনের টিকাদানের সংখ্যা ও প্রবণতার ওপর নজর রাখছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অধিদপ্তর দেখেছে কিছু জেলায় টিকাদানের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম। উদাহরণ হিসেবে ময়মনসিংহ জেলার নাম এসেছে। এ জেলায় ৩ লাখ ২৪ হাজার টিকা পাঠানো হয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের পর এই জেলায় বেশি টিকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত এই জেলায় টিকা নিয়েছেন ১৪ হাজার ৩৩৩ জন।

ময়মনসিংহ জেলার সিভিল সার্জন এ বি এম মসিউল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘টিকাদান বাড়াতে মানুষজনকে সচেতন করার বিষয়ে আরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

শহরের তিনটি কেন্দ্রে বুথের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি দুটি নতুন কেন্দ্র খোলা হবে।’ এই সিভিল সার্জন আরও জানিয়েছেন, এই জেলার টিকা অন্য জেলায় পুনর্বণ্টন করার জন্য তিনি তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছেন।

৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ব্যাপকভাবে প্রথম ডোজের টিকা দেওয়া শুরু হয়। ৮ মার্চ থেকে দ্বিতীয় ডোজের টিকা দেওয়ার কথা।
নিবন্ধন চলতে থাকবে

টিকা নেওয়ার পাশাপাশি টিকার জন্য নিবন্ধনের পরিমাণও বাড়ছে। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৩ লাখ ৬৮ হাজার ৫৭১ জনের নিবন্ধন হয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম থেকে জানানো হয়েছে। ২৭ জানুয়ারি থেকে মানুষ সুরক্ষা ওয়েবসাইটে নিবন্ধন শুরু করেন। গত দুই দিনে দৈনিক দুই লাখের বেশি মানুষ নিবন্ধন করেছেন।

৩৫ লাখ মানুষের প্রথম ডোজ টিকা দেওয়া শেষ হওয়ার পরও নিবন্ধন চলতে থাকবে বলে জানিয়েছেন

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোভিড-১৯–বিষয়ক মিডিয়া সেলের প্রধান নাসিমা সুলতানা। তিনি বলেন, ‘৭০ লাখ টিকা দেওয়ার পর আরও টিকা আসবে। সেই টিকার জন্যও একই ধরনের ব্যবস্থাপনা থাকবে। নিবন্ধন ছাড়া কেউ টিকা পাবেন না। সুতরাং নিবন্ধন চলতেই থাকবে।’

বিজ্ঞাপন

সরকার নিবন্ধন বাড়ানোর জন্য কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তাৎক্ষণিক নিবন্ধনের কথা বলেছিল। এ ঘোষণার পর বিভিন্ন কেন্দ্রে হঠাৎ টিকা গ্রহণে আগ্রহীদের ভিড় বেড়ে যায়।

অনেক কেন্দ্রে বিশৃঙ্খল দেখা দেয়। হঠাৎ করেই গত বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তাৎক্ষণিক নিবন্ধন করা যাবে না বলে ঘোষণা দেন। গতকাল সরকার সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়ে একই কথা বলেছে।
টিকার দ্বিতীয় চালান

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে অক্সফোর্ডের টিকার দ্বিতীয় চালান এ মাসে আসার কথা। এই টিকা সরবরাহের দায়িত্বে আছে বেক্সিমকো ফার্মা। তিন কোটি টিকা কেনা নিয়ে সরকার, সেরাম ইনস্টিটিউট ও বেক্সিমকোর মধ্যে চুক্তি আছে। সেই চুক্তি অনুযায়ী প্রতি মাসে ৫০ লাখ টিকা আসার কথা। প্রথম চালানে ৫০ লাখ টিকা এসেছিলে ২৫ জানুয়ারি। সেই টিকা বেক্সিমকো দেশের সব জেলার সিভিল সার্জনদের কাছে পৌঁছে দেয়।

তিন দিন আগে বেক্সিমকো ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ২১ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি মধ্যে দ্বিতীয় চালানের ৫০ লাখ টিকা আনার প্রস্তুতি আছে। এ সময়ের মধ্যে টিকা আনতে হলে ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সেরাম ইনস্টিটিউটকে জানাতে হবে।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা প্রথম আলোকে বলেন, ‘সবকিছু চুক্তি অনুযায়ী হবে, এটাই আমরা আশা করি।’
[প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ]

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন