বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গবেষকেরা চট্টগ্রাম ও চাঁদপুরের অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা গ্রহণকারী ও টিকা গ্রহণ না করা কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের তুলনামূলক স্বাস্থ্যঝুঁকির চিত্র তুলে ধরেন।

সিভাসু ও চাঁদপুরের কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ পরীক্ষাগারে ২২ এপ্রিল থেকে ২২ জুন ১২ হাজার ৯৩৬ ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ২ হাজার ১৩৭ (১৬ দশমিক ৫ শতাংশ) জনের করোনা শনাক্ত হয়। তাঁদের মধ্যে ১ হাজার ৯৫ জনের স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট তথ্য ও উপাত্ত সম্পূর্ণরূপে পর্যবেক্ষণ করে গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

টিকা নেওয়া রোগী আমরা পেয়েছি। তবে তাঁদের স্বাস্থ্য সমস্যা তুলনামূলক কম। এই ধরনের গবেষণা যত হবে ততই ভালো। তাতে টিকার প্রতি মানুষকে আকৃষ্ট করা যাবে।
মো. আবদুর রব , চিকিৎসক, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল

গবেষণায় দেখা যায়, আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৯৬৮ জন টিকার কোনো ডোজ গ্রহণ করেননি। অন্যদিকে আক্রান্ত ৬৩ জন কেবল প্রথম ডোজ টিকা গ্রহণ করেছেন। আবার ৬৪ জন দুটি ডোজ টিকা নিয়েছেন। আক্রান্তের হার মোট নমুনা পরীক্ষার যথাক্রমে দশমিক ৪৮ এবং দশমিক ৪৯ শতাংশ।

উপাচার্য গৌতম বুদ্ধ দাশ বলেন, গবেষণাটি দুই মাস ধরে করা হয়েছে। আগেই প্রথম ডোজের পর যাঁরা আক্রান্ত, তাঁদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কম থাকার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছিল। এরপর দ্বিতীয় ডোজের পর আক্রান্ত ব্যক্তিদের ওপরও তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হয়। তাতে দেখা যায়, টিকা নিলে করোনা মোকাবিলা সহজতর। তাই টিকার বিকল্প নেই।

টিকা না নেওয়া কোভিড-১৯ রোগী, যাঁরা আগে থেকে দীর্ঘমেয়াদি রোগে (কো-মরবিডিটি) ভুগছিলেন, তাঁদের মধ্যে করোনার সংক্রমণের হার ছিল ৭৬ দশমিক ৭ শতাংশ। টিকা গ্রহণকারী দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভোগাদের ক্ষেত্রে সংক্রমণ ছিল ১২ শতাংশের।

গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, কোভিড-১৯ টিকা না নেওয়া রোগীদের মধ্যে ১৩৭ জনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন হয়। অথচ প্রথম ডোজের পর আক্রান্ত সাতজন এবং দুই ডোজের পর আক্রান্ত তিনজনকে হাসপাতালে যেতে হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি টিকা না নেওয়া ৮৩ জনের শ্বাসকষ্ট দেখা যায়। এর মধ্যে ৭৯ জনের অতিরিক্ত অক্সিজেন সহায়তার প্রয়োজন হয়। শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে অক্সিজেন স্যাচুরেশনের মাত্রা সর্বনিম্ন ৭০ শতাংশ পাওয়া যায়।

অন্যদিকে টিকা গ্রহণকারী রোগীদের অক্সিজেন স্যাচুরেশন স্বাভাবিক (৯৬ দশমিক ৭ শতাংশ) পাওয়া যায়। টিকা না নেওয়া সাতজনের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) সেবার প্রয়োজন হয়। অপর দিকে টিকা গ্রহণকারী রোগীদের আইসিইউ সেবার প্রয়োজন হয়নি। টিকা না নেওয়া রোগীদের মধ্যে শ্বাসকষ্টের সময়কাল সর্বোচ্চ ২০ দিন পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হয়েছে। টিকা না নেওয়া সর্বমোট ১০ জন কোভিডে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। টিকা গ্রহণকারীদের মধ্যে যাঁরা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে কেউ মারা যাননি।

গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, কোভিড-১৯ টিকা না নেওয়া রোগীদের মধ্যে ১৩৭ জনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন হয়। অথচ প্রথম ডোজের পর আক্রান্ত সাতজন এবং দুই ডোজের পর আক্রান্ত তিনজনকে হাসপাতালে যেতে হয়েছে।

টিকা না নেওয়া কোভিড-১৯ রোগী, যাঁরা আগে থেকে দীর্ঘমেয়াদি রোগে (কো-মরবিডিটি) ভুগছিলেন, তাঁদের মধ্যে করোনার সংক্রমণের হার ছিল ৭৬ দশমিক ৭ শতাংশ। টিকা গ্রহণকারী দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভোগাদের ক্ষেত্রে সংক্রমণ ছিল ১২ শতাংশের।

গবেষকদের মতে বড় জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় আনা গেলে করোনার প্রকোপ ও তীব্রতা কমে আসবে। জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের কোভিড-১৯ বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মো. আবদুর রব বলেন, ‘টিকা নেওয়া রোগী আমরা পেয়েছি। তবে তাঁদের স্বাস্থ্য সমস্যা তুলনামূলক কম। এই ধরনের গবেষণা যত হবে ততই ভালো। তাতে টিকার প্রতি মানুষকে আকৃষ্ট করা যাবে।’

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন