default-image

রক্তদাতার খোঁজে রোগীর স্বজনদের হন্যে হয়ে কতই-না ছোটাছুটি করতে হয়। কিন্তু কেউ যদি নিজেই রক্তদানের জন্য প্রস্তুত থাকেন, তাহলে বিপদের মুহূর্তে বিরাট উপকার হয়। মাথা থেকে দুশ্চিন্তা অনেকটাই নেমে যায়। এই দুশ্চিন্তা লাঘবে ওয়েবসাইট, ফেসবুক, কলসেন্টার ও পরিচিতজনদের মাধ্যমে স্বেচ্ছায় রক্তদানে প্রস্তুত ব্যক্তিদের সঙ্গে রোগীর স্বজনদের সেতুবন্ধনে কাজ করছে তরুণদের একটি দল।

তরুণ দলটির এই কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সুব্রত দেব। তিনি বেসরকারি একটি আইটি ফার্মে কর্মরত।

সুব্রত জানালেন, ছাত্রজীবনে একবার স্বেচ্ছায় রক্ত দিতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ওজন কম হওয়ায় তাঁর রক্ত নেওয়া হয়নি। তাই তিনি বিকল্প উপায়ে রক্তদানের কাজে যুক্ত হওয়ার চিন্তা করেন। ২০১৩ সালে একটি ওয়েবসাইট (www.donatebloodbd.com) চালু করেন। স্বেচ্ছায় রক্তদানে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের এই ওয়েবসাইটে বিস্তারিত তথ্যসহ নাম নিবন্ধনের সুবিধা রাখা হয়। তারপর নিবন্ধনকারীদের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে।

সুব্রত বলেন, ওয়েবসাইটে গিয়ে রক্তদাতার খোঁজ না পেলে ‘রক্তদানের অপেক্ষায় বাংলাদেশ’ নামের তাঁদের পরিচালিত ফেসবুক গ্রুপের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। রক্তদাতার সঙ্গে যোগাযোগের পর তাঁরা সরাসরি চলে যাবেন সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল বা ক্লিনিকে। আর পুরো কাজটিই হবে বিনা মূল্যে।

ওয়েবসাইট বা ফেসবুক—কোথাও রক্তদাতা পাওয়া না গেলে হতাশ হওয়ার কিছু নেই বলে জানালেন সুব্রত।

কী সেই ব্যবস্থা?

সুব্রত বললেন, ওয়েবসাইট বা ফেসবুকে রক্তদাতা খুঁজে পেতে ব্যর্থ হলে আছে কলসেন্টার। রাজধানীর পুরান ঢাকায় নিজেদের বাসায় বসে নজরুল ইসলাম ও আফসানা নাজনীন দম্পতি রক্তদানের এই কলসেন্টারটি পরিচালনা করেন।

জানা গেল, রক্তদাতার সন্ধান পেতে রোববার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা-রাত ১২টা এবং শনিবার দুপুর ১২টা-রাত ৮টা পর্যন্ত এই কলসেন্টারে ফোন দেওয়া যায়। শুক্রবার কলসেন্টার বন্ধ থাকে। কলসেন্টারের ফোন নম্বর: ০১৭৫৬৯৬৩৩০৮ অথবা ০১৭৪৮৩০৬০২৭।

সুব্রত জানালেন, গত বছরের ১৪ এপ্রিল (পয়লা বৈশাখ) কলসেন্টারটি চালু হয়। গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই কলসেন্টার থেকে ১ হাজার ৯৮ জন রক্তদাতার সন্ধান দেওয়া হয়েছে।

কলসেন্টারের আফসানা জানালেন, প্রতিদিন প্রায় ২৫-৩০ জন রক্ত চেয়ে ফোন করেন। রক্তদাতা খুঁজে দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়। অবলম্বন করা হয় সতর্কতা।

নজরুল-নাজনীন দম্পতির ভাষ্য, অনেক সময় রক্তদাতার খোঁজ দিতে পেরে আনন্দে তাঁদের চোখে পানি চলে আসে। রোগী বা তাঁদের স্বজনেরা পরে ফোন দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁদের দেখতে চান। বাসায় দাওয়াতও দেন।

সুব্রত বললেন, সেবামূলক এই কাজে তাঁকে তাঁর মা-বাবা উৎসাহ দেন। কাজটা খুব সহজ নয়। ঝক্কিঝামেলা আছে। আছে খরচাপাতি। তিনি নিজে খরচ বহন করেন। পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবও সহযোগিতা করেন।

রক্তদাতাদের খোঁজে অনলাইনের পাশাপাশি এবার অফলাইনের সরব হচ্ছেন সুব্রত ও তাঁর দল। সুব্রত জানালেন, আজ শুক্রবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় রক্তদানের প্রয়োজনীয়তার পোস্টার লাগানো হবে। মানুষকে স্বেচ্ছায় রক্তদানের জন্য আহ্বান জানানো হবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0