উত্তর শাহজাহানপুরের বাসিন্দা ৯৩ বছর বয়সী নুরুল হক পাটোয়ারী। তাঁর স্ত্রী রোকেয়া বেগমের বয়স ৭৫ বছর। ৮ ফেব্রুয়ারি এই বয়োজ্যেষ্ঠ দম্পতি রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনার টিকা নেন। তাঁরা দুজনই ডায়াবেটিক রোগী। তাঁদের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়নি।

default-image


বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলছেন, করোনার টিকা নিতে ডায়াবেটিক রোগীদের তেমন জটিলতা হওয়ার সম্ভাবনা কম। যেকোনো ডায়াবেটিক রোগী টিকা নিতে পারবেন। তবে টিকা নেওয়ার আগে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকাটা জরুরি। টিকা নেওয়ার পর কারও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলেও হতে পারে।  

দেশে এ পর্যন্ত কতজন ডায়াবেটিক রোগী করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন, তার সুনির্দিষ্ট হিসাব নেই। তবে বারডেম হাসপাতালের চিকিৎসকেরা বলছেন, সাধারণ মানুষের তুলনায় ডায়াবেটিক রোগীদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। আক্রান্ত হলে বড় ধরনের শারীরিক জটিলতায় পড়ার সম্ভাবনা বেশি। ডায়াবেটিক রোগীদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক কম থাকায় মৃত্যুঝুঁকিও বেশি থাকে।
আজ রোববার ডায়াবেটিস সচেতনতা দিবস। ১৯৫৬ সালের এই দিনে জাতীয় অধ্যাপক মোহাম্মদ ইব্রাহিমসহ কয়েকজন সমাজসেবক বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি গঠন করেন। সমিতি প্রতিবছর বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করে। এবারের প্রতিপাদ্য, ‘কোভিড ও ডায়াবেটিস প্রতিরোধে বাঁচবে জীবন’।

বিজ্ঞাপন

বারডেম জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, করোনা সংক্রমণের আগে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার রোগী হাসপাতালটির বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিত। করোনা মহামারির পর থেকে সংখ্যাটা কমে আসে। হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে যাঁদের ডায়াবেটিস ছিল, তাঁদের রক্তে সুগারের মাত্রা বাড়তি দেখা গেছে। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস থাকলে শারীরিক অবস্থার অবনতি খুব দ্রুত হয়। সেরে ওঠার বিপরীতে তাঁরা আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন।

বারডেম জেনারেল হাসপাতালের ডায়াবেটিস ও হরমোন বিভাগের অধ্যাপক মো. ফারুক পাঠান প্রথম আলোকে বলেন, টিকার ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গোষ্ঠী হচ্ছে ডায়াবেটিক রোগীরা। তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা নিতে হবে। টিকার কারণে ডায়াবেটিক রোগীদের আলাদা কোনো জটিলতা দেখা দেয় না।
বিশ্বে সাড়ে ৪৬ কোটি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশন (আইডিএফ) বলছে, বাংলাদেশে ডায়াবেটিক রোগী আছে ৮৪ লাখ। ২০৪৫ সাল নাগাদ তা বেড়ে হবে দেড় কোটি।

বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি হাসপাতাল বলছে, তাদের নিবন্ধিত রোগীর সংখ্যা ৬ লাখ ৪০ হাজার। সারা দেশে এই সমিতির অধিভুক্ত ১১৪টি সমিতি, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র আছে। এগুলোতে নিবন্ধিত ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যা ৪৫ লাখ। তা ছাড়া অনেকে আছে, যারা জানে না তারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কি না।

করোনায় আক্রান্ত হলে ডায়াবেটিস হতে পারে

চিকিৎসকেরা বলছেন, ডায়াবেটিক রোগী করোনায় আক্রান্ত হলে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে ইনসুলিন তৈরি করে এমন জীবকোষকে আক্রমণ করতে পারে। পাশাপাশি ওই ব্যক্তির ইনসুলিন উৎপাদন কমে যেতে পারে। আবার যেটুকু ইনসুলিন শরীরে উৎপাদিত হয়, সেটুকুর কার্যক্ষমতাও কমে আসতে পারে। ফলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা পড়ে যায়, রোগীর শরীর আরও খারাপ হতে থাকে। যাদের ডায়াবেটিস আছে, তারা যেমন ঝুঁকিতে, তেমনি যাদের শরীরের সুগার ডায়াবেটিস হওয়ার কাছাকাছি, তাদের করোনা হলে ডায়াবেটিস রোগও হয়ে যেতে পারে।

বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ কে আজাদ খান বলেন, ডায়াবেটিক রোগী করোনায় আক্রান্ত হলে অন্যদের তুলনায় বেশি শারীরিক সমস্যায় পড়ে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। করোনা প্রতিরোধের নিয়মকানুন ডায়াবেটিক রোগীদের বিশেষভাবে পালন করা উচিত। করোনার কারণে মানুষের মানসিক চাপ, খাদ্যাভাসের পরিবর্তন ও অপর্যাপ্ত কায়িক পরিশ্রম হয়েছে, যা রক্তের শর্করা আরও অনিয়ন্ত্রিত করে ফেলে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন