default-image

দেশে ডায়াবেটিস চিকিৎসায় সপ্তাহে একবার ব্যবহার উপযোগী নতুন এক ওষুধ এসেছে বাজারে। এ ওষুধের মলিকিউলের নাম ‘সিমাগ্লুটাইড’। দেড় এমএল ও তিন এমএল পরিমাপের এই ওষুধের খুচরা দাম পড়বে ১৪ হাজার ২৫৯ টাকা। চিকিৎসকের পরামর্শে এটি ব্যবহার করা যাবে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে এক অনুষ্ঠানে এই ওষুধ বাজারজাত করার কথা জানানো হয়। টাইপ-২ ডায়াবেটিস চিকিৎসায় ওষুধটি বাংলাদেশের বাজারে এনেছে নভো নরডিস্ক।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির (বাডাস) সভাপতি অধ্যাপক এ কে আজাদ খান বলেন, বাংলাদেশে টাইপ–২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত অর্ধেকের বেশি রোগীর ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নেই। তারা গড়ে সাত বছর অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস নিয়ে পরবর্তী চিকিৎসা নেওয়ার পরিবর্তে শুধু ওষুধ খাওয়ার ওপর নির্ভরশীল থাকে। তিনি বলেন, সপ্তাহে একবার সিমাগ্লুটাইড ইনজেকশনের ব্যবহার রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ, শরীরের ওজন কমানো ও হৃদ্‌যন্ত্র ভালো রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে, যা ডায়াবেটিসের মতো জটিল রোগের চিকিৎসায় এক অনন্য সংযোজন।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত উইনি এসট্রাপ পিটারসন বলেন, ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিস ফেডারেশনের হিসাবে, বাংলাদেশের ৫৭ শতাংশ ডায়াবেটিস রোগী তাদের অবস্থার কথা জানে না। ৮৩ লাখ ডায়াবেটিস রোগী আছে বাংলাদেশে। অনিয়ন্ত্রিত ও ডায়াবেটিস নিয়ে সচেতনতার অভাবে রোগীরা স্বাস্থ্যগত সমস্যায় পড়ে এবং নানাভাবে ক্ষতির মুখোমুখি হয়। তিনি বলেন, ডায়াবেটিস রোগের জন্য গবেষণামূলক ও উদ্ভাবনী ওষুধ আনতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে নভো নরডিস্ক। বাংলাদেশের ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভালো মানের চিকিৎসা বাজারে আনার বিষয়টি সন্তোষজনক। টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে এ দেশের মানুষকে এটি আরও এগিয়ে নেবে।

ডায়াবেটিক সমিতির মহাসচিব মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন বলেন, সচেতন না হলে ডায়াবেটিস রোগ ভালো হয় না। পাশাপাশি ওষুধও প্রয়োজন।

অনুষ্ঠান থেকে বলা হয়, ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনায় পরিমিত খাদ্য ও নিয়মিত শারীরিক অনুশীলনের পাশাপাশি সিমাগ্লুটাইড ইনজেকশনটি অন্যান্য ওষুধের সঙ্গে নেওয়া যাবে। টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত প্রায় ১০ হাজার রোগীর ওপর ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পর দেশের বাজারে সিমাগ্লুটাইড আনা হয়েছে। এসব ট্রায়ালে ফলাফলে দেখা গেছে, ডায়াবেটিস চিকিৎসায় অন্যান্য ওষুধের তুলনায় সিমাগ্লুটাইড আরও কার্যকরভাবে রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে আনে এবং শরীরে ওজন কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি এটি হৃদ্‌যন্ত্রের জন্যও উপকারী।

২০১২ সাল থেকে নভো নরডিস্কের প্রযুক্তি ব্যবহার করে ‘হিউম্যান ইনসুলিন’ উৎপাদন করছে ট্রান্সকম গ্রুপের এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস। ট্রান্সকম ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড বাংলাদেশে নভো নরডিস্কের একমাত্র পরিবেশক।

অনুষ্ঠানে নভো নরডিস্কের পরিচালক (মেডিকেল অ্যান্ড কোয়ালিটি) মাহবুবুর রহমান, পরিচালক (বিজনেস ইউনিট জিএলপি-ওয়ান অ্যান্ড ওবেসিটি) কামাল হোসেন, পাবলিক অ্যাফেয়ার্স ম্যানেজার গাজী তাওহীদ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন