default-image

দেশে অনলাইন ও অফলাইনে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে। এগুলো প্রতিরোধ করা প্রয়োজন। তবে আইন করার আগে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও বিদ্বেষী মনোভাবের পার্থক্য বুঝতে হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো আইন নয়, এমন আইন করতে হবে, যা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে।

রাজধানীর একটি হোটেলে আজ শনিবার আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) সহায়তায় ‘বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, ভুল বা অসত্য তথ্য প্রতিরোধ এবং তথ্যপ্রাপ্তি জোরদারকরণ’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে বেসরকারি উন্নয়ন গবেষণা সংগঠন ‘ভয়েস’।

আলোচনা সভায় প্যানেল আলোচক ছিলেন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের (আরএসএফ) বাংলাদেশ প্রতিনিধি সেলিম সামাদ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করা যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন আর্টিকেল–নাইনটিন–এর ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন মনিটরিং অফিসার মারিয়া সালাম, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক সাইমুম রেজা তালুকদার, চলচ্চিত্র নির্মাতা গোলাম রব্বানি প্রমুখ। ভয়েস–এর নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ আলোচনা সভাটি পরিচালনা করেন।

বিজ্ঞাপন

ঘৃণা ও বিদ্বেষপ্রসূত বক্তব্য এবং ভুল তথ্যের উদাহরণ দিতে গিয়ে বক্তারা কক্সবাজারের রামুতে ২০১২ সালের ঘটনার পাশাপাশি ভোলার বোরহানউদ্দিনে ফেসবুকে পোস্টের কারণে সংঘর্ষে চারজন নিহত হওয়ার ঘটনার উল্লেখ করেন। তাঁরা বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত এবং ভুল তথ্য ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রতিরোধে ইন্টারনেটের দায়িত্বশীল ব্যবহার করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে জনগণের তথ্যপ্রাপ্তির বিষয়টিতে গুরুত্ব দিতে হবে।

সাংবাদিক সেলিম সামাদ বলেন, মতপ্রকাশ এবং অন্যের মতামতকে শ্রদ্ধা করার চর্চাটা অনেক সময় পরিবার থেকেই গড়ে ওঠে না। কেননা, পরিবারে বাবার মতামতেই অনেক সময় সব হয়ে যায়। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি এ বছর। এই দেশেই এমন একটি আইন হয়েছে, যা জনগণকে নয়, সরকারকে সুরক্ষা দেবে।

প্যানেল আলোচনায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সাইমুম রেজা তালুকদার বলেন, দেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নামে একটি আইন রয়েছে। এতে অনেক কিছু গুলিয়ে ফেলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নয়, ডিজিটাল মাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিতকারী আইন চাই।’

চলচ্চিত্র নির্মাতা গোলাম রব্বানি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন থেকে গেলে আজ যাঁরা এর অপপ্রয়োগ করছেন, ২০ বছর পর তাঁরাই ভুক্তভোগী হতে পারেন।

আর্টিকেল–১৯–এর মারিয়াম সালাম বলেন, দেশের এই অবস্থা এক দিনে হয়নি। এর পরিবর্তনও এক দিনে সম্ভব নয়। তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমগুলো অনলাইনে সবার আগে সংবাদ প্রকাশের অসুস্থ প্রতিযোগিতার কারণে অনেক সময় ভুল বা অসত্য তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমগুলোকে আরও সংবেদনশীল আচরণ করতে হবে।

ভয়েসের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য আছে, যা অনেকেই বুঝতে ভুল করে। এই অবস্থায় কঠোর নিয়মকানুনের চেয়ে সামাজিক মাধ্যম বা ইন্টারনেটের দায়িত্বশীল ব্যবহার বেশি কার্যকর।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন