সমাপনী সেশনে ইউএসএআইডি মিশন ডিরেক্টর ক্যাথরিন স্টিভেনস বলেন, ‘আমরা ডব্লিউজেএনবির মতো বিভিন্ন সংগঠনকে লিঙ্গবৈষম্য প্রতিরোধে কাজ করতে দেখে আশাবাদী। সবাই একসঙ্গে কাজ করলেই আমাদের মা, বোন, মেয়েসহ প্রত্যেক নারী ও মেয়েশিশু সমান সুযোগ পেয়ে বেড়ে উঠবে এবং সমৃদ্ধ জীবন গড়তে পারবে।’ কোভিড বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, করোনাকালে বিশ্বজুড়েই নারীর প্রতি সহিংসতা ও বৈষম্য বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সবাইকে সহিংসতামুক্ত ও সমতার সমাজগঠনে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

প্রশিক্ষণ সেশনে গ্লোবাল ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম নেটওয়ার্কের সম্পাদক মিরাজ আহমেদ চৌধুরী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস ডিজিটাল নিরাপত্তা, তথ্য সুরক্ষা, ফ্যাক্ট চেকিং ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনায় উঠে আসে মিডিয়া ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃত্বে নারীর ক্ষমতায়ন, নারী সাংবাদিকদের চ্যালেঞ্জ ও তা উত্তরণে করণীয়সহ দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নেটওয়ার্কিংয়ের বিষয়ও।

মিরাজ আহমেদ চৌধুরী বলেন, ডিজিটাল মাধ্যমে নারীরা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। তাই নারী সাংবাদিকদের জানতে হবে তাঁদের ডিভাইস কীভাবে নিরাপদ রাখা যায়। সংবাদের সূত্রের সঙ্গে তথ্য আদান–প্রদান, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, একান্ত ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি, নথিপত্র ডিজিটাল মাধ্যমে সুরক্ষিত রাখতে হবে। যেন কেউ কখনো তা ব্যবহার করে সাংবাদিককে কখনো বিপদে ফেলতে না পারে। বিভিন্ন পর্যায়ে সুরক্ষা নিশ্চিত করার নানা উপায় আছে, সেগুলো সম্পর্কে জানতে হবে ও তা প্রয়োগ করতে হবে।

জেন্ডারভিত্তিক সংবাদ পরিবেশন বিষয়ে রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, পৃথিবীতে নারী–পুরুষের বাইরেও লিঙ্গবৈচিত্র্য আছে। সেসব মাথায় রেখে সবার জন্য জেন্ডার–সমতা নিশ্চিত করতে কাজ করতে হবে। সংবাদমাধ্যমে নারীবিষয়ক সংবাদের সংখ্যা বাড়াতে হবে। নারী বলতে শুধু নির্যাতনের চিত্র নয়, গুরুত্বপূর্ণ অনেক ইস্যুতে নারী কীভাবে প্রভাবশালীর ভূমিকায় রয়েছেন, সেটাও সংবাদে উঠে আসতে হবে।

ডব্লিউজেএনবির সমন্বয়কারী আঙ্গুর নাহার বলেন, গণমাধ্যমগুলোতে নেতৃত্বের পর্যায়ে নারীর সংখ্যা বাড়াতে প্রতিষ্ঠানগুলোতে সুষ্ঠু ও সমতাভিত্তিক কাজের পরিবেশ তৈরি করতে হবে।