default-image

ঢাকঢোল বাজিয়ে হই-হই করে শুরু হয়ে গেল ১৪২৪ সনের মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের জয়নুল গ্যালারির সামনে ছবি এঁকে প্রস্তুতির উদ্বোধন করেন বরেণ্য শিল্পী রফিকুন নবী। উপস্থিত শিক্ষার্থী আর দর্শকদের মধ্যে বিতরণ করা হলো খই আর বাতাসা।
ক্যানভাসে চওড়া ব্রাশের টানে এক কাক এঁকে আনুষ্ঠানিকতার সূচনা করেন শিল্পী রফিকুন নবী। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন শিল্পী আবুল বারক আলভী, মোস্তাফিজুল হক, আবদুস সাত্তার তৌফিক, বিশ্বজিৎ গোস্বামী ও অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন শিশির ভট্টাচার্য্য। ঢাকঢোলের বাদ্যের সঙ্গে তাঁরা যখন আঁকছিলেন, অনুষদের শিক্ষার্থীরা হর্ষধ্বনিতে মুখর করে তুলছিলেন পরিবেশ।
আঁকা শেষে রফিকুন নবী প্রথম আলোকে বলেন, ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। আমরা চাই সাংস্কৃতিক চর্চার ভেতর দিয়ে মানুষের চিত্ত প্রসারিত হোক। উদার ও মুক্ত চিন্তার প্রসার ঘটুক। সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হলে সারা দেশে এ ধরনের আয়োজন ছড়িয়ে দিতে হবে।’
পয়লা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা এ বছর নতুন তাৎপর্য নিয়ে পথে নামবে। গত বছরের ৩০ নভেম্বর জাতিসংঘের সংস্থা ইউনেসকো মঙ্গল শোভাযাত্রাকে বিশ্বের ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ অব হিউম্যানিটি’র তালিকাভুক্ত করেছে। এর ভেতর দিয়ে বাঙালির বর্ষবরণ উৎসবের এই বর্ণাঢ্য আয়োজনটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছে।
১৯৯৮ সাল থেকে ঢাকায় বৈশাখী উৎসবে চারুকলা অনুষদের আয়োজনে নিয়মিতভাবে মঙ্গল শোভাযাত্রা পথে নামছে। অনুষদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাই এর আয়োজক। পয়লা বৈশাখের মাসখানেক আগে থেকেই শুরু হয় মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতি। বাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকসংস্কৃতির বিভিন্ন উপকরণের সঙ্গে সাম্প্রতিক ঘটনার নানা অনুষঙ্গের সমন্বয়ে হরেক রকম প্রতীক, পুতুল, মুখোশ দিয়ে বর্ণাঢ্যভাবে সাজিয়ে তোলা হয় এই মঙ্গল শোভাযাত্রা। তবে মঙ্গল শোভাযাত্রার ভাবনাটি এসেছিল যশোরের চারুপিঠ নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে। চারুপিঠের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ১৯৮৫ সালে প্রথমবার পয়লা বৈশাখে যশোর শহরে বিভিন্ন লোকশিল্পের উপকরণ নিয়ে একটি আনন্দ শোভাযাত্রার আয়োজন করেন। তাঁরা এখনো প্রতিবছর এই শোভাযাত্রা করছেন।
ঢাকায় এবার মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতির মূল দায়িত্বে থাকছেন চারুকলা অনুষদের ১৮ ও ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। তাঁদের
সমন্বয়ক পলাশ সাহা বললেন, বরাবরের মতোই এবারও শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন মাধ্যমের শিল্পকর্ম করবেন। সুলভ মূল্যে এগুলো বিক্রি করা হবে। এই আয় থেকেই মঙ্গল শোভাযাত্রার খরচ মেটানো হবে। লোকজ আঙ্গিকের টেপা পুতুল, হাতি, ঘোড়া ও মুখোশ থাকবে মিছিলে। তবে প্রধান প্রতীক কী হবে, তা এখনো ঠিক করা হয়নি। মঙ্গল শোভাযাত্রার মূল ভাবনা অচিরেই ঠিক করা হবে। সেই মূল ভাবনার আলোকেই প্রধান প্রধান প্রতীকগুলো তৈরি করা হবে। সেগুলো নিয়ে সব অকল্যাণ, অমঙ্গলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের আহ্বান নিয়ে সাড়ম্বরে ১৪২৪ সনের পয়লা বৈশাখে পথে নামবে জমকালো মঙ্গল শোভাযাত্রা।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন