default-image

বিদেশ যেতে কাউকে বিরত রাখতে যথাযথ আইন বা বিধি প্রণয়নের সময় এসেছে বলে এক রায়ে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। রায়ে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে যতক্ষণ পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট আইন বা বিধি প্রণয়ন না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত অনুসন্ধান ও তদন্ত পর্যায়ে কাউকে বিদেশ যেতে নিষেধ করতে হলে সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে অনুমতি নিতে হবে।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার এ রায় দেন। বিদেশ যেতে বাধা দেওয়ার বৈধতা নিয়ে এক ব্যক্তির করা রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে রুল যথাযথ ঘোষণা করে পর্যবেক্ষণসহ রায় দেওয়া হয়।

পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, অর্থ পাচারসহ দুদক বা অর্থ মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জাতীয় স্বার্থে কোনো ব্যক্তির বিদেশ যেতে নিষেধ করার ক্ষেত্রে যথাযথ আইন বা বিধি প্রণয়নের সময় এসেছে। সুনির্দিষ্ট আইন বা বিধি ছাড়া কাউকে বিদেশ যেতে নিষেধ করা সংবিধান ও আইনসম্মত নয়।

বিজ্ঞাপন

মামলার নথিপত্র থেকে জানা যায়, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান চলমান থাকায় নরসিংদীর আতাউর রহমান যাতে দেশত্যাগ করতে না পারেন, সে জন্য ব্যবস্থা নিতে ইমিগ্রেশন পুলিশ সুপারকে (এয়ারপোর্ট) গত বছরের ২০ ডিসেম্বর দুদক চিঠি দেয়। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ব্যবসায়ী আতাউর চলতি বছর রিট আবেদন করেন। তার প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ৪ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রুল দেন। রিট আবেদনকারীকে বিদেশ যেতে নিষেধাজ্ঞা-সংক্রান্ত ওই চিঠি কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে ওই চিঠি আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হয়।

আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মুন্সী মনিরুজ্জামান, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী আদনান সরকার। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ কে এম ফজলুল হক। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন।

পরে আইনজীবী মুন্সী মনিরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, সংবিধানের ৩৬ অনুচ্ছেদ কোনো ব্যক্তির বিদেশ যেতে বাধা তথা বিধিনিষেধ আরোপ করা সমর্থন করে না। কাউকে বিদেশ যেতে বিধিনিষেধ আরোপ করা যাবে, এমন কোনো আইন বা বিধি নেই। মানি লন্ডারিংসহ অন্যান্য অভিযোগে কাউকে বিদেশ যেতে নিষেধাজ্ঞা দিতে হলে দুদকসহ অন্যান্য তদন্ত সংস্থাকে সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন করতে হবে।যৌক্তিক শুনানি নিয়ে আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে বিদেশ যেতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যাবে বলে রায়ে এসেছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিলের জন্য গত বছরের ২৪ আগস্ট রিট আবেদনকারী মো. আতাউর রহমানকে নোটিশ দিয়েছিল দুদক। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ২২ অক্টোবর তিনি সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন। পরবর্তী সময়ে দুদক অনুসন্ধানের কথা জানিয়ে তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে ওই চিঠি দেয়, যা উচ্চ আদালতে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষিত হলো।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন