default-image

জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমনে গড়ে তোলা পুলিশের বিশেষায়িত অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটকে (এটিইউ) তদন্ত সংস্থার মর্যাদা দিয়ে বিধিমালা জারি করেছে সরকার। গত মঙ্গলবার ‘অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট বিধিমালা-২০১৯’ প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হয়।

এটিইউ বলেছে, বিধিমালা হওয়ায় এটিইউ এখন থেকে আসামি গ্রেপ্তার, মামলার তদন্ত ও হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদসহ ধারাবাহিক অভিযান চালাতে পারবে। এত দিন এটিইউ জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রমের অভিযোগে কাউকে ধরলেও মামলার তদন্ত করতে পারত না। আসামি ধরলেও থানায় হস্তান্তর করা হতো। থানা-পুলিশ বা অন্য সংস্থা মামলার তদন্ত করত।

২০১৭ সালের ২০ সেপ্টেম্বর এটিইউ অনুমোদন দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। এটিইউর কার্যক্রম এখন রাজধানীর বারিধারার বি-ব্লকের ৩৫ নম্বর বাড়ির অস্থায়ী কার্যালয়ে চলছে।

অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পুলিশ সুপার মো. মাহিদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, এটিইউ এখন থেকে ঢাকার বাইরে অভিযান পরিচালনা করতে পারবে। এটিইউ জঙ্গি গ্রেপ্তারের পর থানায় হস্তান্তর করলেও সেই মামলার তদন্ত করতে পারবে তারা। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে ৫৮১ জন জনবল নিয়োগ হয়েছে। আরও নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। এটিইউর প্রধান হিসেবে পুলিশের একজন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক, একজন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি), দুজন অতিরিক্ত ডিআইজি, পাঁচজন পুলিশ সুপার (এসপি), ১০ জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নিয়োগ পেয়েছেন। সহকারী পুলিশ সুপার পদে ১২ জনের মধ্যে কয়েকজনের পদায়ন হয়েছে। ৭৫ জন পরিদর্শক নিয়োগ করা হয়েছে। ১২৫ জন উপপরিদর্শকের মধ্যে এখনো কিছু বাকি আছে। কনস্টেবলসহ অন্যান্য পদেও পুরো নিয়োগ হয়নি।

বিধিমালায় এটিইউর কার্যাবলি নিয়ে বলা হয়েছে, কাউন্টার র‌্যাডিক্যালাইজেশন এবং ডি-রেডিক্যালাইজেশনসহ অন্যান্য কার্যক্রম হাতে নেওয়ার মাধ্যমে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এটিইউ। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধানের অধীনে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার সহায়তায় উগ্রবাদী-সন্ত্রাসীদের ওপর প্রযুক্তিগত গোয়েন্দা নজরদারি করে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা, তাদের কার্যক্রম প্রতিরোধসহ আটকের লক্ষ্যে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারবে এই সংস্থা।

প্রসঙ্গত, জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) কাজ করছে। এটিইউ সূত্র জানায়, এটিইউ সন্ত্রাসী হুমকি মোকাবিলা এবং এর সম্ভাব্য প্রতিকারে পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) নির্দেশনা অনুযায়ী, এ বিষয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময় করবে। উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণ ও প্রতিকারসংক্রান্ত গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা, নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও বিন্যাসের মাধ্যমে ঝুঁকি পর্যালোচনা করে সরকারের কাছে বার্ষিক প্রতিবেদন দিতে হবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন