তামাকজাত পণ্য বিক্রিতে লাইসেন্স নিতে হবে ব্যবসায়ীদের

ঝিনাইদহ পৌরসভায় বিড়ি-সিগারেট, গুল-জর্দাসহ সব ধরনের তামাকজাত পণ্য বিক্রির জন্য ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ছয় মাসের মধ্যে এ নির্দেশনা না মানলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তামাকজাত পণ্য বিক্রি বন্ধ করে দেবে পৌর কর্তৃপক্ষ।

সম্প্রতি পৌরসভার পক্ষ থেকে ‘তামাকজাত দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় লাইসেন্স-বিষয়ক নির্দেশিকা’ প্রকাশ করা হয়েছে।

এতে ৬ নম্বর ক্রমিকে লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২০০ গজের মধ্যে তামাকজাত পণ্য বিক্রয়ের কোনো লাইসেন্স দেওয়া হবে না। বিক্রয়স্থলে তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব-সংক্রান্ত চিত্র প্রদর্শন করতে হবে। অনূর্ধ্ব ১৮ বছরের কোনো শিশু-কিশোরের কাছে তামাকজাত দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে না। তামাকজাত পণ্যের যেকোনো ধরনের বিক্রয়কেন্দ্রে কোনোভাবে কোনো বিক্রয় প্রচারণা করা যাবে না। তামাকজাত দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়সংক্রান্ত ট্রেড লাইসেন্সটির একটি কপি বিক্রয়কেন্দ্রে অবশ্যই দৃশ্যমান অবস্থায় রাখতে হবে। ব্যবসায়ীদের তামাকজাত পণ্যদ্রব্য ক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণে রাখতে হবে এবং পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ওই ভাউচার দেখাতে বাধ্য থাকবেন। একটি লাইসেন্স গ্রহণকারী শুধু একটি জায়গায় ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন, ব্যবসার একাধিক জায়গার জন্য পৃথক লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে।’

এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য পৌরসভা কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে তাদের নিজস্ব আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছে।

এ-সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ এলে ওই কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট দোকান পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেবেন। কোনো বিক্রেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে সাত দিনের মধ্যে পদক্ষেপ নিতে হবে।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ১২ ডিসেম্বর মেয়র সাইদুল করিম এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ইতিমধ্যে পাঁচজন ব্যবসায়ী তামাকজাত দ্রব্য কেনাবেচার লাইসেন্স নিয়েছেন। এই কাজে সহযোগিতা করছে এইড ফাউন্ডেশন নামের একটি সংগঠন।

এ সম্পর্কে মেয়র সাইদুল করিম বলেন, মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর এসব পণ্যের কেনাবেচা কমাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যাঁরা তামাকজাত পণ্য বিক্রির অনুমতি চাইবেন, তাঁদের ক্ষেত্রে বাড়তি কিছু শর্ত দেওয়া হচ্ছে। এতে করে যত্রতত্র কেনাবেচা বন্ধ হবে, কমবে তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহারও।