দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণে নারীদের মৃত্যু বাড়ছে। গত তিন দিনে করোনায় সংক্রমিত হয়ে যত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তার অর্ধেকের বেশি নারী। যদিও সংক্রমণের শুরু থেকে দেশে করোনায় পুরুষের চেয়ে নারীদের মৃত্যু কম ছিল। গত জুন মাস থেকে নারীদের মৃত্যু বাড়ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ তিন দিনে করোনায় সংক্রমিত হয়ে দেশে ২৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১৩৯ জন নারী।
চলতি বছরের ১ মার্চ পর্যন্ত দেশে করোনায় মোট মৃত্যুর ২৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ ছিল নারী। এরপর পরিস্থিতি পাল্টাতে থাকে। সবশেষ (গত বছরের মার্চ থেকে চলতি বছরের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত) তথ্য অনুযায়ী, দেশে করোনায় মৃতদের ৩৫ দশমিক ১৫ শতাংশ নারী।
গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনার সংক্রমণ শনাক্তের খবর জানানো হয়। আর চলতি বছরের মার্চে দেশে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ দেখা দেয়। মূলত দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর নারীদের মধ্যে সংক্রমণ ও মৃত্যু আগের তুলনায় বাড়ছে। এর মধ্যে এ বছরের জুন থেকে করোনার ডেলটা ধরন (ভারতে উৎপত্তি) ছড়িয়ে পড়লে সংক্রমণ ও মৃত্যু ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এ সময় এসে নারীদের মৃত্যু আরও বেড়ে যায়।
দেশে করোনার ডেলটা ধরনের সংক্রমণ শুরুর পর থেকে মৃত্যুর ক্ষেত্রে কিছু বৈশিষ্ট্যগত পরিবর্তন দেখা দেয়। শুরু থেকে ষাটোর্ধ্ব মানুষের মৃত্যু বেশি ছিল। এখনো বেশি মৃত্যু হচ্ছে ষাটোর্ধ্বদের। তবে জুন থেকে অপেক্ষাকৃত কম বয়সীদের মৃত্যু বাড়তে দেখা যাচ্ছে। একইভাবে নারীর মৃত্যুও এ সময়ে এসে আগের চেয়ে বেড়ে যায়। তবে এই পরিবর্তনের সঙ্গে করোনার ডেলটা ধরনের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা নিয়ে সরকারি পর্যায়ে কোনো গবেষণা নেই। যদিও জনস্বাস্থ্যবিদদের অনেকে মনে করেন, ডেলটা ধরনের কারণে এসব পরিবর্তন এসেছে।
শনাক্ত ছাড়াল ১৫ লাখ
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ৩ হাজার ৩৫৭ জনের দেহে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশে মোট নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা ১৫ লাখ ছাড়াল। গতকাল পর্যন্ত দেশে মোট ১৫ লাখ ৬১৮ জনের দেহে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। সর্বশেষ এক লাখ রোগী শনাক্ত হয়েছে গত ১৮ দিনে। এর আগের এক লাখ রোগী শনাক্ত হয়েছিল মাত্র ৯ দিনে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় ৮৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৪৪ জন পুরুষ আর ৪২ জন নারী। এখন পর্যন্ত দেশে করোনায় মোট ২৬ হাজার ১৯৫ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আর এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৪ লাখ ২৫ হাজার ৯৮৫ জন।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় রোগী শনাক্তের হার ১২ শতাংশের নিচে নেমেছে। তবে জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, সংক্রমণ নিম্নমুখী হলেও এখনো স্বস্তির জায়গায় আসেনি। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা না গেলে যেকোনো সময় আবার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।