তিস্তা এক্সপ্রেসের আরও দুটি বগি বাতিল

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী আন্তনগর তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের আরও দুটি বগি বাতিল করা হয়েছে। এতে যাত্রীরা টিকিট না পেয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
জামালপুর রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দেওয়ানগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী আন্তনগর তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) শ্রেণির ৪০ আসনের একটি ও শোভন শ্রেণির ২৪ আসনের আরেকটি বগি বাতিল করা হয়েছে। এর আগে গত ২০ এপ্রিল আন্তনগর তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেসের একটি করে বগি বাতিল করা হয়। এভাবে আন্তনগর তিস্তা ট্রেনের তিনটি বগি বাতিল হওয়ায় ১৩২ আসন কমে গেছে। তিস্তা ট্রেনে জেলার দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর, মেলান্দহ, জামালপুর, নান্দিনা ও পিয়ারপুর স্টেশন থেকে প্রতিদিন রাজধানী ঢাকা ও ময়মনসিংহে প্রায় তিন হাজার যাত্রী যাতায়াত করে থাকেন। এতে বিপাকে পড়েছেন ওই সব যাত্রী।
ঢাকা বিভাগীয় রেলওয়ের ব্যবস্থাপক আরিফুজ্জামান দাবি করেছেন, বগিগুলো ওয়ার্কশপে পাঠানো হয়েছে। কাজ শেষে ঈদের আগে সেগুলো আন্তনগর তিস্তায় সংযোজন করা হবে।
জামালপুর থেকে ঢাকাগামী তিস্তা ট্রেনের এসি বগির যাত্রী জাকির হোসেন বলেন, পাঁচ দিন আগেই ১৮ জুনের টিকিট কেনেন তিনি। কিন্তু ঢাকায় যাওয়ার জন্য স্টেশনে এসে শুনতে পান তাঁর বগিটি বাতিল করা হয়েছে। পরে বাধ্য হয়ে যাত্রা বাতিল করে বাড়ি ফিরে যান। এমন শতাধিক যাত্রীকে ওই দিন বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।
স্টেশনে থাকা কয়েকজন যাত্রী ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, এই অঞ্চলের বেশির ভাগ মানুষ যাতায়াতের ক্ষেত্রে ট্রেনের ওপর নির্ভরশীল। হঠাৎ তিস্তা ট্রেনের তিনটি বগি ও ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগি বাতিল হওয়ায় তাঁদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এদিকে ভুক্তভোগী ট্রেনযাত্রীরা রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত বাতিলকৃত ট্রেনের বগি সংযুক্ত করা এবং আরও বগি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
জামালপুর রেল জংশন উন্নয়ন কমিটির উপদেষ্টা সদস্য এম এ জলিল বলেন, এর আগেও আন্তনগর ট্রেনের দুটি বগি বাতিল করা হয়েছে। নতুন করে তিস্তা ট্রেনের আরও দুটি বগি বাতিল করায় যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। দ্রুত বাতিলকৃত বগি সংযুক্ত করা না হলে সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হবে।
জামালপুরের স্টেশনমাস্টার মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, পর্যায়ক্রমে তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের তিনটি বগি বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে এসি বগিতে জেলার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যাতায়াত করে থাকেন। এতে তিস্তা ট্রেনের ১৩২টি আসন কমে গেছে। এখান থেকে আসনসংখ্যার চেয়ে প্রায় তিন গুণ যাত্রী দাঁড়িয়ে যাতায়াত করে থাকেন। ফলে যাত্রীদের সেবা দিতে তাঁদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে কী কারণে বগিগুলো বাতিল হয়েছে, তা তাঁর জানা নেই।